artk

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

শুক্রবার, জুলাই ১২, ২০১৯ ৮:৫৫

পাঠ্যপুস্তক থেকে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ বাদ দিতে হবে: বাবুনগরী

media

‘সুতরাং ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি ও আগ্রাসী তৎপরতা থেকে রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের ইসলামী আকিদা-বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিরোধী বিবর্তনবাদ শিক্ষা দেয়া সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় অধিকার রক্ষার বিধানের গুরুতর লঙ্ঘন।’

পাঠ্যপুস্তক থেকে অবিলম্বে নাস্তিকবাদী ধ্যানধারণার ‘বিবর্তনবাদ’ পাঠ বাদ দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে তাদের দূরে রাখারও দাবি জানান তিনি।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।

বাবুনগরী বলেন, ২০১৩ সালে শিক্ষার আধুনিকায়নের নামে নবম-দশম শ্রেণি থেকে শুরু করে মাস্টার্স পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আমাদের গোচরে এসেছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি- এর আগে ২০১২ সাল পর্যন্ত একই বইসমূহে এই ‘বিবর্তন’ পাঠ ছিল না। এই শিক্ষার মাধ্যমে ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশের কোমলমতি মুসলিম শিক্ষার্থীর মননে আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাসকে ঘোরতর সন্দিহান ও ভঙ্গুর করে নাস্তিকবাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

বাবুনগরী বলেন, পাঠ্যবইয়ে ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি অবিলম্বে ইসলামী আকিদা-বিশ্বাস ও জাতি বিনাশী শিক্ষা বাতিল ও নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘বিবর্তন’-এর এ শিক্ষা চলতে থাকলে আগামী কয়েক প্রজন্ম পর সবার অগোচরেই দেশ নাস্তিক অধ্যুষিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, নামে মুসলমান থাকলেও চিন্তা-চেতনায় সবাই নাস্তিকবাদী ধ্যানধারণা ও ভোগবাদে ডুবে থাকবে। আল্লাহ, রাসুল, ইসলাম নিয়ে কটূক্তি বাড়তে থাকবে। আলেম-ওলামা, ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মভীরু মানুষকে বাধা ও বিরক্তিকর ভাবতে শুরু করবে। ধর্মীয় বিয়ে মানবে না।

‘বিয়ের নানাবিধ দায়বদ্ধতা ছাড়াই লিভটুগেদার ও অবাধ যৌনতার প্রতি আগ্রহী হবে। মদ, জুয়ার বিধিনিষেধ মানবে না। সমকামিতার বৈধতা দেয়ার জন্য আন্দোলনে নামবে।’

হেফাজত মহাসচিব আরও বলেন, ডারউইনের বিবর্তনবাদে সৃষ্টিকর্তার ধারণা ভিত্তিহীন। তাই বিবর্তনবাদ সৃষ্টিকর্তাকে স্বীকার করে না। পৃথিবীর প্রচলিত কোনো ধর্মকেই স্বীকার করে না।

তিনি বলেন, এই বিবর্তনবাদের পাঠ দিতে গিয়ে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে বাংলাদেশের মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো হচ্ছে-‘ধর্ম মানুষের চিন্তা-চেতনার ফসল’ হিসেবে, নাউজুবিল্লাহ।

অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিবৃতিতে বাবুনগরী বলেন, নবম-দশম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত বিবর্তন পাঠের বিষয়গুলো যেকোনো অভিভাবক দেখলে সহজেই বুঝতে পারবেন যে, তার সন্তানকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানান সস্তা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝানো হচ্ছে যে, পৃথিবীর সবকিছুই প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি হয়ে বিবর্তনের মাধ্যমেই বর্তমান অবস্থায় এসেছে।

‘মানুষ ও বানরের আদি পিতা একই ছিল। হযরত আদম ও হাওয়া (আ.) এসব কিছু না। সৃষ্টিকর্তা ও ধর্মের ধারণা অশিক্ষিত কর্তৃত্বপরায়ণশীল মানুষের তৈরি। বিজ্ঞানের বিবর্তনের এ আবিষ্কার কেউ খণ্ডাতে পারবে না। ৯৯ পার্সেন্ট বিজ্ঞানী বিবর্তনবাদকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।’

তিনি বলেন, দেশের সংবিধানে নাগরিকের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এর অর্থ হরো স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালন, ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন, ধর্মীয় বিশ্বাস তথা ইমান-আকিদা ধারণ সবার নাগরিক অধিকার।

‘সুতরাং ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি ও আগ্রাসী তৎপরতা থেকে রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের ইসলামী আকিদা-বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিরোধী বিবর্তনবাদ শিক্ষা দেয়া সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় অধিকার রক্ষার বিধানের গুরুতর লঙ্ঘন।’

হেফাজত মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া প্রকৃত শিক্ষা হয় না, এমন প্রশংসনীয় বক্তব্যও বারবার দিয়েছেন। আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি তার আন্তরিকতার উল্লেখ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের আরও মন্ত্রীরা ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও একই বক্তব্য দিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে।

‘এসব বক্তব্যের বিপরীতে জাতীয় শিক্ষায় ইমান-আকিদাবিরোধী ‘বিবর্তনবাদ’ শিক্ষার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না। যেখানে আধুনিক বিজ্ঞানে বাতিল করার কারণে এ বিবর্তনের পাঠ ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, কোরিয়া, রুমানিয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রে এই বাতিল পাঠ নতুনভাবে সংযোজন হয় কি করে?’

ইদলিবে সরকার বিরোধী হামলায় সিরিয়ার ৪০ সেনা নিহত খালি পেটে যেসব খাবার খাওয়া ঠিক নয় হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হল ডার্ক মোড পাবনায় আওয়ামী নেতার বিরুদ্ধে বাবার জিডি ৬৪ জেলায় ৪৯ হাজার নদী দখলদার: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্র ঢাবির বিশেষ সমাবর্তন ৫ সেপ্টেম্বর আমরা দেশকে জঙ্গিবাদের হাত থেকে মুক্ত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী চীনাদের সাপ খাওয়ার অভ্যাস থেকেই ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস! পলিন কাউসারের ‘আমি তো পাইনি মেঘের দেখা’ আইসিজের রায় বিশ্বের মানবাধিকারকর্মীদের জন্য মাইলফলক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হারপিক খেয়ে খুলনায় এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দের পুত্রের আত্মহত্যা মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন নগরবাসী নিয়ে বিএনপির কোনো পরিকল্পনা নেই: তাপস জিরো টলারেন্স জনপ্রিয় হওয়ার একটি স্লোগান: এনবিআর চেয়ারম্যান আইপিও আসার আগে প্রতিবেদন করুন: সাংবাদিকদের ডিএসই পরিচালক অস্ট্রেলিয়ায় এয়ার ট্যাঙ্ক বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৩ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন ১০ সাহিত্যিক ‘ছাত্রলীগকে দিয়ে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ দাবিয়ে রাখা যাবে না’ তাবিথের বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের অভিযোগ ইসিতে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে ৪ বাংলাদেশি নিহত রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ আইসিজের সৌদি আরব থেকে ফিরলেন আরও ২১৭ বাংলাদেশি রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিকীকরণে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভিপি নূরকে কেন পাসপোর্ট দেয়া হবে না: হাইকোর্ট ভোটের নিরপেক্ষ পরিবেশ নেই: ফখরুল রক্তকোষের সাহায্যে সারিয়ে তোলা যাবে ক্যান্সার চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ এক ধাপ উন্নতিতেও দুর্নীতি কমেনি: টিআইবি ফেনীর পৌর মেয়রকে দুদকে তলব