artk
বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯ ৫:৩৩   |  ২,শ্রাবণ ১৪২৬
বুধবার, মার্চ ১৩, ২০১৯ ১২:১৩

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা

অসম্পাদিত ডেস্ক
media
এই পদ তাঁর কাছ থেকে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আর ভবিষ্যতে তাঁর জাতীয় নেতা হওয়া এখন মাত্র সময়ের ব্যাপার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে খুব কাছে থেকে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি দেখার সুযোগ হয়। তার ভিত্তিতেই ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমার কিছু কথা।

ডাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন নয়:

যদিও দেশে প্রায় ৪২টি সরকারি ও অসংখ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তবু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে মিডিয়ার তোলপাড় তাকে জাতীয় নির্বাচনের কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যদিও ডাকসু নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা প্রায় ২৮ বছর পর হলো। তবে আমাদের এটা মনে রাখতে হবে যে ডাকসু একটা ছাত্র-ছাত্রী সংসদ (তাও আবার দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটাতে), এটা স্থানীয় সরকার বা জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়। তাই এটা নিয়ে এতো তোলপাড় না করলেও হয়।

ডাকসু নির্বাচন ও সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠন:

যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সারাদেশ বিভক্ত, বিশেষ করে নির্বাচনে কিছু বিশৃঙ্খলা ও ভিপি পদে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরুর নির্বাচিত হওয়া নিয়ে, তবে দেখার বিষয় হচ্ছে যে যেখানে বাংলাদেশ প্রধান বিরোধী দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলছাত্র-ছাত্রীদের ভোট পেতে ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে সেখানে স্বতন্ত্র ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উঠে আসা চমকপ্রদই বটে।

এটাও মনে রাখতে হবে যে বরাবরই ডাকসু নির্বাচনে সরকার বিরোধী দল বা সরকারের সমালোচনাকারী (স্বভাবতই ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার নিয়ে কথা বলা) ছেলে মেয়েরাই ডাকসু নির্বাচনে জিতে এসেছে। যদিও জাতীয়ভাবে বাম রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন গ্রহণযোগ্যতা নাই তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁদের কিছু গ্রহণযোগ্যতা আছে বিভিন্ন কারণে।

সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে কেননা তারা সবসময় ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারে না, বিশেষ করে যদি তা সরকারের বিরুদ্ধে হয়। কোটা বিরোধী আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলন হচ্ছে তাঁর বড় উদাহরণ। এই আন্দোলনগুলি ছাত্রলীগ রেগুলেট করতে পারতো-সরকারের সাথে একটা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারতো। সমস্ত সরকার বরাবরই ছাত্রছাত্রীদের যৌক্তিক দাবি শেষ পর্যন্ত মেনে নেয়-কিন্তু সরকারের প্রাথমিক মনোভাব অনুযায়ী কাজ করে মাঝখান থেকে ভিলেন হয় সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠন।

আমার মনে পড়ে ২০০২ সালের ২৩ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের পুলিশি হামলার ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রীরা অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে। অধ্যাপক চৌধুরীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবথেকে বড় ছাত্র-ছাত্রীদের সমাগম ঘটে। ওই আন্দোলনের সময় আমি ফজলুল হক হলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করি। সে সময় এই আন্দোলন সঠিক জেনেও ছাত্রদলের কর্মীরা আমাদের বাঁধা দেয়, আমার কর্মীদের মারধর করে, হুমকি ধামকি দেয় ইত্যাদি। আমাদের আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে, তিনি ২০০২ সালের ৩১ জুলাই পদত্যাগ করেন। আমরা সফল হই, ব্যর্থ হয় ছাত্রদলের কর্মীরা।

তাছাড়া এই ঘটনার কিছুদিন পর আরেক নতুন সূত্রপাত হয়। আমাদের ব্যাচ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ বছরের সন্মান ডিগ্রির প্রথম ব্যাচ (এর আগে ৩ বছরের সম্মান ও ১ বছরের মাস্টার্স ডিগ্রির প্রচলন ছিল)। আমরা ৪ বছরের সম্মান ডিগ্রি নিয়ে আগের ৩ বছরের সম্মান ও ১ বছরের মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান চাই (চাকরি পাওয়ার জন্যে)। এই চাহিদা সবার জন্যেই ছিল-সরকার সমর্থিত ছাত্রদলের কর্মীরাও এই চাহিদার দ্বারা লাভবান হতো-কিন্তু যেহেতু এটা একটা আন্দোলন ছিল- তাই তারা আমাদের প্রতিহত করলেন- আমি ফজলুল হক হলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করি ও ছাত্রদলের কর্মীরা আমার সামনেই আমার কর্মীদের মারধর করে। পরবর্তীতে তৎকালীন বিএনপি সরকার আমাদের দাবি মেনে নেয়-কিন্তু মাঝখান থেকে ভিলেন হয় ছাত্রদলের কর্মীরা!!

তাই সরকারপন্থি ছাত্র সংগঠনের উচিত সরকারের সাথে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের একটা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা। এতে তাঁদের সমর্থন ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

ডাকসু নির্বাচন ২০১৯:

২০১৯ সালের ২৫ তম ডাকসু নির্বাচনে (১৯৯০ সালের জুন মাসের দীর্ঘ প্রায় ২৯ বছর পর) ২৫টির মধ্যে ২৩টিতে ছাত্রলীগ জয়লাভ করে; যা ছাত্রলীগের জন্যে আসলেই চমকপ্রদ ফলাফল। শুধু ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে জিতে যায় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর ও আকতার হোসেন। তবে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দাবি সুষ্ঠু নির্বাচনে হলে ছাত্রলীগ একটা সিটও পেত না।

তবে ছাত্রলীগ জিএস গোলাম রব্বানির দাবিমতে, একটা কুচক্রী মহল নকল ব্যালট পেপার দেখিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করতে চেয়েছিল। যেসব জায়গায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, এমনকি একটি হলের প্রভোস্টকে বরখাস্ত পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে আগে থেকে সাবধান থেকে এই নির্বাচনেকে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করা যেতে পারতো। এখন থেকে নিয়মিত নির্বাচন হলে ব্যাপারগুলি আরও সুন্দর হবে বলে আমার বিশ্বাস।

বিগত সময়ে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরের সরকারবিরোধী ও ছাত্রলীগ বিরোধী কর্মকাণ্ডে অনেকে তাকে ছাত্র শিবিরের কর্মী (https://bit.ly/2Ck8oEs)) বলে মনে করতেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের এক নোটে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থীদের প্রতি শিবিরের সমর্থনে তাঁর ভিত্তি আরও মজবুত হয়।

যদিও এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে (যুগান্তর রিপোর্ট https://bit.ly/2F7cFge) জানা যায় যে ঢাবির মুহসিন হলের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি মাকসুদ রানা মিঠু এক বক্তব্যে বলেছেন যে নুরুল হক নুর ছাত্রলীগেরই লোক তবে একটা সিন্ডিকেটের হয়ে ব্যাবহৃত হয়েছেন আবার নবনির্বাচিত জিএস গোলাম রব্বানি বলছেন, নুরুল হক নুর তাঁর সাথে একসময় ছাত্রলীগ করেছেন। তাছাড়া নুর মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে দাবি করেছেন তাঁর বাবা ইদ্রিস হাওলাদার (https://bit.ly/2UyXzW8)।  তবে কিছু সংবাদে জানা যায় যে নুরুল হক নুর হয়তো ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী ছিল (https://bit.ly/2Ck8oEs)। সত্য হয়তো এক সময় জানা যাবে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন:

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ঘোষণা করেন তখন অনেকেই তাকে যোগ্য মনে করলেও ছাত্রলীগের সিন্ডিকেটের সামনে টিকে থাকতে পারবে কিনা সন্দেহ পোষণ করেছিল। অসাধারণ ভদ্র এই ছাত্রনেতা ছাত্রলীগের আন্তঃকোন্দলের স্বীকার হয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। নতুবা বিশাল ভোটে জিএস ও এজিএস পাস করলেও ভিপি পদে শোভনের ফেল করাকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। এমনকি নির্বাচন যদি সুষ্ঠু নাও হয় তবুও জিএস ও এজিএস পাস করে কিন্তু ভিপি ফেল করাকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন, তাও আবার সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একজনের কাছে হেরে যাওয়া। তবে বিজিত প্রার্থী নূরকে বুকে জড়িয়ে ধরে ডাকসু ভিপি হিসেবে মেনে নিয়ে বিশাল বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন হেরে যাওয়া ছাত্রলীগ প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। যদিও ডাকসু নির্বাচনে উনি হেরেছেন তবে মনে রাখতে হবে উনি সারা বাংলাদেশে আওয়ামী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি। এই পদ তাঁর কাছ থেকে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আর ভবিষ্যতে তাঁর জাতীয় নেতা হওয়া এখন মাত্র সময়ের ব্যাপার।

রাজনীতির প্রেক্ষাপট:

তবে হলগুলোতে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপক বিজয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (সারা দেশের নয়) প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর দৈন্যতা প্রকাশ করে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশিরভাগই কোটা বিরোধী আন্দোলন করে অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের মনে ঠাই করে নিয়েছেন। এথেকে বোঝা যায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরছাত্র-ছাত্রীদের মনে প্রথাগত রাজনীতি আর স্থান করে নিতে পারছে না। কেননা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রথাগত নেতারা ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারছে না। তাছাড়া প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর অনেক নেতাই বয়স্ক ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সমন্বয়হীন। তাই, ছাত্র রাজনীতিতে পরিবর্তন আসা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি’সহ সমস্ত প্রধান দলগুলোর উচিত ছাত্র রাজনীতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসা।
লেখক: মোল্লা মো. রাশিদুল হক, একাডেমিক, মেলবোর্ন প্রবাসী।

‘রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি হতে পারে’ এইচএসসিতে ফেল করে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ বৈদেশিক বাণিজ্য আধুনিকায়নে এনবিআরের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে র‌্যাব আদালতে মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি কেন? মা পেলেন জিপিএ ৪, মেয়ে ৫ চাঁদের সাতটি মজার তথ্য জেনে নিন দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চান সুজন সিবিএর সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় নতুন কোচ খুঁজছে এশিয়ার দেশগুলো হিন্দু ছাত্রীকে কোরআন বিলি করার নির্দেশ দিলেন ভারতের আদালত রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হবে পাকিস্তানে জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদ গ্রেপ্তার শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে চরম দুর্ভোগ! এইচএসসিও পাস করলেন সেই মা আমিরাতের তেল ট্যাংকার গায়েব করেছে ইরান! ব্যাংক ঋণে করপোরেট গ্যারান্টিতে সতর্কতার তাগিদ পুরান ঢাকায় শতবর্ষী ভবন ধস সেটেলমেন্ট অফিসের দুই কর্মকর্তা গ্রেপ্তার সরকারি জমি উদ্ধারে ডিসিদের দেয়া হবে পুরস্কার ইউরোমানি অ্যাওয়ার্ডস পেলেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কখনোই আলোচনা হবে না: ইরান প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ইনজামাম ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পথে মুশফিকুর রহিম দলে অনেক অতিথি পাখি ঢুকেছে: তথ্যমন্ত্রী শ্রীলঙ্কায় সব ম্যাচ জিততে চায় বাংলাদেশ ‘পুঁজিবাজার ধসের জবাব চাই’ স্লোগানে মতিঝিলে বিক্ষোভ শ্রীলঙ্কা সফরে টাইগারদের ব্যাটিং কোচ ভারতের ওয়াসিম জাফর বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ‘ই’ গ্রুপে বাংলাদেশ নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা আগেও ঘটেছে: প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা