artk
রোববার, মে ২৬, ২০১৯ ১২:১৪   |  ১২,জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৯ ১:০৭

তাপদাহে বেড়েছে তালপাখার কদর

media

বৈশাখের প্রথম থেকে গ্রীষ্মের তাপদাহ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন। এসময়ে আকাশে মেঘের ঘনঘটা বাড়ায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিও হচ্ছে অহরহ। ঝড়-বৃষ্টির ফলে কোথাও কোথাও বিদুতের তারে গাছ-পালা ভেঙে পড়ায় সাময়িকভাবে বিদুৎ সংযোগ বন্ধ থাকছে। তাছাড়া রাস্তা ঘাটে বাস-ট্রেনে তো আর সব সময় ফ্যানের ব্যবস্থাও নেই। থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ গরমে নিম্নবিত্ত ও পথচারী মানুষের একমাত্র ভরসা তালপাতার পাখা। কোথাও কোথাও লোডশেডিংয়ের ফলে গরম নিবারণে ধনীর দুলালীদের তালপাতার পাখার হাওয়া খেতে দেখা যায়। গ্রাম কি শহরে সর্বত্রই বেড়ে গেছে তালপাতার পাখার ব্যবহার। 

যশোরের বিভিন্ন অঞ্চলে কারিগররা তীব্র গরমে মানুষকে একটু শান্তির পরশ দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন হাতপাখা বা তালপাখা। পূর্ব পুরুষের ব্যবসা করে এখনো সংসার চালাচ্ছেন এ অঞ্চলের প্রায় কয়েকশ ঋষি পরিবার। গরম শুরুর সাথে সাথে কারিগরদের কাজ বেড়ে গেছে। তালপাখা এবং ঝুড়ি ও বেতের কাজ করাই তাদের একমাত্র পেশা।

যশোরের আটটি উপজেলায় তিন শতাধিক কারিগর এ তালপাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। স্থানগুলোর মধ্যে শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, বসুন্দিায়, হৈবতপুর, ঘুনিরঘাটবাগডাঙ্গার, ঋষিপল্লী, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুরসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কারিগররা এ পাখা তৈরিতে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে। আর এসব পাখা ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে জেলায় কয়েক হাজার ছোট ছোট মৌসুমী ব্যবসায়।

শার্শার পাখা তৈরির কারিগর মিতা রানী সরকার জানান, তালপাতার পাখাতো আর সারা বছর চলে না। মাত্র এক থেকে দুমাস এ পাখা তৈরির কাজ চলে। যে কারণে বৈশাখের আগ থেকেই আমাদের প্রস্তুতি চলে। আর বৈশাখ আসলেই আমাদের কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এত ব্যস্ত থাকা হয় নিজের শরীর দিয়ে ঘাম ঝরে পড়লেও নিজের তৈরি পাখা দিয়ে বাতাস খাবেন এমন সময়টুকু থাকে না। পাকা তৈরিতে এক একজন এক এক কাজ করেন। কেউ বা পাতা কেটে সাইজ করছেন, কেউ সেলাই করছেন আবার কেউ বা পাখা তৈরি করছেন। আবার কেউ তৈরি হওয়া পাখাগুলো বিক্রির জন্য বোঝা বাঁধছেন। কেউবা সেগুলো বিক্রি করার জন্য হাটে নিচ্ছেন। এভাবেই চলছে পাখা কারিগরদের সময়। তবে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে বলে তিনি জানান।

পাখা তৈরির আরেক করিগর অমেলেন্দু জানান, পাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তালপাতা। এগুলো অধিকাংশ সংগ্রহ করা হয় শীতকালে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব পাতা সংগ্রহ করা হয়। তারপর তালপাতাগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। পাতা ভিজে নরম হয়ে গেলে পানি থেকে উঠিয়ে তা কেটে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা পাতায় দুটো পাখা হয়। এই পাতা পুনরায় বেঁধে রাখা হয়। এভাবে রাখার পর গরমের মৌসুম আসার সাথে সাথে সেগুলো আবার পানিতে ভিজতে দেয়া হয়। পানিতে দেবার পর পাতা নরম হয়ে গেলে শুরু হয় মূল পাখা তৈরির কাজ। সাধারণত পরিবারের বড়রা পানিতে ভিজে নরম হয়ে যাওয়া পাতা ছাড়িয়ে পাখা আকৃতির করে চারিদিক কেটে সমান করে থাকে। আর বাড়ির মেয়েরা সেগুলো বাঁশের শলা দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরিবারের ছোট সদস্যরা এগুলো সুচ আর সুতা দিয়ে সেলাই করে থাকে

