|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৪:৫০, ১৪ জুলাই ২০১৫
আপডেট: ২৩:৩৫, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

পাবনায় গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে দম্পতি আটক

পাবনায় গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে দম্পতি আটক

পাবনা: শহরের খেয়াঘাটপাড়ায় গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্ত্রী কামরুন্নাহার মৌসুমী (২৬) ও তার স্বামী ইমাম হোসেনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

ইমাম হোসেন সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার তরুন মেরুয়া গ্রামের আবুল হাফিজের ছেলে। আহত গৃহকর্মী তাসলিমা খাতুন (২২) গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের হরতকিরটেক গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পাবনা শহরের খেয়াঘাটপাড়া এলাকার সুব্রত চক্রবর্তীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন ইমাম হোসেন দম্পতি। তাদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন তাসলিমা। প্রায় প্রতিদিনই গৃহকর্মী তাসলিমাকে বটি ও লাঠি দিয়ে নির্মম নির্যাতন চালাতেন গৃহকর্ত্রী মৌসুমী।

দিনের পর দিন অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তাসলিমা গত ১১ জুলাই শনিবার সকালে আবর্জনা ফেলার নাম করে বাসা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায়। ওই দিন রাতে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন গৃহকর্তা ইমাম হোসেন।

সোমবার রাতে আহত তাসলিমাকে রাস্তায় অভুক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখে তাকে গৃহকর্তার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপশি পুলিশকে খবর দেন এলাকাবাসী। রাত ১০টার দিকে পুলিশ বাসা থেকে তাসলিমাকে উদ্ধার এবং নির্যাতনকারী মৌসুমী ও তার স্বামী ইমাম হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

হাসপাতালের বিছনায় শুয়ে নির্যাতিতা তাসলিমা জানান, কাজ করতে গিয়ে পান থেকে চুন খসলেই তার ওপর নেমে আসত গৃহকর্তা ও কর্ত্রীর অত্যাচার। সামান্য অপরাধে বটি দিয়ে তাকে কোপানো হতো। পেট ভরে খেতেও দেওয়া হতো না তাকে।

তাসলিমা বলেন, ‘মৌসুমী ম্যাডাম প্রায়ই আমার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালাতেন। কখনও বটি দিয়ে কোপাতেন, কখনও লাঠি দিয়ে মারপিট করতেন। এজন্য ভয়ে আর ওই বাসায় যাইনি।’

বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়ারাও জানান, প্রায় প্রতিদিনই তাসলিমাকে নির্যাতন করত গৃহকর্ত্রী মৌসুমী। তারা উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ পেতেন, এলাকাবাসী কাজের মেয়ের ওপর এমন নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, মৌসুমী ও তার স্বামী ইমাম নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, তাসলিমার শরীরে কাটা দাগ আগে থেকেই ছিল। আমরা মাঝে মধ্যে তার ক্ষতস্থান ড্রেসিং করে দিতাম।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুল হক জানান, এলাকাবাসীর দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে আমরা আহত গৃহকর্মী তাসলিমাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এআই/এফই

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়