artk
রোববার, আগষ্ট ১৮, ২০১৯ ৪:১৯   |  ৩,ভাদ্র ১৪২৬

যশোর প্রতিনিধি

শনিবার, জুলাই ১৩, ২০১৯ ১১:০৭

পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করায় হামলা, অভিযোগকারী গুরুতর জখম

media

যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়েবিচারের জন্য আবেদন করায় বাঘারপাড়ার বাসুয়াড়ীর শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহিদ মেম্বারের একান্ত আস্থাভাজন মালেক গোলদারের ছেলে নোয়িম গোলদার ও তার সহযোগীদের হামলায় অভিযোগকারী সফিকুল ইসলাম খোকন গুরুতর জখম হয়েছেন। 

শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় বাঘারপাড়া বাসুয়াড়ী গ্রামের পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মসজিদ থেকে ৫০ গজ দূরে এ ঘটনাটি ঘটলেও মসজিদে আসা মুসল্লিরা নির্বাকার দাঁড়িয়েছিল। সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া ভাব দেখে তাকে কেউ উদ্ধারের এগিয়ে আসেনি। সেখানে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণরত সৈনিকরা মসজিদের নামাজ পড়া রেখে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীরা তাকে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করে। 

জাহিদ মেম্বারের অন্য সহযোগীরা গুরুতর জখম খোকনকে বসুন্দিয়া আলাদীপুর বাজারে (মায়ার বাড়ির সামনে) ভুয়া ডাক্তার ইয়াদের (কথিত ডাক্তার ইয়াদকে ভ্রাম্যমাণ আদালত কয়েকবার জরিমানা করেছিল) ঘরে আটকে রাখে। খবর পেয়ে বাঘারপাড়া থানার ছয় পুলিশ সেখান থেকে সফিকুল ইসলাম খোকনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর জখম সফিকুল ইসলাম খোকন বাসুয়াড়ী গ্রামের মৃত ইয়ার আলীর ছেলে। ঘটনা জানার পর পর যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসিরউদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দ্রুত আসামিদের ধরতে বাঘারপাড়া থানার পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিন। তবে বাঘারপাড়া থানার পুলিশ এখনো কোনো আসামিদের ধরতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন নেতা আসামিদের পক্ষ নিয়ে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছে।

বাঘারপাড়া থানার অফিস ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, “সফিকুল ইসলাম খোকনের ছেলেকে হত্যা চেষ্টার তদন্তভার এএসআই আজিজকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভিকটিম খোকন এএসআই আজিজের অর্থনৈতিক লেনদেন, তদন্তে অনাস্থা জ্ঞাপনসহ এএসআই আজিজ ও সন্ত্রাসী জাহিদ মেম্বার কর্তৃক বাদীকে হুমকি ধামকির বিষয়টি শনিবার পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানান। অভিযোগ জানানোর পাঁচদিন পর ভিকটিমের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটলো। তবে এ হামলার ঘটনায় এএসআই আজিজ সন্ত্রাসীদের কোনোভাবে উৎসাহিত করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

সাবেক মেম্বার আবুবক্কার জানান, সফিকুল ইসলাম যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার ৮ নং বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের কিসমত বাসুয়াড়ী গ্রামের মৃত ইয়ার আলির ছেলে। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ও ক্রয়কৃত মোট ২২ শতক জমির ওপর দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছি। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যেই তিনিই একমাত্র বাড়িটিতে থাকেন। স্থানীয় সন্ত্রাসী জাহিদ সর্দ্দার (মেম্বার), নোয়িম, রাম দাসের সহযোগিতায় তারই ফুফাতো ভাই সাহাজান ও তার স্ত্রী বোম্বে আতরজান সেই জমির ৮ শতক জোর জবরদস্তি করে দখল করে নেয়। এর পর বাকি ১৪ শতাংশ জমি থেকে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আরো ৩ শতাংশ জমিও মেম্বর জাহিদ সর্দ্দার, নোয়িম, রাম দাসের সহযোগিতায় জমি দখল করে ঘর তৈরির চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এমনকি ওই পুরো জমি থেকে খোকনকে উচ্ছেদ করে ছাড়বে বলে হুমকি দেয় জাহিদ মেম্বর, নোয়িম ও বোম্বে আতরজান। একই পর্যায়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং তারিখে সফিকুল ইসলাম খোকন যশোর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারার আবেদন করলে আদালত ওই জমিতে ১১৪ ধারা বলবৎ রাখেন। এর পর থেকেই সন্ত্রাসী জাহিদ সর্দ্দার (মেম্বার), নোয়িম মোড়ল, রাম দাসের সহযোগিতায় খোকনের পরিবারের দুই স্কুল পড়ুয়া ছাত্রসহ পাঁচ জন সদস্যের নামে চারটি মিথ্যা মামলা করেন। একটি মামলা খারিজ হলেও বাকি মামলাগুলো এখনো আদালতে চলমান রয়েছে। এমনকি ১৮ এপ্রিল ২০১৮ ইং তারিখে ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধাকে সন্ত্রাসী জাহিদ মেম্বার সাথে নিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়। ওই মামলায় বাঘারপাড়া থানার এসআই মতিন সফিকুল ইসলাম খোকনের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্র সাইফুলকে তার বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যায়। সেই সময়ে তার বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলছিল। এ বিষয়টি তখনকার সার্কেল এসপি রাব্বানীকে জানালে ছেলেটিকে মুক্ত করে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয়। তার পরেও এই জাহিদ মেম্বর বিভিন্ন ভাবে বাঘারপাড়া থানাকে প্রভাবিত করে সাইফুলকে চালান দেয়। পরের দিন মেধাবী শিক্ষার্থী সাইফুলের অবস্থান হয় যশোর পুলের হাটের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। কিশোর সাইফুলকে পুলিশ আটকের পর বোম্বায় নারী আতরজানের অর্থায়নে এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে ভুড়িভোঁজ হয়। সেই ভুড়ি ভোঁজে বাঘারপাড়া থানার এসআই মতিন উপস্থিত হয়ে ভুড়ি ভোঁজে অংশ নেন।

এর পর সন্ত্রাসী জাহিদ সদ্দার (মেম্বর), নোয়িম মোড়ল, রাম দাসের পরিকল্পনায় ৩ ফেব্রুয়ারি পুড়া খালেকের ছেলে সাহাদত, জাহিদ, খালেকের ছোট জামায় সাইদ ও সাহাজানের ছেলে আলমগীর  সফিকুল ইসলাম খোকনের ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া সাইফুল ইসলামকে হাতুড়ি, রড দিয়ে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে তাদেরই কয়েকজন সাইফুলকে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং সন্ত্রাসী মেম্বার প্রচার করতে থাকে সে মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। এ সন্ত্রাসীরা সাইফুলের জ্ঞান ফেরার পরে প্রকৃত ঘটনার বিষয়ে মুখ খুললে তাকে হত্যা করা হবে বলে আবারো ভয় দেখায়। সন্ত্রাসী জাহিদ মেম্বর, নোয়িম, সাহাদত, রাম ভিকটিম সাইফুলকে বলে তার আব্বা সফিকুল ইসলাম খোকন ও চাচতো ভাই রাহুল ও চাচা মিঠুর নামে মারধরের মামলা করার চাপ দেয় এবং বাবা, চাচা, চাচতো ভাইয়ের নামে মামলার পরের দিন সাইফুলকে জমি লিখে দেয়ার লোভ দেখায়। খুলনার রুপসায় নিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে চিকিৎসার খরচ বাবদ তিন লাখ টাকা দেয়ার লোভ দেখায় এ চক্র। কিন্তু সাইফুল একটু সুস্থ হওয়ার পর নিজ পিতা ও চাচতো ভাই, চাচার নামে মামলা দিতে অস্বীকার করায় তাকে আবারো হত্যা করে লাশ ঘুম করে দেয়ার ভয় দেখায়। এমনকি এ সন্ত্রাসীরা সাইফুলের গতিবিধি সর্বক্ষণিকভাবে নজরে রাখে। সন্ত্রাসী জাহিদ সর্দ্দার (মেম্বর), নোয়িম, সাহাদত সাইফুলকে আরো একবার একটি নির্জন ঘরে আটকে রাখে এবং প্রকৃত ঘটনার বিষয়ে মুখ খুললে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে সাইফুলের আব্বা সফিকুল ইসলাম আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার-দেনা করে সাইফুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সাইফুলকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার কয়েকদিন পর সাইফুল একটু সুস্থ হলে প্রকৃত ঘটনাটি খুলে বলে। ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে ভিকটিম সাইফুলের মা বিউটি বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে যশোর বাঘারপাড়া আমলি আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় এএসআই আজিজ চারজনকে আটক করে আদালতে পাঠান। কিন্তু পরে আজিজ আসামি পক্ষের থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে আসামিদের জামিন নিতে সহয়তা করেন। আসামিরা ছাড়া পেয়ে ভিকটিম ও তার পরিবারের লোকজনদের বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসেছে দীর্ঘ দিন ধরে। এমনকি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই আজিজও ভিকটিমের পরিবারকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নেন। এক পর্যায়ে ৭ জুলাই প্রকৃত ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভিকটিমের বাবা সাফিকুল ইসলাম খোকন যশোর পুলিশ সুপার বরাবর ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয় ও এএসআই আজিজের অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের পূর্বে বাসুয়াড়ী পূর্বপাড়া জামে মসজিদর নিকটে অভিযোকারী সফিকুল ইসলাম খোকনকে জাহিদ মেম্বারের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা রড, হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসিরউদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠিয়েছিলাম। সেখান থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আসামিদের ধরতে পুলিশ চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।”  

যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার এমকে আলম জানান, কয়েকজনে মিলে রাতে খোকনকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে তাকে সাথে সাথে ভর্তি করে নেয়া হয়। তার মাথায় ও নাখমুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ২০টার মতো সেলাই দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে এখনো শঙ্কামুক্ত নয় বলে তিনি জানান।

রিং সাইনের আইপিও আবেদন ২৫ আগস্ট অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকার মামলায় শিঞ্জনের ১ দিনের রিমান্ড ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৪ নিহত, আহত ৮৬৬ জন গাইবান্ধায় ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন ‘সেরা পুলিশ’ ভূষিত হওয়ার পরদিনই ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা কুমিল্লায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের ৭ জন নিহত চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট মিন্নির জামিন আবেদন উত্থাপন সোমবার যুদ্ধ ছাড়াই বিধ্বস্ত ভারতের জঙ্গিবিমানগুলো ইথিওপিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে শোক দিবস পালিত মোটরসাইকেল কেনার পরদিনই প্রাণ গেল কিশোরের ফেসবুকে যুক্ত হলো চাকমা ভাষা টানা ১১ জয়ের রেকর্ড গড়লো লিভারপুল হবিগঞ্জের মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস রোববার শিশু ধর্ষণের অভিযোগে চা দোকানদার আটক রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ নিহত ২ জমকালো আয়োজনে সাব্বিরের হলুদ অনুষ্ঠান সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু ঐশ্বরিয়াকে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন সালমান আফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত ৬৩ ‘প্রেমিকার’ অশ্লীল ছবি তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী ধর্ষিত কানে ব্যথা হলে কি করবেন? বেনাপোলে নারীর ব্যাগে মিললো ৪৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকার বিদেশি মুদ্রা চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাই খেল পুলিশের সোর্স সুদানে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি স্বাক্ষর বস্তিতে আগুনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে: ড. কামাল খালেদার মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যাবে বিএনপি কলকাতায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, চালক গ্রেপ্তার ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জিং আগামী ৭ দিন