এভাবে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠে একটি তালপাখা। বাড়ির ছেলে-মেয়ে, শিশু ও গৃহবধূরা সবাই মিলে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১/২টা পর্যন্ত পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন।

বেনাপোল রেল রোডে পাকা ব্যবসায়ী রঘুনাথ দাসের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৈশাখের প্রথম থেকে তাপদাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তালপাতার পাকার কদর অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক পাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি পাকা ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। 

তবে তিনি জানান, এক সময়ে গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট তালগাছ জন্মাতো। এসব ছোট তালগাছের পাতা কেটেই মূলত পাখা তৈরি করা হয়। কিন্তু এখন তালের পাতা পাওয়া যায় না। যদিও পাওয়া যায় তাও আবার এসব পাতা গাছের মালিকের কাছ থেকে কিনে নিয়ে আসতে হয়। যে কারণে তুলনামূলকভাবে পাখার দাম বেশি। 

পাখা ব্যবসায়ী পলাশ বলেন, গরম পড়লেই পাখার কদর বেড়ে যায়। এক থেকে দুই মাস এ ব্যবসা হবে। পাখার চাহিদা থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় পাইকারদের কাছ থেকে পাখা ক্রয় করা যাচ্ছে না। তাছাড়া বর্তমানে তালগাছের আকাল রয়েছে। এ কারণেও চাহিদার তুলনায় সরবারহ কম।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক উত্তম কুমার সরকার বলেন, “গ্রাম-বাংলার মানুষের হাতে তৈরি তালপাখা এদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এ কুটির শিল্প। এমনকি এ শিল্পীদের তৈরি পাখা বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী এ শিল্পকে আরো বিকাশিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা চালু করেছেন। কেউ যদি এগুলো বাণিজ্যিকভাবে করতে চায়, তাহলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এশিল্পকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।”

তেজগাও স্টেশনে রোদের মধ্যেই সারিতে টিকিট প্রত্যাশীরা নিউ লাইন ক্লোথিংসের লেনদেন শুরু সোমবার আ.লীগ নেতা হত্যা: বান্দরবানে অর্ধদিবস হরতাল পালিত দিনাজপুরে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা সিডনি যাচ্ছেন ফারুকী ও তিশা মোদি এবার কিভাবে অর্থনীতি সামলাবেন সিডনিতে সফররত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সম্মানে ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত কেনিয়ার সমকামীদের জীবন যেভাবে কাটে কোলেস্টেরল কমাবে ১০ খাবার কাশ্মীরে নিহত ‘শীর্ষ জঙ্গি’ জাকির মুসা আসলে কে? অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে বাস্তবতা টের পেলো ইংলিশরা বিসিকের বর্ষা মেলা শুরু রোববার চকরিয়ায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩ বন্ধু নিহত খালেদার চিকিৎসা নিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য দায়িত্বহীন: নাসিম নাটোরে একসঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম দেশের ৯০ শতাংশ সম্পদ সুপার ধনীদের হাতে বিড়ির শুল্ক প্রত্যাহার চান শতাধিক সংসদ সদস্য ‘আ.লীগের বিরুদ্ধে শাজাহান খান’ বরিশাল নগরীতে দেশের প্রথম থ্রি ডি জেব্রা ক্রসিং এবার রংপুরে কৃষকের ধান কেটে দিলো পুলিশ বান্দরবানে হরতালের ডাক দিয়েছে স্থানীয় আ.লীগ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদান যাচ্ছে বাংলাদেশের ১৪০ পুলিশ সদস্য ১ কেজি রসমালাইয়ে ২৫০ গ্রাম কম! চালক-হেলপারদের সন্দেহ হলে ডোপ টেস্ট করান: ডিএমপি কমিশনার বাটা ও ইনফিনিটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা গোররক্ষকদের হাতে নারীসহ ৩ মুসলিম মারধোরের শিকার মধ্যপ্রাচ্যে আরও দেড় হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের ‘কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার টাকা খেয়ে ফেলছেন সরকার দলীয় লোকজন’