artk
বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ ১০:৫২   |  ১১,বৈশাখ ১৪২৬
মঙ্গলবার, এপ্রিল ২, ২০১৯ ৮:৫৩

রাণীনগরে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই চলে মাদরাসার পাঠদান

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ সংবাদদাতা
media
পরিত্যক্ত এই ভবনগুলো যে কোন সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ না থাকার কারণে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত কক্ষেই পাঠদান করাতে বাধ্য হচ্ছেন। 

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত পূর্বাঞ্চল আবাদপুকুর। এক সময় এই অঞ্চলটি ছিল দুর্গম ও চরম অবহেলিত। এই অঞ্চলের গরিব ও ঝরেপড়া সন্তানদের ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত করার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয় আবাদপুকুর দাখিল মাদরাসা। এর পর এটি ২০১১ সালে শুধুমাত্র একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত অবকাঠামোগত উন্নয়সহ কোন কিছুরই ছোঁয়া লাগেনি।

প্রতিষ্ঠার এক দশকের বেশি সময় পার হলেও এখনো মাদরাসাটিতে আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই লাগেনি। সরকার যেখানে অবহেলিত (মাদরাসা শিক্ষা) ইসলামী শিক্ষার প্রসার ঘটানো ও ইসলাম শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করার লক্ষ্যে দেশের ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে সার্বিক উন্নয়নের জন্য নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন অথচ মফস্বল এলাকার এই ইসলামি বিদ্যাপিঠটি এখনো অবহেলিত ও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। 

মাদরাসাটিতে কক্ষ সংকটের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠগ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও কোন নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকায় মাদরাসার সব কিছুই থাকে নিরাপত্তাহীনতায়। একাধিকবার চুরি হয়ে গেছে পানি তোলার মেশিন। গাছের নীচে ইটের পুরাতন কক্ষের প্রাচীর কোথাও ভেঙে গেছে আবার টিনের ছাউনির কোথাও টিন উড়ে ফাঁকা হয়ে গেছে আর দীর্ঘদিনের পুরাতন টিনগুলোতে রয়েছে অসংখ্য ফুটো। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে টিনের ছাউনির কক্ষগুলোতে পাঠদান করানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। টিনের ফুটো দিয়ে কক্ষগুলোতে বৃষ্টির পানি পড়ে জমা হয় হাঁটুপানি। বর্ষা মৌসুমের অধিকাংশ সময় ঝুঁকিপূর্ণ বারান্দায় কিংবা গাছের নিচে অথবা মাদরাসাটি ছুটি দিতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ।

পরিত্যক্ত এই ভবনগুলো যে কোন সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ না থাকার কারণে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত কক্ষেই পাঠদান করাতে বাধ্য হচ্ছেন। 

সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বার বার অবগত করেও কোন কাজ হয়নি বলে জানান শিক্ষক ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। 

প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল বারী জানান, সরকারের নীতিমালা অনুসারে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ইসলামি শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মাদরাসা প্রতিষ্ঠান থাকার কথা রয়েছে ১৮টি করে অথচ আমাদের উপজেলায় রয়েছে মাত্র ৬টি দাখিল মাদরাসা। তার পরও আমাদের এই ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো মিলেনি সরকারি কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। বেহাল দশায় পড়ে আছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। কারো নজর নেই। আমাদের ভাগ্যে মিলেনি আধুনিক মানের কোন সরকারি ভবন ও সুযোগ-সুবিধার। এই মাদরাসার বর্তমান যা রয়েছে তা সবই দাতা ব্যক্তি ও আমাদের দ্বারা সৃষ্টি। মাদরাসাটি স্থাপনের সময় দাতা ব্যক্তি ও শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হয় ৮টি কক্ষ ও দুই বছর আগে সেকায়েপ থেকে দানকৃত অর্থ দিয়ে তৈরি করা হয় আরোও ২টি কক্ষ। কিন্তু ৮টি কক্ষের টিনগুলো দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে একাধিকবার উড়ে যাওয়ায় ও মরিচা ধরে ফুটো হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে কক্ষের ভিতরে পাঠদান করানো সম্ভব হয় না। মাদরাসায় আমরা ইসলামি বিভাগের ১ম শ্রেণি হতে দাখিল (এসএসসি) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। মাদরাসাটিতে বর্তমানে এলাকার অসহায়, গরিব ও খেটে-খাওয়া পরিবারের প্রায় তিন শতাধিক ছেলে-মেয়েরা ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ করছে। 

মাদরাসাটি অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক ইসলাম শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়ে আসছে এই অঞ্চলের সন্তানদের মাঝে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ফলাফলে শতভাগ পাশ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পেয়ে আসছে। 

তিনি আরো বলেন, অবহেলিত এই অঞ্চলে অনেক বছর ধরে ইসলাম শিক্ষার জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসলেও এখনো এই ইসলামি বিদ্যাপিঠটিতে আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। বর্তমানে এই বিদ্যাপিঠ নানা সমস্যায় জর্জড়িত। সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কক্ষ সংকট। কক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত কক্ষে ও কক্ষের বারান্দায় গাদাগাদি করে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষকদের জন্য নেই আলাদা কক্ষ। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাদরাসার ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পাঠগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। 

এছাড়াও ঝড়ের মৌসুমে আমরা থাকি চরম নিরাপত্তাহীনতায়। কারণ কখন ঝড় এসে কক্ষের টিনের ছাউনি উড়ে নিয়ে যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। ঝড়ে কক্ষের টিনগুলো উড়ে যাওয়ায় বার বার বিপাকে পড়তে হয়। মাদরাসার এহেন অবস্থা দেখে অনেক পরিবারই তার সন্তানকে মাদরাসায় আসতে দেয় না। আমরা শিক্ষকরা রয়েছি চরম বিপাকে।  

মাদরাসা শিক্ষার্থী খাদেমুল ইসলাম, নাজমিন আক্তারসহ অনেকেই জানায়, আমরা এই মাদরাসার অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা গরিব, অসহায় ও খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তান। অনেক টাকা খরচ করে নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর মতো সামর্থ আমাদের পরিবারের নেই। তাই আমরা এই মাদরাসায় ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করছি। আমরা কক্ষের অভাবে পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই গাদাগাদি করে পাঠ গ্রহণ করছি। 

এছাড়াও নিরাপত্তা প্রাচীর নেই, মেয়েদের জন্য নেই কমন ও ওয়াশ রুম, আধুনিক মানসম্মত বহুতল ভবন, নেই শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব ও গ্রন্থাগার। যার কারণে আমরা গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়তই যুগোপযুগি ইসলামি শিক্ষার অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে পারছি না। 

মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও দাতাসদস্য রুহুল আমীন বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছে পূরণের লক্ষ্যেই প্রায় ৯৮শতাংশ জমির উপর এই অঞ্চলের ঝরেপড়া গরিব, অসহায়, খেটেখাওয়া পরিবারের সন্তানদের মাঝে ইসলাম শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই এখন পর্যন্ত মাদরাসাটিতে লাগেনি। অনেকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বিভিন্ন সমস্যার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ফল পাওয়া যায়নি। যদি এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে সম্প্রসারণ করে আধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে একটি সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে শিক্ষার্থীরা ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। ফলে এই প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার মানুষের মাঝে সন্তানদের মাদরাসায় পাঠানোর প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং ঝড়ে পড়া অনেক কমে যাবে। 

এছাড়াও মাদরাসায় যাবার একমাত্র মাটির রাস্তাটিতে বর্ষা মৌসুমে হাঁটু পরিমাণ কাদার সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় যেতে চায় না। অনেক অফিসের দুয়ারে ধর্না দিয়েও রাস্তাটিতে এখনো ইট বিছাতে পারিনি।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন, বর্তমানে ওই মাদরাসাটির খুবই করুণ অবস্থা। আমি ওই মাদরাসা সম্পর্কে সবকিছুই জানি। উপজেলা প্রশাসন ইচ্ছে করলে মাদরাসাটিতে যেকোন উপায়ে সহায়তা করতে পারেন। আমি ঊর্ধ্বতন সকল বিভাগকে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত করেছি তাদের মর্জি অনুযায়ী ছোঁয়া লাগবে বিদ্যাপিঠটিতে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, ওই মাদরাসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলাম। সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানাবো। আশা রাখি এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কিছু করার সুযোগ থাকলে তা আলোচনা করে প্রদান করার চেষ্টা করবো। 

মোবাইল চুরি: সাংবাদিকদের আটকে রাখলেন শমী কায়সার অস্বাভাবিক কিছু দেখলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর ফুফু হামিদা খানমের ইন্তেকাল বাসা-বাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ আর নয়: প্রতিমন্ত্রী ১০ জন নারীর মধ্যে সাতজনই পরকীয়ায় লিপ্ত শরবত খাওয়াতে আসা মিজানুরের ‘মানসিক সমস্যা’: ওয়াসার এমডি ডায়াবেটিস নিরাময় করতে জার্মানিতে অভিনব উদ্যোগ গেম অফ থ্রোনসের শুটিং হলো যে জাদুময় জায়গায় চাপমুক্ত থাকবে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের শেয়ার হোল্ডাররা শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে পদত্যাগের নির্দেশ ‘ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে’ মানুষের দাড়ি কি কুকুরের পশমের চেয়েও বিপজ্জনক? ৩০ এপ্রিল শাহাবাগে ঐক্যফ্রন্টের গণজমায়েত ভোটের মেশিন থেকে বের হলো সাপ শেখ হাসিনা আমাকে প্রতিবছর মিষ্টি পাঠান: মোদি বন্ড পণ্য অবৈধভাবে বিক্রি করছে অলিম্পিক এক্সেসরিজ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইভিএম ব্যবহারের বিকল্প নেই: সিইসি শেষবার জায়ানকে দেখতে শেখ সেলিমের বাসায় প্রধানমন্ত্রী সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কেডস ও কিপিং গ্লাভস দিলেন তামিম প্রক্টরের আশ্বাসে নীলক্ষেত ছাড়লেন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিতে সম্মত বাংলাদেশ-মালদ্বীপ রণদা প্রসাদ হত্যায় অভিযুক্ত টাঙ্গাইলের মাহবুবুরের রায় যে কোনো দিন ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে রিট হাতিকে চাঁদা না দেয়ায় শূন্যে তুলে আছাড়, ইজিবাইকচালক মরণাপন্ন! পাবনায় তিন পুলিশ হত্যার দায়ে ৮ চরমপন্থীর যাবজ্জীবন অভিনেতা সালেহ আহমেদ আর নেই বিশ্বকাপ দল নিয়ে সমালোচনা বন্ধের আহ্বান তামিমের ৩শ রান চেজ করে জেতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে: তামিম ঢাকায় এলো জায়ানের লাশ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন