artk
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ ৯:০০   |  ১২,বৈশাখ ১৪২৬

স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, মার্চ ২৬, ২০১৯ ৫:২০

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে কাঁদলেন মাহবুব তালুকদার

media

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তুলে ধরলেন মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস। এ সময় দর্শক সাড়িতে অনেককেই চোখ মুছতে দেখা যায়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তুলে ধরলেন মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস। এ সময় দর্শক সাড়িতে অনেককেই চোখ মুছতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য দেয়ার সময় এমনই দৃশ্যের অবতারণা হয়। 

‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্যোগে এ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আজ আমার কার কথা মনে পড়ছে আপনারা জানেন? আমার মনে পড়ছে বঙ্গবন্ধুর কথা। আমার পরম সৌভাগ্য যে, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সরকারিভাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। অনেক স্মৃতি। আজ মাত্র দু’টি বলবো।’

‘১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওই দিনই তিনি আমায় ডেকে বলেন-মাহবুব তুমি আমার সঙ্গে থাকবা। আমাকে রাষ্ট্রপতির সহকারী প্রেস সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। পদবি বড় কথা নয়, দায়িত্ব অর্পিত হওয়ার পর স্বভাবতই আমি খুব খুশি হই।’

স্মৃতি-কাতর মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পড়ে, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর ডিকটেশন নেওয়ার। সিদ্ধান্ত হয়-দুপুরে খাওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর বিশ্রামের সময়টুকুতে আমি তার রুমে ঢুকে যাবো। তিনি আমাকে বলেন-যদি কোনো অজুহাতে ডিকটেশন দেয়ার জন্য তিনি সময় না দিতে পারেন, তাহলে আমি যেন জোর করে ডিকটেশন নিই।’

 ‘সেই মতে, আমি পরপর তিনদিন বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর ডিকটেশন নিই। তার ডিকটেশন রেকর্ডও করি। চতুর্থ দিন এসে বঙ্গবন্ধু বেঁকে বসেন। বলেন, তোমার জন্য তো আমি বিশ্রামটুকুও নিতে পারছি না। আমি তাকে বলি-আইয়ুবের শাসন, আপনার ছয় দফা, পাকিস্তানের জেলে বন্দির দিনগুলো, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা-এ রকম গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যায়ের বিষয়গুলো নিয়ে তো আপনাকে ডিকটেশন দিতে হবে। আপনার বিশ্রামের সময় আপনাকে বিরক্ত করা আমারও ভালো লাগে না। তাই আপনি আমাকে অন্য একটা সময় বের করে দিন।’

‘বঙ্গবন্ধু বলেন- আমি সমস্ত কাজ গুছিয়ে আনছি, পরিবারের (সদস্য) বিয়ে শাদি শেষ করছি। সামনেই ডিকটেশন নেয়ার সময় বের করে দেবো। কোনো কিছুই আটকে থাকবে না। এরপরই ঘটে সেই ঘৃণ্য আগস্ট,’ বলেন এই নির্বাচন কমিশনার। 

 মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘দ্বিতীয় ঘটনাটি ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসের। বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফর রহমান যেদিন মারা যান, সেদিন আমি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সারাদিন ছিলাম। চল্লিশার দিনে ঠিক হয়, বঙ্গবন্ধু টুঙ্গীপাড়ায় যাবেন। সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ, তিন বাহিনীর প্রধান ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা থাকবেন।’

‘গাজী জাহাজে টুঙ্গীপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়। আমার জাহাজ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা না থাকায়, কাপড়-চোপড় সঙ্গে নেয়ার কথা মনে হয়নি। রাতে জাহাজ ছাড়লে দেখি, আমার শোবার কোনো জায়গা নাই। একপাশে একটি খালি সোফা পেয়ে শুয়ে পাড়ি। পাশেই তখনকার এডিসি রাব্বানী সাহেব ছিলেন। মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। দেখি, রাব্বানী জেগে আছেন। আমার মাথার নিচে বালিশ। আমি অবাক হয়ে রাব্বানীকে জিজ্ঞেস করি-এই বালিশ আমার মাথার নিচে কে দিলেন? রাব্বানী বলেন-রাতে বঙ্গবন্ধু রাউন্ডে এসেছিলেন। তিনি দেখেন- আপনি মাথার নিচে হাত দিয়ে সোফায় শুয়ে আছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর রুমে গিয়ে বালিশ নিয়ে এসে আপনার মাথার নিচে রেখে গেছেন।’

 এই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন মাহবুব তালুকদার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলতে থাকেন-‘আমি জানতাম বঙ্গবন্ধুর দু’টি বালিশ ছাড়া ঘুম হয় না। তখন আমি বালিশ ফিরিয়ে দিতে বঙ্গবন্ধুর রুমের দিকে যাওয়ার কথা বলি। কিন্তু রাব্বানী জানান, গিয়ে লাভ নেই। বঙ্গবন্ধু দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছেন।’

 

‘‘ভোর পাঁচটা। জাহাজ চলছে। সুনশান নীরবতা চারদিকে। জাহাজের সামনের দিকে এগিয়ে দেখি, একটি ইজি চেয়ারে বসে বঙ্গবন্ধু কবিতা আবৃত্তি করছেন। ‘নমো নমো নম, সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি/গঙ্গার তীর, স্নিগ্ধ-সমীর, জীবন জুড়ালে তুমি।’ আর কবিতা আবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে তিনি পা দুলাচ্ছেন,’’ বলেন মি. তালুকদার। 

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণের এ পর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে যেন নীরবতা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বক্তৃদা চালিয়ে যাচ্ছেন জাতির পিতার সান্নিধ্য পাওয়া তৎকালীন তরুণ অফিসার মাহবুব তালুকদার। 

তিনি বলতে থাকেন-‘আবৃত্তি শেষে বঙ্গবন্ধু আমাকে খেয়াল করেন। বলেন- মাহবুব, রাতে ভালো ‍ঘুম হয়েছে তো? আমি বললাম-না। কেন? আমি তো তোমার মাথার নিচে বালিশ দিয়ে আসলাম। উত্তরে বঙ্গবন্ধুকে বলি, আপনি আমার মাথার নিচে বালিশ দিয়ে এলেন। আপনিই বলুন, আপনি কারো মাথার নিচে বালিশ দিয়ে এলে তার পক্ষে কি আর ঘুমনো সম্ভব!’

এরপর আর কোনো কথা বলতে পারছিলেন না মাহবুব তালুকদার। অস্পষ্ট স্বরে কেবল সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে নিজের আসনের দিকে চলে যান এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। মাঝে বক্তব্য দেয়ার সময় অশ্রুসজল চোখ মুছতেও দেখা যায় তাকে। অন্যদের চোখেও তখন চিকচিক করছিল জলে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ( সিইসি) কেএম নূরুল হুদাসহ অন্য নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৩৭তম খুলনা দিবস ‘অনেকের সঙ্গেই পরকীয়ায় আসক্ত আমার স্বামী’ মোবাইল চুরি: সাংবাদিকদের আটকে রাখলেন শমী কায়সার অস্বাভাবিক কিছু দেখলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর ফুফু হামিদা খানমের ইন্তেকাল বাসা-বাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ আর নয়: প্রতিমন্ত্রী ১০ জন নারীর মধ্যে সাতজনই পরকীয়ায় লিপ্ত শরবত খাওয়াতে আসা মিজানুরের ‘মানসিক সমস্যা’: ওয়াসার এমডি ডায়াবেটিস নিরাময় করতে জার্মানিতে অভিনব উদ্যোগ গেম অফ থ্রোনসের শুটিং হলো যে জাদুময় জায়গায় চাপমুক্ত থাকবে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের শেয়ার হোল্ডাররা শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে পদত্যাগের নির্দেশ ‘ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে’ মানুষের দাড়ি কি কুকুরের পশমের চেয়েও বিপজ্জনক? ৩০ এপ্রিল শাহাবাগে ঐক্যফ্রন্টের গণজমায়েত ভোটের মেশিন থেকে বের হলো সাপ শেখ হাসিনা আমাকে প্রতিবছর মিষ্টি পাঠান: মোদি বন্ড পণ্য অবৈধভাবে বিক্রি করছে অলিম্পিক এক্সেসরিজ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইভিএম ব্যবহারের বিকল্প নেই: সিইসি শেষবার জায়ানকে দেখতে শেখ সেলিমের বাসায় প্রধানমন্ত্রী সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কেডস ও কিপিং গ্লাভস দিলেন তামিম প্রক্টরের আশ্বাসে নীলক্ষেত ছাড়লেন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিতে সম্মত বাংলাদেশ-মালদ্বীপ রণদা প্রসাদ হত্যায় অভিযুক্ত টাঙ্গাইলের মাহবুবুরের রায় যে কোনো দিন ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে রিট হাতিকে চাঁদা না দেয়ায় শূন্যে তুলে আছাড়, ইজিবাইকচালক মরণাপন্ন! পাবনায় তিন পুলিশ হত্যার দায়ে ৮ চরমপন্থীর যাবজ্জীবন অভিনেতা সালেহ আহমেদ আর নেই বিশ্বকাপ দল নিয়ে সমালোচনা বন্ধের আহ্বান তামিমের ৩শ রান চেজ করে জেতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে: তামিম