artk
রোববার, সেপ্টেম্বার ১৫, ২০১৯ ৪:৩৬   |  ৩১,ভাদ্র ১৪২৬

স্বাস্থ্য-পুষ্টি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯ ১০:৩৯

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন

media

কোলেস্টেরল জমে রক্ত প্রবাহের পথে বাধা

একটি সমীক্ষা বলছে, এক সময় মানুষ পেটের সমস্যায় ভুগতেন। কিন্তু এখন পেটের রোগ থেকেও হৃদরোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর মধ্যে অনেক সময়েই দেখা যাচ্ছে, হৃদপেশির ধমনীতে বাধা তৈরির জন্য অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এই বাধা তৈরির অন্যতম কারণ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। বিজ্ঞানীরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের জন্যই এই মাত্রা বৃদ্ধি।

সবার আগে জেনে নেয়া দরকার ফ্যাট ও কোলেস্টেরল সম্পর্কে দুয়েকটি কথা। প্রোটিন বা শর্করার মতো অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যোপাদানের থেকে ফ্যাট বা স্নেহপদার্থ শরীরে অনেক বেশি শক্তি জোগাতে পারে। খাদ্যের অভাবে ফ্যাট বা স্নেহপদার্থ শরীরে শক্তির জোগান দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা নিয়ে থাকে। এই ফ্যাটই আবার এ, ডি, ই, কে ভিটামিনের দ্রাবক হিসেবে কাজ করে। মানুষের দেহের বিভিন্ন অংশে জমা হয়ে সেগুলোকে আঘাতের হাত থেকে বাঁচায়। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে, দেহকোষের কোষপর্দা তৈরিতে, অন্তঃ ও বহিঃকোষীয় সংবাদ প্রেরণে এবং সহ-উৎসেচক উপাদান হিসেবে ফ্যাট কাজ করে। এই ফ্যাটেরই একটি বিশেষ শ্রেণি হলো কোলেস্টেরল। ভিটামিন ডি, পিত্ত, অম্ল, পিত্তলবণ, স্টেরয়েড ও যৌন হরমোন সংশ্লেষ এবং কোষপর্দার উপাদানরূপে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তবে খাদ্যের উপাদান হিসেবে একে গ্রহণ করার কোনও প্রয়োজন নেই— এমনই বলে থাকেন অনেক চিকিৎসাবিদ। কারণ, মানব শরীরে প্রতিটি কোষ বিশেষ করে যকৃৎ (৭৫ শতাংশ), ত্বক, অ্যাড্রিনাল এবং অন্ত্রের কোষগুলো অন্য ফ্যাট থেকে যে পরিমাণ কোলেস্টেরল তৈরি করে তাই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। 

ফ্যাটের জগতে কোলেস্টেরল তখনই ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখা দেয়, যখন খাদ্যের মাধ্যমে কোলেস্টেরলের গ্রহণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে থাকে। আবার অধিক পরিমাণে শর্করা জাতীয় খাদ্যগ্রহণ করলেও সেটি শরীরে ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। দেহকোষগুলো তখন অধিক পরিমাণে কোলেস্টেরল তৈরি করে। কিছু পরিমাণ মল ও সিবামের সঙ্গে রেচিত হলেও, জারিত কোলেস্টেরলের একটা বড় অংশ ধমনীর প্রাচীরে জমা হয় রক্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের বাম-নিলয়ের প্রাচীর পুরু হয়ে রক্ত উৎক্ষেপণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত বহনকারী সূক্ষ্ম ধমনীগুলোতে যখন কোলেস্টেরল ট্রাইগ্লিসারাইড ও অনুচক্রিকা জমা হয়ে পিণ্ডের সৃষ্টি হয়, তখন রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ছাড়া অ্যানজিনা, হার্ট ফেলিওর প্রভৃতি হৃৎপিণ্ড সংক্রান্ত মারণ রোগগুলো রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে ঘটে। চিকিৎসাবিদদের মতে, রক্তে কোলেস্টরলের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ২০০ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার এর কম। 

রক্তে কোলেস্টেরল একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকলে (বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মাত্রাটি হতে হবে প্রতি ডেসিলিটারে ১৬০ মিলিগ্রামের কম) হৃদরোগ এড়ানো সম্ভব হয়। ‘ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড’ সমৃদ্ধ ‘ফাস্ট ফুড’, চিপস, কুকিজ, ধূমপান ও মদ্যপান প্রভৃতি রক্তে এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। চিকিৎসক ও গবেষকদের দাবি, রক্তে এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমা এবং এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার ফলে কোলেস্টরলের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। তাতেই বাড়ে অসুখের আশঙ্কা। এই কারণে অনেকেই এইচডিএল কোলেস্টরলকে ‘ভালো কোলেস্টেরল’ ও এলডিএল কোলেস্টেরলকে ‘ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল’ বলে অভিহিত করে থাকেন। সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে এই সমস্যা হয়ে থাকে বলে বিজ্ঞানীরা দাবি করেন।

চিকিৎসকদের দাবি, একক ও বহু অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড (মুফা ও পুফা) যুক্ত খাবার খেলে এই সমস্যাকে এড়ানো যায়। সম্পৃক্ত খাবারের তালিকায় রাখা হয় চর্বি জাতীয় মাংস, নারকেল, মাখন, ঘি, কাজু বাদাম, ডিমের কুসুম, পাম তেল প্রভৃতি। সাধারণত দেখা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির অস্ত্রোপচারের পরে এই খাবারগুলি এড়িয়ে চলতে বলেন চিকিৎসকেরা। আগে থেকেই এগুলো এড়িয়ে চললে হৃদরোগের আশঙ্কাও অনেকটা কমতে পারে। বহু অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবারের তালিকায় রয়েছে তুষের তেল, সর্ষের তেল, সূর্যমুখী তেল, মাছ, মাছের তেল এবং সয়াবিন। এই খাবারগুলো খেলে হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকটাই কমে বলে দাবি চিকিৎসকদের। 

এ ছাড়াও অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন আনাজ, ফল কোলেস্টেরল বিপাকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ইমিউন প্রতিক্রিয়া, প্রদাহ ও রক্ততঞ্চন নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ‘ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন’-এর একটি সমীক্ষা বলছে, খাদ্যে অত্যাবশ্যক ফ্যাটি অ্যাসিড লিনোলেনিক এবং লিনোলেইক এটি নির্দিষ্ট অনুপাতের ব্যবহার (৪:১ থেকে ১০:১) শরীরে কোলেস্টেরলের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। 

চিকিৎসকরা মনে করেন, নিয়মিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন, শরীরচর্চা, যোগাসন, ব্যায়াম, জোরে হাঁটা প্রভৃতির মধ্যে দিয়েও কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অনেকটা দূরে থাকা যায়। সুস্থ মন, সুস্থ শরীর পেতে হলে এক দিকে, যেমন আমাদের জীবনযাপনের ধরনে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে, তেমনই পরিবর্তন আনতে হবে খাদ্যাভ্যাসেও। 

ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির খবর এখন টক অব দ্য কান্ট্রি: রিজভী ‘বন্দুকযুদ্ধে' রোহিঙ্গা নিহত ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষ ফওজিয়া শোভান-রাব্বানীর বিচার চান সোহেল কোনো অন্যায়কারী, চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেবে না ছাত্রলীগ: নাহিয়ান ডিএসইতে লেনদেন কমলেও সিএসইতে বেড়েছে কুমিল্লায় বাসচাপায় ৩ ছাত্রলীগ নেতা নিহত ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ফিলিস্তিনের ‘প্রত্যেককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে’ মাসিক বেতনে বাস চালক নিয়োগের নির্দেশ নেদারল্যান্ডসের ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনা ঢাকায় আসছেন ঋতুপর্ণা ক্যাডারদের জন্য অশনিসংকেত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩ বছর পরেও খোঁজ নেই পরীক্ষার র‍্যাবের হামলার বিচার দাবি জবি শিক্ষার্থীদের সড়কে অবরোধ বাসর ঘরে ঢুকেই দেখলেন স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সারদায় প্রধানমন্ত্রী শোভন-রাব্বানী পদ হারানোয় আনন্দ উল্লাস অসুস্থ নেতার শয্যাপাশে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা দুর্গাপূজায় ব্যাং’র পোশাকে অর্ধেক ছাড় জবিতে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাদের দৌরাত্ম্য কিশোরগঞ্জে বাসচাপায় ২ স্কুলছাত্র নিহত ফিলিস্তিন রক্ষায় কাবার ইমামের ঐক্যের ডাক পূজা ও শরৎ উপলক্ষে আর্ট এনেছ নতুন পোশাক ঢামেকে নবজাতককে রেখে পালালেন মা-বাবা আফগানিস্তানের বিপক্ষে সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ ভাসমান অভিবাসীদের উদ্ধার করা জাহাজটিকে বন্দরে ভিড়তে দিল ইতালি সাভারে আ.লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা মহাকাশে সিমেন্ট গুলছেন বিজ্ঞানীরা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার