artk
রোববার, জুলাই ২১, ২০১৯ ১০:০৫   |  ৬,শ্রাবণ ১৪২৬
সোমবার, জুলাই ১, ২০১৯ ১:১৩

ভারত ও বাংলার ইতিহাস চর্চায় বহুমাত্রিক পাঠ

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
media
ড. শেখর শীল উনিশ শতকের বাংলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটা ছিল বাংলায় সংস্কারের যুগ। বাঙালি সংস্কারক ও বুদ্ধিজীবি মহলে প্রাথমিক মনোযোগ ছিল নারী ও সমাজে তার অবস্থান বিষয়ে।

'রিডিফাইনিং ইন্ডিয়া' ভারত ও বাংলার ইতিহাস চর্চায় নবতর সংযোজন। ভারতের ঔপনিবেশিক ও উপনিবেশোত্তর কালপর্বের নানা দিক নিয়ে মোট ১৫টি প্রবন্ধ এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। তিনটি প্রবন্ধে এসেছে ঔপনিবেশিক বাংলার ইতিহাস প্রসঙ্গ; মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্য চর্চার বিবর্তন, বাংলায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজ সংস্কারের উদ্যোগের স্বরূপ, বাংলার রেশম শিল্পের আধুনিকীকরণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভূমিকা নিয়ে প্রবন্ধ পত্রস্থ হয়েছে বইটিতে। আছে বাংলায় মঙ্গলকাব্যের জনপ্রিয়তার কারণ অনুসন্ধান। এসবের সঙ্গে পাঠক পাবেন বেনারসের দস্যুদল, দক্ষিণ ভারতের জলদুর্গ (যে দুর্গে জড়িয়ে আছে টিপু সুলতানের ইতিহাস), আসামের প্রাণীবৈচিত্র, আহোম সাম্রাজ্যের বাণিজ্য কিংবা নওয়াবদের শহর লখ্নৌয়ের ইতিহাস নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ। বইটিতে একইসঙ্গে ভারত ও বাংলার ইতিহাস, লৈঙ্গিক ইস্যু, স্থাপত্য, ধর্ম এবং অর্থনীতি বিষয়ে আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে। একে মলাটে এ ধরনের উদ্যোগ দুর্লভ। বইয়ের প্রবন্ধগুলো একদিকে যেমন পাঠক, গবেষকদের কৌতুহল মেটাবে তেমনি আরো নতুন গবেষণার ক্ষেত্র উন্মোচন করবে। পাঠক, শিক্ষার্থী ও গবেষক সবাই গ্রন্থটি থেকে উপকৃত হবেন।

রিডিফাইনিং ইন্ডিয়া বইতে ড. অমিত দে আলোচনা শুরু করেছেন উপনিবেশিক আমলে বাংলায় ইসলাম এবং মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যচর্চা দিয়ে। লেখক তার প্রবন্ধে যুক্তি দিয়েছেন যে, বিংশ শতকের বাংলার ইসলামীকরণ প্রক্রিয়া এবং সে প্রেক্ষিতে বাংলার মুসলমানদের রাজনীতিকরণের ইতিহাস বুঝতে মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যচর্চার সৃজনশীল থেকে আরোপিত ধারায় বিবর্তন সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কিছু অপ্রচলিত উৎসকে নিরীক্ষণ করা, যেমণ-মৌলুদ, নবী মোহাম্মদ (সা.) ও তার আত্মীয়াদের জীবনী, মীর মশাররফ হোসেনের অজানা ধর্মীয় রচনা এবং বিশ শতকে মুসলিম শিশুদের জন্য রচিত কিছু ধর্মীয় রচনা। বাংলার প্রতিষ্ঠিত পণ্ডিতরা সাধারণত এসব অপ্রচলিত উৎসকে অবহেলা করেছেন। তরুণ গবেষকরা বাংলার মুসলমানদের আত্মপরিচয়ের সন্ধান বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এসব অপ্রচলিত  উৎসগুলোকে ব্যবহার করে নতুন নতুন প্রেক্ষিতকে সামনে আনতে সক্ষম হবেন।

ড. শেখর শীল উনিশ শতকের বাংলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটা ছিল বাংলায় সংস্কারের যুগ। বাঙালি সংস্কারক ও বুদ্ধিজীবি মহলে প্রাথমিক মনোযোগ ছিল নারী ও সমাজে তার অবস্থান বিষয়ে। বেশিরভাগ সংস্কার উদ্যোগই ছিল নারীদের কেন্দ্র করে। কিন্তু সব সংস্কারই শুরু করেছিলেন পুরুষ সংস্কারকরা এবং পুরো যাত্রাতে নারীদের নিজেদের কন্ঠস্বর প্রায় ছিলই না। বিদ্যাসাগরের মতো এক্ষেত্রে যারা সাফল্য পেয়েছিলেন তাদের বোঝাপড়ায় পুরুষের দৃষ্টিতেই ‘নারী প্রশ্ন’টি আলোচিত হয়েছে। সংস্কারকরা সাধারণভাবে, এমনকি বিদ্যাসাগরও উনিশ শতকের বাংলায় 'ভদ্দরলোক' সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতাগুলো অতিক্রম করতে পারেননি। নারী আন্দোলন শুরু করতে সমাজ সংস্কারকরা যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা ছিল বাঙালি মধ্যবিত্তের দুটি প্রয়োজন থেকে এবং এই প্রয়োজন দুটি ছিল দ্বান্দ্বিক। একদিকে এই মধ্যবিত্তদের দরকার হয়েছিল নিজেদের উচ্চমার্গীয় রুচি ও নৈতিকতার অধিকারী হিসেবে উপস্থাপন করা। আর তাই দরকার ছিল নারীদের অবস্থানের উন্নতির। অন্যদিকে নারীদের আধুনিক করতে গিয়ে সমাজে প্রচলিত লৈঙ্গিক সম্পর্কের বিরুদ্ধে আঘাত হানাও তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

ড. রবের্তো দাভিনি তার প্রবন্ধে অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কোর্ট অব ডিরেক্টরসদের একটি উপলব্ধি নিয়ে আলোচনা করেছেন। কোর্ট অব ডিরেক্টররা বুঝতে পারছিলেন যে বাংলা থেকে আমদানি করা সিল্কের বিক্রি বৃদ্ধি করতে হলে বাংলার প্রথাগত রিলিং পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। তাই বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা হাসিল করার পর কোর্ট অব ডিরেক্টরস বাংলার রেশম শিল্পের আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ নেয়  ও স্থানীয় উৎপাদকদের ওপর ইউরোপীয় পদ্ধতি চাপিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তিনজন ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করে, যাদের একজন ইতালিয়, একজন ফরাসি এবং একজন ইংরেজ। এরা তিনজনই পিডমন্টেজ রিলিং মেশিনের ব্যবহার এবং রেশম সূতা নিষ্কাশন বিষয়ে দক্ষ। এদের সঙ্গে কোম্পানি যোগাযোগ করেছিল স্থানীয় কারিগরদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তির পরিচয় ঘটিয়ে দেয়ার জন্য। লেখক দেখিয়েছেন এই পিডমন্টেজ প্রযুক্তির বিকাশে তিনটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার পারস্পরিক ভূমিকা ছিল : বাংলার কৃষি, এর প্রথাগত জমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি-পণ্য নিয়ন্ত্রণের বিশদ কাঠামো। দ্বিতীয়ত, পলাশীর পরে ইউরোপে পণ্য সরবরাহের জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে স্থানীয় কারখানাগুলোর নেটওয়ার্ককে সহায়তার প্রচেষ্টা এবং তৃতীয়ত, রেশমচাষ ও সিল্ক উৎপাদনের একটি নতুন বিস্তৃত ব্যবস্থা যা তৈরি হয়েছিল প্রকৃত পিডমন্টেজ মডেল থেকে।

চতুর্থ প্রবন্ধটির লেখক ড. গিরীশ চন্দ্র পাণ্ডে। অষ্টাদশ শতকের বেনারসের গুণ্ডা ও দাঙ্গাবাজরা তাদের ভয়ানক কাজকর্মের জন্য বহুদিন ধরেই কুখ্যাত ছিল। এরিক হবসবমের 'ব্যান্ডিট' বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬০ এর দশকে। তিনি এই বইয়ে প্রাক-শিল্পায়িত সমাজ, এমনকি শিল্প বিপ্লবের সময়েও ক্রিয়াশীল আইনবিরোধী বিভিন্ন চরিত্রের উল্লেখ করেছেন। রাজার আইনের কাছে এরা লুটেরা, খুনী এবং ডাকাত। কিন্তু নিজেদের সমাজ তাদের আদর্শবাদী বলে বিবেচনা করে যারা কেবল নিজেদের স্বার্থে নয় বরং সমাজের উন্নতির জন্য কাজ করে। তথাকথিত এই দস্যুরা ন্যায়বিচারের জন্য লড়ছিল কিন্তু আইনের চোখে তারা ছিল অপরাধী। আঠারো ও উনিশ শতকের ভারতে অনেক বিরোধ-সংঘাত হয়েছে। বলাই বাহুল্য এ সময় মুঘল সাম্রাজ্য, ঔপনিবেশিক সরকার এবং কিছু জায়গায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। পুরো ভারত জুড়ে মুঘল সাম্রাজ্যকে প্রতিস্থাপিত করতে পারে এমন কোন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তখন ছিল না। ফলে ক্ষমতার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক লড়াই শুরু হল। বর্তমান প্রবন্ধে প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি উৎস ব্যবহার করে লেখক বেনারসের দস্যু দলগুলোর বিবর্তন এবং তাদের সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করেছেন।

ড. পি এস হরিশ আলোচনা করেছেন শ্রীরঙ্গপাট্টানাম এর দুর্গ নিয়ে। ভারতীয় উপমহাদেশে বহু দুর্গ আছে। শত শত বছর ধরে এসব দুর্গ সমাজ ও প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। দুর্গগুলো তাদের আশেপাশের বিরাট এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করত এবং একারণে এগুলো ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মতো দক্ষিণভাগেও অনেক দুর্গ দেখা যায় এবং শ্রীরঙ্গপাট্টানাম দুর্গটি সেগুলোর মধ্যেই শক্তিশালী একটি। বর্তমান প্রবন্ধে এই দুর্গকে ঐতিহাসিক ও প্রতিরক্ষা স্থাপনার প্রেক্ষিত থেকে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষার প্রেক্ষিতটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি একটি জলদুর্গ, দুর্গটি নির্মিত হয়েছে কাবেরী নদীর দুটি শাখার মধ্যিখানে অবস্থিত। এই দুর্গের নির্মাণ হোয়সালা আমলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হায়দার আলী, টিপু সুলতান দুর্গে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটান এবং কৌশলগত অবস্থানে দুর্গটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তোলেন যেন ব্রিটিশসহ সব ধরণের বহিঃআক্রমণকে রুখে দেয়া যায়।

ড. কে. মাভালি রাজন মধ্যযুগে দক্ষিণ ভারতে মন্দিরের নানাবিধ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মন্দিরগুলো ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র, আশেপাশের মানুষের জীবনের সব বিষয়েরই মূল কেন্দ্র ছিল মন্দির। ভারতে গ্রামের সকল আচার-অনুষ্ঠান এবং সামাজিক কর্মকান্ড মন্দিরকেন্দ্রিক। দেব-দেবীর আবাস এবং পূজার স্থান ছাড়াও মন্দিরগুলো ঐতিহ্যের ধারক, শিক্ষাকেন্দ্র (পাঠশালা), দাতব্য প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপদ আশ্রয়, ঐতিহাসিক দলিল ও শিল্পকর্মের সংরক্ষণ কেন্দ্র, স্থানীয় স্ব-শাসিত সরকারের দপ্তর, বিনোদন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মিলন কেন্দ্র।  মন্দিরগুলো বাস্তু, শিল্প, নাট্য সহ বিভিন্ন শিল্পের আশ্রয় কেন্দ্র। মন্দিরগুলো বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শিল্পের উদ্ভব এবং বিকাশের কেন্দ্র । 

ড. সৌরভ কুমার রাই আলোচনা করেছে ঔপনিবেশিক আমলে ওষুধ কীভাবে সহজলভ্য হয়ে ঔপনিবেশিক শাসনের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজন পূরণ করেছে সে বিষয়ে। উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরু দিকে বিকশিত সংস্কারবাদী ও জাতীয়তাবাদীরাও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন। বায়োমেডিসিনের আধিপত্যের এরকম প্রেক্ষাপটেই ঔপনিবেশিক ভারতে আয়ুর্বেদিক ঔষধবিদ্যার পুনর্জাগরণ ও ‘অতীত গৌরব’ ফিরিয়ে আনার ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে স্থানীয় ঔষদবিদ্যা নিয়ে আলাপ কেবল রোগ নিরাময়ের ধারণাতেই আটকে না থেকে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক সীমানাতেও প্রবেশ করেছিল। আয়ুর্বেদের প্রবক্তা এবং চর্চাকারীরা তাদের চিকিৎসাবিদ্যার গন্ডি ছেড়ে ‘নেশন’ তৈরির প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

অষ্টম প্রবন্ধটির লেখক শুভনীত কৌশিক। এ প্রবন্ধে লেখক আলোচনা করেছেন ১৯৩৮ সালের হেলথ সাব-কমিটি অব ন্যাশনাল প্লানিং কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে। একটি জাতীয় পরিকল্পনা তৈরি করতে কমিটিকে নিয়োগ করেছিল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস। কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন জওহরলাল নেহরু। স্বাস্থ্যবীমা, মা শিশুর যত্ন বিষয়ে এই প্রতিবেদন সোভিয়েত রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে প্রেরণা নিয়েছিল।

ড. অনিকেত তথাগত ছেত্রী তার প্রবন্ধে বাংলার মঙ্গলকাব্যকে পরীক্ষা করেছেন। মধ্যযুগে বাংলায় মঙ্গলকাব্য বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। লেখক তার রচনায় দেখিয়েছেন মঙ্গলকাব্যের পারফরর্মিং চরিত্রের কারণেই এর জনপ্রিয়তা বেড়েছিল। মঙ্গলকাব্যের গীত-পালা গ্রামের মানুষের জন্য উপার্জনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। একারণেই এই কাব্য রচনায় পণ্ডিত নয় বরং গ্রাম্য বাহ্মণরাই মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল। লেখক এভাবে বাংলায় মঙ্গলকাব্যের জনপ্রিয়তা ও প্রসারের পেছনে অর্থনৈতিক প্রেরণার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

মোইচিংমায়ুম মুশতাক আলিশ আইজাজা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতিহাসের অনালোকিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। লেখক আলোচনা করেছেন এই অঞ্চলের প্রাণিকূলের বৈচিত্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে। আলোচ্য প্রবন্ধে মনিপুরের প্রাণীজগতের অবস্থাকে অনুসন্ধান করা হয়েছে। পলিটিকাল এজেন্ট রিপোর্ট, ঐতিহাসিক রচনা এবং অন্যান্য দলিলাদি ঘেঁটে লেখক মনিপুরের প্রাণিকূলকে অধ্যয়নের একটি ন্যারেটিভও তৈরি করেছেন।

ড. ফখরুল ইসলাম লস্কর আলোচনা করেছেন ব্রিটিশ বিরোধী ’ভারত ছাড়’ আন্দোলন নিয়ে। কোন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াই এই আন্দোলন নাগরিক বিদ্রোহে রূপ নেয় এবং ভারতবর্ষের প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে পড়ে। লেখক তার প্রবন্ধে ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে আসামের মানুষ কেমন সাড়া দিয়েছিলেন এবং কীভাবে অংশগ্রহণ করেন সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ প্রশাসনের সহিংসতা ও নিষ্ঠুর দমন অভিযানকে নথিপত্র ঘেঁটে তুলে এনেছেন।

শংকর কুমার বসু ও ড. নিরুপম খনিকার আলোচনার সূত্রপাত করেছেন আহোম রাজধানী ঘরগাওয়ের কাছে ধিতাইফুরি গ্রামে পাওয়া মুদ্রাকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি আসামে বাইরের শাসকদের মুদ্রা পাওয়া গেছে। সাধারণ আসামের শাসকরা বাইরের মুদ্রা নিজ রাজ্যে অনুমোদন করতেন না। সেগুলো গলিয়ে ফেলা হতো নয়তো বাংলা থেকে লবণ কিনতে ব্যবহৃত হত। লেখকদ্বয় সংশ্লিষ্ট শাসনামলে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে আহোম রাজত্বের রফতানি বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।

শানজিদ অর্ণব তার প্রবন্ধে আলোচনা করেছেন ভারত ও হিন্দুধর্ম নিয়ে প্রাথমিকালে মুসলমানদের ধারণা নিয়ে। আরবরা ভারতের বিজ্ঞান, দর্শণ, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞানকে গ্রহণ করেছিলেন। প্রাথমিককালে ভারতের মুসলমানদের অনেকে এই দেশকে মাতৃভূমি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তারা ব্রাহ্মণদের জ্ঞানের প্রশংসা করেছেন। সেই প্রাথমিককালে ভারত ও হিন্দুধর্ম নিয়ে মুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যে বিভিন্ন ইতিবাচক মন্তব্য, ধারণা লক্ষ্য করা যায়। অনেক সংস্কৃত সাহিত্য সেসময় আরবি ভাষায় ভাষান্তরও করা হয়েছিল। লেখক ভারত ইতিহাসের অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত এই অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

শ্রেয়া রায় আলোচনা করেছেন ’নওয়াবদের শহর’ বলে পরিচিত লখ্নৌ নিয়ে। ব্রিটিশ আমলে কলকাতার পর লখ্নৌ শহরটিই দক্ষিণ এশিয়ার অন্য শহরগুলোর তুলনায় বেশি আলোচিত ছিল। শহরটি তার সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের অনেকটাই পেয়েছিল মোগল রাজধানী দিল্লি ও আগ্রা থেকে। উনিশ শতকের শুরুর দিকে লখ্নৌ ছিল দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহর। বর্তমান প্রবন্ধে লেখিকা ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ পরবর্তী ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে লখ্নৌ শহরের নগর সংস্কৃতি ও প্রশাসন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বইয়ের সর্বশেষ প্রবন্ধটির লেখক সংযুক্তা দে। তিনি তার আলোচনায় দেখিয়েছেন ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান বা প্রেক্ষাপট হল ধর্মীয় ইতিহাস। পশ্চিম বাংলার ক্ষেত্রেও একথা সত্য। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার মানুষ বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যকে অনুসরণ করেছে। আলোচ্য প্রবন্ধে লেখিকা বাংলার দেবীদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত ও অজানা অনেক তথ্য অনুসন্ধান করেছেন।

বইয়ের প্রবন্ধগুলোর লেখক-লেখিকাগণ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের অধ্যাপক, ইতিহাস গবেষক ও লেখক।

‘রিডিফাইনিং ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন ইতিহাস গবেষক রাহুল কুমার মোহন্ত। তিনি ইন্ডিয়ান হিস্টরি কংগ্রেস ও ঢাকার ইতিহাস একাডেমির সদস্য। রাহুল কুমার মোহন্ত ‘এক্সপ্লোরিং বেঙ্গল’ নামেও একটি গ্রন্থের সম্পাদনা করেছেন।

‘রিডিফাইনিং ইন্ডিয়া’ বইটি প্রকাশ করেছে নয়া দিল্লির কুমুদ পাবলিকেশনস। উল্লেখ্য, বইটি অ্যামাজনডটইনে পাওয়া যাচ্ছে।
অ্যামাজনে বইটির হদিস-
https://www.amazon.in/Redefining-India-Rahul-KumarMohanta/dp/9382885595/ref=sr_1_1?qid=1561274319&refinements=p_27%3ARahul+Kumar+Mohanta&s=books&sr=1-1

উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করছে সিগারেটের গোড়া যে ১৪ আত্মমূল্যায়নের প্রশ্নে বদলে যেতে পারে জীবন সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মস্কোতে হাজারো নাগরিকের বিক্ষোভ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঞ্চেই মারা গেলেন ভারতীয় কৌতুকাভিনেতা নিজের পিস্তলের গুলিতে আহত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কুমিল্লায় টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা: ৫শ জনের বিরুদ্ধে মামলা পঞ্চগড়ে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ছেলেসহ বাবার মৃত্যু হজক্যাম্পের আশপাশের রেস্তোরাঁয় পচা খাবার, জরিমানা ২৬ লাখ জনগণকে নিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল ট্রাম্পের দাবি নাকচ, এই সেই ইরানি ড্রোন! জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত শ্বশুরকে হত্যা করে পলাতক জামাই ইনডোর এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশ সপ্তম আইনি লড়াইয়ে খালেদার মুক্তি নেই: গয়েশ্বর গণপিটুনির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে কাদেরের মাথায় হাত বুলিয়ে রওশনের আশীর্বাদ ‘স্থানীয় হিন্দু-মুসলমানদের হয়রানি করছেন প্রিয়া সাহা’ দিল্লির ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে বরগুনায় আসকের ৪ আইনজীবী প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিয়ে যা বলল জামায়াত সাংবাদিক পাইলেই গুলি করে মারব: ছাত্রলীগ নেতা ইঞ্জিনে পাখির বাসা, দেড়মাস বসে থাকলেন ট্রাকচালক উইন্ডিজ সফরে না গিয়ে সেনাবাহিনীতে সময় দেবেন ধোনি ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, প্রাণ গেলো ৩ জনের যে পরিচয়ে হোয়াইট হাউসে গিয়েছেন প্রিয়া সাহা টাইগারদের বিপক্ষে খেলেই অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হচ্ছেন মালিঙ্গা! পদ্মার পানি বাড়লে মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বাসা ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসা সৈয়দপুরে জনসমাগম দেখলেই সরকার আতঙ্কে শিউরে ওঠে: ফখরুল