artk
বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯ ৫:৩০   |  ২,শ্রাবণ ১৪২৬
সোমবার, এপ্রিল ৮, ২০১৯ ১:০৯

বৈশাখী মেলার জন্য হাতি-ঘোড়া বানা‌তে ব্যস্ত মা‌নিকগ‌ঞ্জে বণিকরা

মো. সো‌হেল রানা খান, মা‌নিকগঞ্জ সংবাদদাতা
media
সাটুরিয়ার বণিক পরিবারের দাবি, তাদের যদি গ্যাস সরবারহ ও সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হতো, তাহলে তাদের জীবনের মান উন্নয়নে আরও সুবিধা হতো।

আর কয়েকদিন পরেই পহেলা বৈশাখ। বাংলা বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিন। বাঙা‌লির প্রা‌ণের উৎসব পহেলা বৈশাখ মা‌নেই গ্রা‌মে গ্রা‌মে মেলা। পহেলা বৈশাখের মেলায় বিক্রির জন্য হাতি, ঘোড়া, মুকুট, নৌকা, পাখির সাজ তৈরি‌তে মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটু‌রিয়ার বণিক পরিবারের সদস্যরা এখন অনেক ব্যস্ত। তাদের তৈরি সাজ (খাবার) আসছে পহেলা বৈশাখের মেলায় বিক্রি হবে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাটারা গ্রামের কয়েকটি পরিবার সাজ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। পরিবারগুলো বাপ-দাদার পেশা হিসেবে এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছে। প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে তারা। বিশেষ করে বৈশাখী মেলায় তাদের কদর বেশি হয়। বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে ফরমায়েশ (অগ্রিম অর্ডার) দেন হাতি, ঘোড়া, মুকুট, নৌকা, পাখিসহ বাহারি রঙের সাজের। ব‌নিক প‌রিবা‌রের ব্যস্ত সময় পার করছে সাঁজ শিল্পীরা।

সরেজমিন ‌গি‌য়ে দেখা যায়, উপ‌জেলার ভাটারা গ্রামের যে কয়টি বণিক পরিবার রয়েছে তারা সবাই ব্যস্ত সাজ তৈরি করতে। পহেলা বৈশাখের কাজ নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছে বনিক পরিবারগুলোর ছোট বড় সবাই। সকালের সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের সাজ তৈরি এবং তা প্রক্রিয়া করার কাজ। গুড় ও চিনি পানিতে মিশিয়ে জাল করে রস বানিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাধু নানা রকমের সাজ। কেউ তৈরি করছে গুড়ের তৈরি বাতাসা আবার কেউ তৈরি করছে চিনির সাদা হাতি, ঘোড়া, মুকুট, নৌকা, পাখি, কদমা, মাছসহ নানা ধরনের সাজ।



কে কার থেকে বেশি সাজ তৈরি করতে পারে এ নিয়ে চলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। এ সাজ তৈ‌রির খেলা চলে মধ্যরাত পযর্ন্ত। বাবা মাকে সাহায্য করতে ঘরের শিশুরাও পিছিয়ে নেই। মা বাবার কাজ দেখে শিখেছে কিভাবে সাজ তৈরি করতে হয়। কিন্তু বাবা মা চান না ছেলে মেয়েরা এ পেশায় আসুক। তাদের চাওয়া সন্তানরা লেখাপড়া করুক। গুড় দিয়ে তৈরি করছে লাল রঙের বড় বাতাসা ও চিনি দিয়ে তৈরি করছে সাদা বাতাসা।

এ ছাড়া কাঠের ফর্মার চিনির রস তৈর করে তা দিয়ে তৈরি করছেন হাতি, ঘোড়া, মুকুট, নৌকা, পাখি, কদমা, মাছসহ নানা ধরনের সাজ। এসব সাজ তৈরি হয় গুড় ও চিনি দিয়ে। বৈশাখে এলাকার বিভিন্ন মেলায় যা বিক্রি হবে। এ সব সাজ বিন্নির সঙ্গে বিক্রি করা হয়। মেলায় শুধু শিশুদের নয় বড়দের ও মন আকৃষ্ট করে ভাটারার বনিকদের তৈরি করা এসব সাজ। আর বৈশাখী মেলায় গিয়ে বিন্নির সঙ্গে সাজ না কিনলে মেলাই করা হয় না গ্রামের মানুষের।

ভাটারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ননী গোপাল বনিক গুড়ের বাতাসা তৈরি করছেন। সঙ্গে যোগান দিয়ে‌ছে স্ত্রী আলো রাণী বনিক। চুলার মধ্যে আখের গুড় জাল করে একটি ছিদ্র পাত্র দিয়ে ঢেলে বড় বড় বাতাসা সাজ তৈরি করছে। এ বাতাসা বিন্নি দিয়ে খেতে খুবই মজার। প্রায় ৭০ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত সে। ননী বনিক আরও জানায়, খাটি আখের গুড় ছাড়া এ সাঁজ বানানো যায় না। রাজশাহী থেকে ১ মণ খাটি গুড় কিনতে ২ হাজার ৭শ টাকা লাগে। আর একমণ গুড় দিয়ে ৩৫ থেকে ৩৬ কেজি বাতাসা তৈরি হয়। তবে এলাকার হাট বাজারে ‌বি‌ক্রি হওয়া আখের গুড়ে চিনি মেশানো থাকায় এ গুড় দিয়ে সাঁজ তৈরি করা যায় না।

ভাটারার বাসুদেব বনিক সে চিনি দিয়ে তৈরি করে মুকুট, হাতি, ঘোড়া, মাছ, নৌকা, পাখি ও লিচুসহ বিভিন্ন সাজ। কাঠের ফ্রে‌মে চিনি জাল করে ঢেলে দিয়ে ৫ মিনিট পর তৈরি হচ্ছে এসব সাজ। বাপ দাদার পূর্বের কাজ এখনও ধরে রেখেছে সে। এ পেশা ছাড়া অন্য কোন পেশা নেই তার। পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে এ

সাজের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে সে।
ভাটারার শ্যামল বণিক জানায়, স্বাধীনতার আগে ও পরে এই ভাটারা গ্রামে প্রায় ৮০০ বনিক পরিবার ছিল। বেশির ভাগ বনিক ভারতে চলে যাওয়ায় এখন মাত্র ১০ ব‌নিক পরিবার সাজের পেশা ধরে রেখেছে। বৈশাখ আর শীতের সময় বেশি চাহিদা থাকে সাজের। কারণ ওই সময় মেলা ও ওরস বেশি থাকে। প্রতিদিন সব মিলিয়ে ৪ থেকে ৫ মণ সাজ তৈরি করা যায়।

মানিকগঞ্জ ছাড়াও এ সাজ টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, মির্জাপুর, নাগরপুর ও উত্তরাঞ্চলে পাইকারি বিক্রি করা হয়। এক মণ (৪০ কেজি) এই সাজ তৈরি করতে খরচ হয় দুই হাজার ৮০০ টাকা। বিক্রি করা হয় তিন হাজার ২০০ টাকা।

ভাটারা গ্রা‌মের তপন বনিক, দেবেশ বনিক, নীলকান্তি বনিক, গোবিন্দ বনিক ও কমল বনিক জানায়, সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে তাদের এ সাজ দেশের বাইরে রপ্তানি করা যেতে পারে। গ্যাসের ব্যবস্থা থাকলে এ সাজ তৈরি করতে খরচ কম হতো। তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা নিয়ে এ সাজে তৈ‌রির ব্যবসা করে থাকে।

এ ছাড়া সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা বা ব্যাংক থেকে সুদ মুক্ত ঋণ পেলে এ পেশাকে ধরে রাখা সম্ভব হতো তা‌দের জন্য। তাদের অতি কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়।

সাটুরিয়ার বণিক পরিবারের দাবি, তাদের যদি গ্যাস সরবারহ ও সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হতো, তাহলে তাদের জীবনের মান উন্নয়নে আরও সুবিধা হতো।

‘রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি হতে পারে’ এইচএসসিতে ফেল করে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ বৈদেশিক বাণিজ্য আধুনিকায়নে এনবিআরের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে র‌্যাব আদালতে মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি কেন? মা পেলেন জিপিএ ৪, মেয়ে ৫ চাঁদের সাতটি মজার তথ্য জেনে নিন দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চান সুজন সিবিএর সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় নতুন কোচ খুঁজছে এশিয়ার দেশগুলো হিন্দু ছাত্রীকে কোরআন বিলি করার নির্দেশ দিলেন ভারতের আদালত রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হবে পাকিস্তানে জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদ গ্রেপ্তার শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে চরম দুর্ভোগ! এইচএসসিও পাস করলেন সেই মা আমিরাতের তেল ট্যাংকার গায়েব করেছে ইরান! ব্যাংক ঋণে করপোরেট গ্যারান্টিতে সতর্কতার তাগিদ পুরান ঢাকায় শতবর্ষী ভবন ধস সেটেলমেন্ট অফিসের দুই কর্মকর্তা গ্রেপ্তার সরকারি জমি উদ্ধারে ডিসিদের দেয়া হবে পুরস্কার ইউরোমানি অ্যাওয়ার্ডস পেলেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কখনোই আলোচনা হবে না: ইরান প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ইনজামাম ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পথে মুশফিকুর রহিম দলে অনেক অতিথি পাখি ঢুকেছে: তথ্যমন্ত্রী শ্রীলঙ্কায় সব ম্যাচ জিততে চায় বাংলাদেশ ‘পুঁজিবাজার ধসের জবাব চাই’ স্লোগানে মতিঝিলে বিক্ষোভ শ্রীলঙ্কা সফরে টাইগারদের ব্যাটিং কোচ ভারতের ওয়াসিম জাফর বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ‘ই’ গ্রুপে বাংলাদেশ নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা আগেও ঘটেছে: প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা