artk

যশোর প্রতিনিধি

শুক্রবার, মে ১০, ২০১৯ ১২:২১

স্কুলছাত্রকে মেরে ফেলে বাবা-চাচাকে ফাঁসাতে চেয়েছিল দুর্বৃত্তরা

media

যশোরে এক স্কুলছাত্রকে মেরে ফেলে তার বাবা-চাচাকে ফাঁসাতে চেয়েছিল দুর্বৃত্তরা। ওই ছাত্র এখন অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

হামলার শিকার বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র সাইফুল ইসলাম বাঘারপাড়া বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের কিসমত বাসুয়াড়ী গ্রামের সফিুকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। 

সাইফুল বলেন, “২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে আমার খালাত ভাই বাচ্চুর ভাড়াকৃত যশোর-হ-১৬-২৫১৭ মোটরসাইকেলটি নিয়ে বাঘারপাড়া বাগডাঙ্গা গ্রামের জালালের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলাম। পথে রাধানগর তালেরসারী নামক স্থানে পৌঁছালে সাহাদতও জামাই সাইদ মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এসময় প্রাণের ভয়ে আমার সাথে থাকা খালাত ভাই বাচ্চু পালিয়ে যায়। সাথে সাথে পাশের আমবাগান থেকে গরু জবাই করার চাপট, রড ও লাঠি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে সাহাজান, আলমগীর, জাহিদ। তারা আমার মা-বাবা তুলে গালিগালাজ করতে থাকে। জাহিদ বলে, একে আমবাগানের ভিতরে নিয়ে গিয়ে ভালোমত সাইজ কর। কথামত সাহাদত ও জামাই সাহিদ আমাকে টানতে টানতে আমবাগানের ভিতরে নিয়ে যায়। এর পরে সাহাদতের হাতে থাকা ইট দিয়ে আমার ঘাড়ে আঘাত করলে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এর পরপরই সবাই মিলে আমাকে উপর্যুপরি পেটাতে থাকে। এর মধ্যে আলঙ্গীর আমাকে চিত করে ফেলে দেয় আর সাহাদত জাহিদের হাতের রড নিয়ে আমার বুকের উপর ধরে আমার বাম হাতে ও ঘাড়ে রড দিয়ে পেটাতে থাকে। জামাই সাহিদ আমার গলায় গরু জবাই করার চাপট ধরে। এসময় আমি তাদের কাছে জীবন ভিক্ষা চাই। সাহাদত বলতে থাকে তোর জীবন ভিক্ষা দিতে পারি একটি শর্তে, তুই বাড়ি গিয়ে তোর বাবা সফিকুল ইসলাম খোকন, চাচা মিঠু, চাচাতো ভাই ইমরান হোসেন রাহুল তোকে মেরেছে বলে প্রচার করবি। আর বিকালে থানায় গিয়ে তাদের নামে মামলা করবি। আমরা ২ লাখ টাকা রেখে দিয়েছি তোর চিকিৎসার জন্য। খুলনাতে এক ডাক্তারও ঠিক করে রেখেছি। সেখানে নিয়ে গেলে তুই কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যাবি। মামলা করার পরেই  তোকে আমরা চিকিৎসা করাতে সেখানে নিয়ে যাব। তোর বাবা-চাচারা আমাদের কাছে যে জমি-জায়গা পাবে তার সবটুকুই তোর নামে লিখে দেব। তবে খুলনাতে চিকিৎসার সময়ে তোর মা-বাবা কেউ তোর সাথে যেতে পারবে না। শুধু আমরাই তোকে নিয়ে যাব।”

ওই স্কুলছাত্র বলেন, “আমি জীবন বাঁচাতে তাদের কথায় রাজি হয়ে যাই। এর পরে তারা আমাকে সেখানে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তাদের একান্ত আস্তাভাজন মেম্বার জাহিদও চৌকিদার চৈতন্য প্রচার করতে থাকে আমি একসিডেন্ট করেছি। কিছু সময় পরে আমার খালাত ভাই বাচ্চু আমার চাচতো ভাই ইমরান হোসেন রাহুলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকরা জানান উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিতে হবে। কিন্তু আমার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে খুবই অসচ্ছল। আমাদের ও আসামিদের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় আরেক দফায় সাহাদতের ছেলে জাহাঙ্গীরকে দিয়ে ডেকে নিয়ে আমাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। সাহাদত ঘরে নিয়ে আমার গলায় আবারো চাপট ধরে এবং বাবা সফিকুল ইসলাম খোকন, চাচা মিঠু ও চাচতো ভাই রাহুলকে বিবাদী করে থানায় মামলা দায়ের করার জন্য চাপ দেয়। এ অবস্থা দেখে আমি পরের দিন অনেক কষ্টে বাড়ি থেকে পালিয়ে শহরে চাচার বাসায় চলে যাই। ঘটনা জানার সাথে সাথে আমার চাচা আমাকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ডাক্তাররা আমাকে পরীক্ষ-নিরীক্ষা করে বলেন, বাম হাতের কয়েকটি শিরা ছিড়ে গেছে। এ চিকিৎসা ঢাকা মেডিক্যালে একেবারেই অসম্ভব। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে আমি অর্থাভাবে ধুকে ধুকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি। শত্রুদের পরিকল্পনা ছিল আমাকে দিয়ে আমার বাবা-চাচা-চাচতো ভাইয়ের নামে থানায় মামলা করিয়ে আমাকে চিকিৎসা করার নামে নির্জন স্থানে নিয়ে মেরে ফেলবে। এটি বুঝতে পারার সাথে সাথে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে শহরে আমার চাচার বাড়িতে চলে যাই।”

উল্লেখ্য, এর আগে সাইফুলের মা বিউটি বেগম স্থানীয় থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মামলা নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। পরে বাদী বিউটি বেগম ২৮ এপ্রিল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাঘারপাড়া আমলী আদালত, যশোরে উপস্থিত হয়ে ৫ জনকে আসামিকে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলটি আমলে নিয়ে আসামিদের ধরতে বাঘারপাড়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। বাঘারপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইজাজ আহম্মেদ গত রোববার দুপুরে বাসুয়াড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাঘারপাড়া থানার বাসুয়াড়ী গ্রামের পুড়া খালেকের ছেলে সাহাজান মোড়ল, সাহিদ মোড়ল, কোতোয়ালী থানার তেঘরীয়ার সাহাজান মোড়লের ছেলে আলমগীর মোড়ল, পিতা আবদার গাজীর ছেলে জামাই সাহিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও অপর দুই আসামি পালিয়ে যায়। 

বিষয়টি নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইজাজের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “ঘটনাটি সুপরিকল্পিত। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে চারজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। আটককৃতদের আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এদের প্লানমাস্টার তৃতীয় কোনো ব্যক্তি হতে পারে। প্রকৃত ঘটনাটি উদঘাটনের জন্য বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।”

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা