artk
সোমবার, আগষ্ট ২৬, ২০১৯ ১:১০   |  ১০,ভাদ্র ১৪২৬
সোমবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৯ ৮:১০

রোজার আগেই রোগীদের প্রস্তুতি

স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ডেস্ক
media
দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করে এ রকম কিছু ইনসুলিন এখন পাওয়া যায়। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব ইনসুলিন দিনে একবার নিতে পারেন। এসবে হঠাৎ সুগার কমে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে

রমজান মাস শুরু হওয়ার খুব বেশি সময় বাকি নেই। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের রোগীরা তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রোজা রাখতে পারেন। এতে সম্ভাব্য জটিলতাও এড়ানো সম্ভব।

ডায়াবেটিস:
ডায়াবেটিস থাকলে অনেকেই রোজা রাখতে ভয় পান। আসলে এতে ভয়ের কিছু নেই। তবে ভয়টা অমূলকও নয়। কারণ খাদ্যের ব্যাপারে তাদের ক্ষেত্রে উপদেশ হলো, সময়মতো এবং প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর খাবার খাবেন। আর যাঁরা ইনসুলিন নেন, তাঁদের খাবারের আগে—অর্থাৎ ১৫-২০ মিনিট আগে ইনসুলিন নিতে বলা হয়। এ জন্য রোজার সময় তাঁরা বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। তবে যদি বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে তাঁরা রোজা রাখলে তেমন কোনো অসুবিধাই হয় না। কিছু বিশেষ সতর্কতা আর নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চললে বেশির ভাগ ডায়াবেটিক রোগীই রোজা রাখতে পারেন। এ জন্য কিছু করণীয় হলো—

১. প্রথমেই  চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন। কেননা অন্য সময়ের তুলনায় সাধারণত এই সময় মুখে খাওয়ার ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ কিছুটা কমিয়ে আনতে হয়। তিনবারের ওষুধ একবার বা দুইবারে এনে সমন্বয় করতে হবে। এই কাজ নিজে নিজে না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. এখন থেকেই সকাল বা দুপুরের ওষুধ রাতে এবং রাতের ওষুধ সাহরির সময় খাওয়ার অভ্যাস শুরু করতে পারেন। অর্থাৎ যাঁরা মুখে খাওয়ার ওষুধ খান, তাঁরা সকালের ডোজটি ইফতারের শুরুতে এবং রাতের ডোজটি অর্ধেক পরিমাণে সাহরির আধা ঘণ্টা আগে খাবেন।

৩. যারা দিনে এক বেলা ওষুধ খান, তারা ইফতারের আগে একটু কম করে খাবেন।

৪. ইনসুলিনের ক্ষেত্রেও সকালের ডোজটি ইফতারের আগে, রাতের ডোজটি কিছুটা কমিয়ে সাহরির আধা ঘণ্টা আগে সমন্বয় করে নেবেন। কতটা কমাবেন, তা চিকিৎসক বলে দেবেন।

৫. দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করে এ রকম কিছু ইনসুলিন এখন পাওয়া যায়। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব ইনসুলিন দিনে একবার নিতে পারেন। এসবে হঠাৎ সুগার কমে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

গর্ভকালীন:
গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস রোজা না রাখাই শ্রেয়। কেননা ওই সময় মায়ের গর্ভে অনাগত শিশুর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি হয় বলে এ সময় মায়ের শরীরে সঠিক মাত্রায় ও নির্দিষ্ট পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পানি ইত্যাদি সরবরাহ করা জরুরি। এ সময় শিশুর জন্য দরকারি কোনো কিছুর অভাব ঘটলে পরবর্তী জীবনে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এ সময় অনেকের বমি বমি ভাব থাকে বা বমি হয়, মাথা ঘুরায়, অনেকে খেতে পারেন না, ওজন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই এই তিন মাস রোজা না রাখাই উচিত।

১. গর্ভকালীন মধ্যবর্তী তিন মাসে গর্ভবতী মায়েরা একটু ভালো বোধ করেন এবং এ সময় গর্ভস্থ বাচ্চার শারীরিক গঠনও তৈরি হয়ে যায়। এ সময় গর্ভবতী মা ইচ্ছা করলে রোজা রাখতে পারেন, যদি অন্য কোনো সমস্যা না থাকে।

২. শেষের তিন মাস একজন গর্ভবতী মাকে বেশ সতর্ক হয়ে চলতে হয়। এ সময় বাচ্চা দ্রুত বাড়ে। তাই দুজনের পুষ্টি নিশ্চিত করতে গর্ভবতী মাকে খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে জোর দিতে হয়। তাই এ সময় রোজা না রাখাই শ্রেয়।

৩. যারা হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ করা অবস্থায় রয়েছেন, যাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তারা রোজা না রাখলেই ভালো করবেন।

হৃদরোগ: জটিল বা ঝুঁকিপূর্ণ হৃদরোগী ছাড়া অন্য হৃদরোগীদের জন্য রোজা বেশ উপকারী। এ সময় বেশ নিয়ম মেনে চলা হয় বলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেই থাকে। হৃদরোগীদের জন্য পরামর্শ হলো-

১. প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তিরা অনায়াসেই রোজা রাখতে পারেন, তবে বয়োবৃদ্ধ হৃদরোগীদের রোজা না রাখাই উত্তম। বিশেষ করে পঞ্চাশোর্ধ্ব হার্টের রোগী, যাঁরা বেশি দুর্বল, তাঁরা দীর্ঘ সময় অনাহারে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন বলে তাঁদের রোজা রাখা অনুচিত। পাশাপাশি হার্ট ফেইলিওর রোগীদের রোজা রাখা উচিত নয়।

২. আনকন্ট্রোল্ড অ্যানজাইনা বা নিয়মিত বুকের ব্যথা থাকে যাঁদের, তাঁদের তিন বেলা ওষুধ খেতে হয় বলে রোজা না রাখাই উচিত।

৩. হৃদরোগীদের রোজা রাখা অবস্থায় যদি খুব বেশি খারাপ অনুভব হয়, তবে দ্রুত রোজা ভেঙে ওষুধ খাওয়া উচিত।

কিডনি রোগ:

কিডনি রোগে আক্রান্তরা রোজা রাখতে পারবেন না- এমন কথা নেই। তবে আকস্মিক কিডনি বিকল রোগে আক্রান্তরা এবং এন্ড স্টেজ রেনাল ফেইলিওর বা শেষ স্তরের কিডনি রোগীদের রোজা রাখা উচিত নয়। বরং রোগ নিরাময় হওয়ার পর রোজা রাখা যাবে।

১. রক্তের ক্রিয়েটিনিন ৩০ শতাংশ বেড়ে গেলে, পটাসিয়াম বেড়ে গেলে রোজা রাখা ঠিক হবে না।

২. যাঁদের কিডনি ফেইলিওরের মাত্রা শেষ পর্যায়ে, তাঁদের পক্ষে রোজা রাখা উচিত নয়।

৩. কিডনির পাথরজনিত রোগে যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা রোজা রাখার সময় পুরো রমজান মাসে অবশ্যই বেশি বেশি পানি পান করবেন।

৪. ডায়ালিসিস গ্রহণকারী রোগীদের রোজা রাখার প্রয়োজন নেই।

অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগী:

রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। তবে রোজা রাখা অবস্থায় ইনহেলার নেওয়া যাবে কি না এ বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেননা ওষুধ সরাসরি রক্তে মিশে গেলে রোজা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সঠিক নিয়মে ইনহেলার নিলে রক্তে ওষুধ মিশতে পারে না বা নগণ্য পরিমাণ মিশতে পারে। এ জন্য সাহরি ও ইফতারের সময় ইনহেলার নিলে ভালো হয়। আর হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে চিকিৎসা দিতে হবে।

কনস্টিপেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্য:

রোজার সময় কনস্টিপেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশি হয়। এর কারণ, পানিশূন্যতা ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া। এ জন্য বেশি করে শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। বিশেষ করে ইফতারের সময় বা পরবর্তী সময় ইসবগুলের ভুসি, লাল আটা ও ঢেঁকিছাঁটা চাল খেতে পারলে ভালো উপকার মেলে। এর পরও সমস্যা থাকলে ল্যাক্সাটিভ ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

সত্যকে এড়ানোর উপায় নেই: কাদের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কমিটি হচ্ছে বিদ্যালয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি অভিনেত্রী স্কারলেট বিএনপি নেতা-কর্মীদের খুন করেছে আ.লীগ: ফখরুল যেভাবে চিনবেন ভালো সিমেন্ট ডেঙ্গুর যাতনা ভুলতেই পারছি না: অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগে সোনাইমুড়ির মেয়র বরখাস্ত কানে এয়ারফোন, ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেলো তরুণের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী কাবিননামায় ‘কুমারী’ শব্দ বাদ দেয়ার নির্দেশ খেলাপি ঋণ কমার সুযোগ নেই স্টোকসের হেলমেট ভাঙলেন হ্যাজলউড শতকোটি টাকা আত্মসাতে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী রশিদ খানের হুঙ্কার! দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজনে ২ প্রতিষ্ঠান রাতের আঁধারে জামালপুর ছাড়লেন সেই ডিসি শ্রীলঙ্কাকে ৭-১ গোলে গুড়িয়ে দিলো বাংলাদেশের কিশোররা রোগীর ওপর খসে পড়ল হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদেরই এগিয়ে রাখছেন মিরাজ দুদকের কাছে ৩ মাসের সময় চেয়েছেন নূর আলী পৃথিবী ধ্বংসে মেতেছেন ট্রাম্প আর বোলসোনারো আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সেবা কার্ড নিয়ে এলো ‘মেডিএইডার’ পদ্মায় ১৬০ টন সিমেন্টসহ কার্গো ডুবি পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট চান বিএনপির রুমিন খেলোয়াড়দের দাঁত অন্যদের দাঁতের চেয়েও খারাপ কেড়ে নেয়া হবে সেই ডিসির শুদ্ধাচার সনদ কাবিননামা থেকে ‘কুমারী’ শব্দ বাদ দেয়ার নির্দেশ উদাহরণ সৃষ্টির মতো শাস্তি হবে ডিসির: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী