artk
রোববার, সেপ্টেম্বার ১৫, ২০১৯ ৪:৩৭   |  ৩১,ভাদ্র ১৪২৬

মহসিন আহমেদ

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ ১:০০

পুঁজিবাদের আগ্রাসনে বাংলা গান : প্রকৃত গীতিকবিদের অবমূল্যায়ন

media

মহসিন আহমেদ

কথায় সুরারোপ করে মানুষের হৃদয় স্পর্শ করার কাজটা কবে, কোথায় শুরু হয়েছিল তা জানি না। তবে এতোটুকু বুঝি যে জাতির সাহিত্য ও সংস্কৃতি যত শুদ্ধ ও মার্জিত, সে জাতি চিন্তাচেতনায় মননে রুচিতে ততো বেশি উন্নত। এখন প্রশ্ন জাগে, আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতি কি শুদ্ধ ও মার্জিত নয়? আমরা কি চিন্তাচেতনায় রুচিতে উন্নত নই? আমরা একেবারেই মার্জিত নই এমনটা নয়। কিন্তু, এতোটুকু যথেষ্ট নয়। যতটুকু শুদ্ধতা আমাদের মাঝে আছে, ততটুক হয়তো আমরা গোটা জাতির কাছে পৌঁছে দিতে পারছি না, কিংবা সবাই তা গ্রহণ করছে না। রুচির পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের রুচিরও পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন সহসাই সম্ভব নয়। লেখকের যেমন স্তর আছে, পাঠকেরও স্তর আছে। বিশেষ করে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে ব্যক্তির রুচির উন্নতি সাধন হয়। 

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছিলাম। বিশেষ করে সংগীত নিয়ে। আধুনিক বাংলা সংগীত নিয়ে, সমকালীন চলচ্চিত্রের গান নিয়ে, আমরা যাঁদেরকে বাংলা গানের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বলে জানি, বিশেষ করে গীতিকবিদের। তাদের মাঝে আজিজুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আবু হেনা মোস্তাফা কামাল, কে জি মোস্তাফা, মাসুদ করিম, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, ফজল এ খোদা ও গাজী মাজহারুল আনোয়ার অন্যতম। কয়েকজন এখনো আমাদের মাঝে আছেন। কিন্তু, কাউকেই সংগীতের অবক্ষয় নিয়ে তেমন কিছু বলতে শোনা যায় না। দুয়েক কথা যিনি বলেন, তিনি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। এতোটুকু যথেষ্ট নয়। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, সংগীতের সোনালি দিন ফিরে পাবার জন্য সম্মিলিত প্রতিবাদ দরকার। এর নেতৃত্বে থাকা দরকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের মত পুরোধা ব্যক্তিবর্গ। বিশেষ করে মিডিয়াবাজদের আগ্রাসনে বাংলা সংগীত তার মৌলিকত্ব হারাচ্ছে। মূলধারা থেকে ছিটকে পড়ছে। বিনোদন সাংবাদিকরা নিউজ করার বিনিময়ে হয়ে যাচ্ছেন গীতিকার। অনেকে রাতারাতি জনপ্রিয়ও হয়ে গেছেন। পরিচালক, প্রযোজক প্রচারের কথা ভেবে ছন্দ কাব্য না জানা বিনোদন সাংবাদিকদের দিয়ে গান লিখিয়ে নিচ্ছেন। গতবছর এ বিষয়ে কয়েক পর্ব লেখার পরে কয়েকজন বিনোদন সাংবাদিক আমাকে আনফ্রেন্ড করেছেন। দুয়েকজন আগ্রহ নিয়ে গান রচনা কৌশল আয়ত্ব করার জন্য পরামর্শও চেয়েছেন।

দুবছর আগে ‘কালের কণ্ঠ’ বিনোদন পাতায় এক তরুণ গান রচয়িতার ছবিসহ নিউজ করেছে “গান লিখতে আবার ছন্দ-টন্দ লাগে নাকি”। আগেও অনেকবার বলেছি, যারা ছন্দ আয়ত্ত করতে ব্যর্থ, তারাই ছন্দকে অস্বীকার করে। একজন রমণীকে সাজাতে যেমন সুন্দর পোশাক ও অলংকার লাগে, তেমন একটি লেখা পরিপক্ব করে তুলতে ছন্দ, কাব্য, অলংকার লাগে। আর ছন্দ, কাব্য, অলংকারযুক্ত কথায় উপযুক্ত সুরারোপ হলে গানটি মহাকালের হয়ে ওঠে। পাহাড়ের কান্নার কথা, “অনেক বৃষ্টি ঝরার” কথা আমরা ভুলি নি, এমন অসংখ্য গান আছে, যার কথা কোনোদিন ভোলবার নয়। পরে সেই তরুণ মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান পরিচালিত অনলাইন পাঠশালা “বাংলা গান রচনা কৌশল ও শুদ্ধতা” গ্রুপে নিউজ লিংক পোস্ট করেছেন। কালের কণ্ঠে বিনোদন পাতা কে দেখেন, তা সবাই জানেন। তিনিও এখন জনপরিচিত গীতিকার। সর্বত্র তার বিচরণ। হাতে গোনা কিছু শব্দে আবদ্ধ তার লেখা। ছন্দ কাব্যের ধার ধারেন না। আবার তারা পুরস্কারও পাচ্ছেন। আমি অবাক হই! মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ও গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মতো ব্যক্তিদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে দেখে। যারা আমাদের শুদ্ধতার পাঠ দিচ্ছেন। তাদের বিচারেই কীভাবে ভুল ছন্দ, অন্ত্যমিলে রচিত গান পুরস্কৃত হয়! অবশ্য, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান বলেছেন, তারা যে ফলাফল দিয়ে আসেন, তা-ই যে চূড়ান্ত তা তিনি নিশ্চিত নন। ডেইলি স্টার ও চ্যানেল আই মিউজিক এওয়ার্ড দিচ্ছে বিগত কয়েক বছর ধরে। ডেইলি স্টার দিয়ে থাকে গীতিকবিতার জন্য আর চ্যানেল আই সুরারোপিত গানের জন্য। ডেইলি স্টার পুরস্কার দুবার গ্রহণ করার সৌভাগ্য আমারও হয়েছিল। পুরস্কৃত দুটো গান চিরকুট ব্যান্ডকে সুরারোপ করার দায়িত্ব দিয়েছিল ডেইলি স্টার। উপযুক্ত সুরের অভাবে গান দুটো তার মৌলিকত্ব ও ছন্দ কাব্যমান হারিয়েছে। পরে আমি চিরকুট ব্যান্ডকে গান দুটো প্রচার করতে নিষেধ করেছি।

একবার একজন সংগীত পরিচালকের সাথে কথা বলে জানলাম, সিনেমার গান করার বিষয়ে তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। তারা চাইলেই যে কারও গান নিতে পারে না। বাণিজ্যিক স্বার্থের কথা ভেবে পরিচালক, প্রযোজকগণ বিনোদন সাংবাদিকদের দিয়ে গান লিখিয়ে নিচ্ছেন। সর্বত্র চলছে পুঁজিবাদের আগ্রাসন। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, এখন যারা গান লিখছেন তারা কোনো না কোনো জাতীয় দৈনিকের বিনোদন সাংবাদিক। সাংবাদিক হলে গান লেখা যাবে না এমনটা নয়। গান রচনা শেখার বিষয়, রচনা কৌশল জানতে হয়। রচনা কৌশল জানলেই যে গান হবে এমনটা নয়। রচয়িতার মাঝে কবিত্বশক্তি থাকতে হবে। 

গত দুবছর আগে আমিরুল ইসলাম নামে একজন সিনেমার গান রচনা করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি পুরস্কার পাওয়ার আগে গীতিকার হিসেবে কেউ ওনার নাম শুনেছেন কিনা জানি না। হয়ত প্রথমবার গান লিখেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথম লিখে পুরস্কার পাওয়া দোষের নয়। গানগুলো শোনার পরে মনে হলো, সংগীতের একটি কবর রচনা হলো। 

গতবছর মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ঈত্তেফাকে লিখেছিলেন, “গানের কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার কেন নয়” কবি নাসির আহমেদ ও আবিদ আনোয়ারকে এ বিষয়ে বহুবার বলতে শুনেছি। এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচাক শামসুজ্জামান খানের সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি বলেছেন, “গান সাহিত্যের মধ্যে পড়ে না, এ বিষয়ে শিল্পকলায় কথা বলতে পারেন”। আমি নির্বাক হয়ে রবীন্দ্রনাথ ও বব ডিলানের কথা ভাবতে ভাবতে চলে এলাম। যারা গীতিকবিতা রচনা করে নোবেলজয়ী হয়েছিলেন। গীতিকবিদের এই করুণদশার কথা ভেবেই হয়ত লুৎফর রহমান রিটন বলেছেন, “আমি কেন গীতিকার হতে চাই না”। সবাই যদি এপথ ত্যাগ করে, তবে বাংলা সংগীতের ভবিষ্যত কি অন্ধকারাচ্ছন?

২০১৭ সালে ইত্তেফাক ঈদসংখ্যায় “আধুনিক বাংলা গানের উত্তর প্রজন্ম” শিরোনামে আসলাম আহসান একটি রচনা লিখেছেন। তিনি এক জায়গায় লিখেছেন, “অতি সম্প্রতি যারা গান লিখছেন, যে কোনো অর্থেই তাদের পড়াশোনা কম মনে হয়। এত ক্ষুদ্র শব্দভাণ্ডার নিয়ে তারা গানের পর গান লিখে যাচ্ছেন। একজন আদর্শ গীতিকবির আবির্ভাবে আশ্বস্ত হতে আরও সময় লাগবে মনে হচ্ছে।” তিনি হয়ত চলচ্চিত্রের গান রচয়িতা বিনোদন সাংবাদিকদের কথা বলেছেন। তিনি হয়ত জানেন না মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের নেতৃত্বে একটি শুদ্ধতম প্রজন্ম গড়ে উঠছে। যারা ছন্দ, কাব্য, উপমা, উপমান, চিত্রকল্প, প্রতীকী জেনেই গীতিকবিতা রচনা করছে। যারা সুযোগের অভাবে কাজ করতে পারছে না। এই শুদ্ধতম প্রজন্ম কাজ করার সুযোগ পেলে বাংলা গানের সোনালি দিন আবার ফিরে আসবেই এ আমার বিশ্বাস। মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের মতো যারা আছেন, তাদের উচিত এইসকল তরুণ গীতিকবিদের পরিচয় করিয়ে দেয়া। বিশেষ করে পরিচালক, প্রযোজক, সুরকার, শিল্পীদের সাথে। সবাই আন্তরিক হলে শুদ্ধধারার গানের বাণীর মতোই সুন্দর রুচিবান শ্রোতার সংখ্যাও দিনে দিনে বাড়বে। বাংলা গান মহাকাল অতিক্রম করে আরও দূর এগিয়ে যাক এমনটাই প্রত্যাশা।

ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির খবর এখন টক অব দ্য কান্ট্রি: রিজভী ‘বন্দুকযুদ্ধে' রোহিঙ্গা নিহত ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষ ফওজিয়া শোভান-রাব্বানীর বিচার চান সোহেল কোনো অন্যায়কারী, চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেবে না ছাত্রলীগ: নাহিয়ান ডিএসইতে লেনদেন কমলেও সিএসইতে বেড়েছে কুমিল্লায় বাসচাপায় ৩ ছাত্রলীগ নেতা নিহত ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ফিলিস্তিনের ‘প্রত্যেককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে’ মাসিক বেতনে বাস চালক নিয়োগের নির্দেশ নেদারল্যান্ডসের ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনা ঢাকায় আসছেন ঋতুপর্ণা ক্যাডারদের জন্য অশনিসংকেত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩ বছর পরেও খোঁজ নেই পরীক্ষার র‍্যাবের হামলার বিচার দাবি জবি শিক্ষার্থীদের সড়কে অবরোধ বাসর ঘরে ঢুকেই দেখলেন স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সারদায় প্রধানমন্ত্রী শোভন-রাব্বানী পদ হারানোয় আনন্দ উল্লাস অসুস্থ নেতার শয্যাপাশে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা দুর্গাপূজায় ব্যাং’র পোশাকে অর্ধেক ছাড় জবিতে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাদের দৌরাত্ম্য কিশোরগঞ্জে বাসচাপায় ২ স্কুলছাত্র নিহত ফিলিস্তিন রক্ষায় কাবার ইমামের ঐক্যের ডাক পূজা ও শরৎ উপলক্ষে আর্ট এনেছ নতুন পোশাক ঢামেকে নবজাতককে রেখে পালালেন মা-বাবা আফগানিস্তানের বিপক্ষে সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ ভাসমান অভিবাসীদের উদ্ধার করা জাহাজটিকে বন্দরে ভিড়তে দিল ইতালি সাভারে আ.লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা মহাকাশে সিমেন্ট গুলছেন বিজ্ঞানীরা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার