artk
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বার ৫, ২০১৯ ৮:২৮   |  ২১,অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মাসউদ আহমাদ

মঙ্গলবার, মার্চ ১৯, ২০১৯ ১:০২

ভরদুপুরে সল্টলেকে, কবি জয় গোস্বামীর বাড়িতে

media

জয় গোস্বামী কথা বলেন কম, কিন্তু যা বলেন তার বেশিরভাগই গভীর এবং অর্থবহ। 

সল্ট লেকের তিন নম্বর সেক্টরের শ্রাবণী আবাসনে তিনি থাকেন। ডোরবেল বাজানোর কিছুক্ষণ পর, তিনি নিজেই দরজা খুলে দিলেন।

নমস্কার। আমি মাসউদ, ঢাকা থেকে এসেছি।

ঢাকা থেকে?

জি।

আসুন।

তখন দুপুর দেড়টা। তিনি হয়ত কোনো কাজে ডুবে ছিলেন, লেখার কাজেই হয়ত। কিংবা ঘুমুচ্ছিলেন। গেঞ্জির ওপর কোনোভাবে একটা পাঞ্জাবি চড়িয়েছেন। বোতামও লাগাননি। একটু অপ্রস্তুত লাগছে। আর মুখভর্তি এমন দাঁড়িগোফ, তিনি হাসছেন বা বিরক্ত বা আরক্ত কিনা, বোঝা শক্ত।

সোফায় বসার পর তিনি বললেন, বলুন।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘জীবাননন্দ’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাটি তাঁর হাতে তুলে দিলাম। বললাম, নতুন সংখ্যা খুব সম্প্রতি বেরুচ্ছে। এতে আপনার জীবনানন্দ-বিষয়ক গুচ্ছ কবিতা ‘শ্রীচরণকমলেষু’ ছাপতে চাই; সঙ্গে এই কবিতাগুচ্ছ কীভাবে লেখা হলো, সেই নেপথ্যগল্পও।

জয় বললেন, তেমন কোনো গল্প তো নেই। আমি কোনো কিছু ভেবে লিখিনি। অন্য কবিতার মতো লিখে গেছি।

আমার মনে হলো, তিনি এড়িয়ে যেতে চাইছেন।

ব্যারিকেড দিয়ে ধরলাম তাঁকে; আপনার বিশেষ কবিতার পেছনে বিশেষ গল্প থাকে, যা পাঠককে চমৎকৃত করে। যেমন আমার সৌভাগ্য হয়েছিল, আপনার ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’ কীভাবে লেখা হয়েছিল তা আপনার নিজের বয়ানে শুনেছিলাম। শুনে একদম মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কবিতা লেখার পেছনের গল্প এত আকর্ষণীয় হতে পারে!

তিনি একটু ঝুঁকে এসে বললেন, ওটা আপনি কোথায় শুনলেন?

ঢাকায়, বাংলা একাডেমিতে।

আপনি ওই অনুষ্ঠানে তখন ছিলেন? যখন কবিতাটি পড়েছিলাম?

জি, ছিলাম। আপনি কবিতা পড়ছেন। তখন হঠাৎই সেখানে এলেন সৈয়দ শামসুল হক। আপনি কবিতা পড়া থামিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে গিয়ে সৈয়দ হকের পা ছুঁয়ে সালাম করলেন।

...এবার মনে হয় তিনি খানিক নরম হলেন।

কিন্তু কথা বলার ফাঁকেই মনে হচ্ছিল, তাঁর লেখার কাজে বা ঘুমের ব্যাঘাত হয়েছে বলে তিনি আড়ষ্ট বোধ করছিলেন।

এবার তিনি অনেকটা সহজ হয়ে বললেন, আপনি মূলত কী জানতে চান?

বললাম, জীবনানন্দ-বিষয়ক এই কবিতাগুলো লেখার ভাবনা ও প্রেরণা কীভাবে পেলেন? লিখতে কতদিন সময় লেগেছিল? কোনো একটা প্রেরণা বা মনটা তৈরি হয়ে ওঠে, তখনই তো লেখা আসে। নয় কি?

তিনি যে বেশ চঞ্চল ধরনের মানুষ, তা বোঝা গেল। ১০ মিনিটের মধ্যে অন্তত ৫/৬ বার উঠলেন। বিড়াল ঝগড়া করছে। থামাতে গেলেন। বাথরুমের দিকে গেলেন। ঢুকলেন। ঢুকেই ফিরে এলেন। একবার পাশের ঘরে গেলেন। একবার বারান্দায়। এবং বসতে বসতে হেঁটে যেতে যেতে নেপথ্যকথা বা প্রেরণার গল্প বলে গেলেন। এবং ফিরে এসে আমার সামনের সোফায় বসলেন।

আমি বললাম, এই কথাগুলোই আপনি একটানা বলুন, আমি রেকর্ড করে নেব। তিনি রাজি হলেন।

কবিতার নেপথ্যকথা বলা দ্রুত ফুরিয়ে গেল। আমি ধন্যবাদ জানিয়ে রেকর্ড বন্ধ করলাম।

জয় পত্রিকাটি আবার হাতে নিলেন। জানতে চাইলেন, এখানে কি জীবনানন্দ-বিষয়ক লেখা ছাপা হয়? নাকি পুরোটাই তাঁকে নিয়ে?

আমি প্রচ্ছদে নামলিপি ও তার ওপরের কথাগুলো দেখালাম- জীবনানন্দ-চর্চার পত্রিকা।

তিনি বললেন, বাহ। ভালো। এমন সুনির্দিষ্ট কাগজ তো দেখিনি। কলকাতায়, তাহলে তো আপনাকে অনেক লেখকের সঙ্গে দেখা করতে হবে।

এর মধ্যে, দুবার তাঁর মুঠোফোন বেজে উঠলো। তিনি একবার বললেন, ঢাকা থেকে একজন মানুষ এসেছেন, কথা হচ্ছে। তোমাকে পরে ফোন করব। আর একবার ফোন তুলেই বললেন, পরে।

তখন তাঁকে আর একটি কাগজ দিলাম। গল্পপত্র। তিনি বললেন, এটাও কি আপনি করেন? বাহ।

পরে, আরো কিছু কথা হলো। তিনি জানতে চাইলেন, কলকাতায় কবে এসেছি, কোথায় উঠেছি, কতদিন থাকব ইত্যাদি।

তাঁর কাছে নতুন আর একটি লেখার কথা বললাম। রবীন্দ্রনাথের গান যেমন আমাদের মনকে আচ্ছন্ন করে, সঙ্গ দেয়, বিরহী মনকে সুন্দর অনুভূতিতে ভরিয়ে তোলে; জীবনানন্দের কবিতাও নিশ্চয়ই মনে ছায়া ফেলে, চৈতন্যে ঘা দেয়, প্রেরণা ও প্রেম জাগায়। ...আপনার লেখায় ও যাপনে তাঁকে কীভাবে পেয়েছেন?

জয় বললেন, এ বিষয়ে আমি লিখেছি একবার। মনে হয়, আপনার প্রশ্ন বা কৌতূহল তা মেটাবে। আপনি সেটা একবার দেখুন।

কথা শেষ।

আপনার সঙ্গে একটু ছবি তোলা যাবে কি? বললাম।

তিনি সানন্দে রাজি হলেন। 

ঘরে আর কোনো মানুষ ছিল না। আমি সেলফি ভালো তুলতে পারি না। বাম হাতে কিছুটা পারলেও ডান হাতে একমদই নয়। 

তিনি আমার বামে বসে আছেন। কী আর করা। কখানা ছবি তোলা গেলো।

ছবি তোলা হয়ে গেলে সল্টলেকের দুপুরের রোদে বেরিয়ে পড়লাম।

আইএস এর সেই টুপি খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ নামাজ পড়লে সুস্থ থাকা যায়: মার্কিন গবেষণা মৌলভীবাজারে ৪শ একর জমিতে কমলার চাষ ২০১৯ সালের সেরা অ্যাপ কল অফ ডিউটি আ.লীগে এখন কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি: কাদের প্রকৌশল শিক্ষায়ও সৃজনশীলতার প্রচুর সুযোগ রয়েছে: রাষ্ট্রপতি ‘সুদের হার কমেনি, ১১ মাস কী করলেন অর্থমন্ত্রী’ ৬ রানে অলআউট মালদ্বীপ পিরোজপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু পুঁজিবাজারে সূচকের পতন, লেনদেনও মন্দা রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে: টিআইবি বিএনপির আইনজীবীদের বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করা উচিত: নাসিম আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি: প্রধান বিচারপতি প্রতিবন্ধীদের জন্য উপজেলায় সহায়তা কেন্দ্র চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী চিশতির শ্যালক কামাল গ্রেপ্তার এবার হবে ২৩৮ কিলোমিটার পাতাল রেল ৩ দেশ থেকে ভারতে যাওয়া অমুসলিমরা নাগরিকত্ব পাবেন রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারবাসী ‘মানসিক চাপে’: টিআইবি বিএনপি অরাজকতা করলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে: কাদের খালেদার জামিনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ: ফখরুল ব্যাংকাররা সুবিধা নিলেন কিন্তু সুদহার কমালেন না: বাণিজ্যমন্ত্রী খামারিকে খুন করে গরু-ছাগল লুট জুয়া খেলার সময় হাতেনাতে ধরা ৩ সরকারি কর্মকর্তা আমি খুব বেশি পেঁয়াজ খাই না: সংসদে ভারতের অর্থমন্ত্রী আদালতে হট্টগোল, বিচারপতিদের এজলাস ত্যাগ নেইমার-এমবাপ্পের গোলে পিএসজির টানা তৃতীয় জয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার আবারও পিছিয়েছে খালেদার জামিন শুনানি বাংলাদেশের জন্য হজ কোটা বাড়লো ১০ হাজার শীতে যেসব লক্ষণে শরীরে পানির ঘাটতি প্রকাশ পায়