artk
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯ ৫:০৭   |  ৯,ফাল্গুন ১৪২৫
সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০১৯ ১১:৪৪
ছোটগল্প:

ছোটগল্প: বইমেলা

নাইম আবদুল্লাহ
media

সজল এই নামে কাউকে চেনে না। সে আমতা আমতা করে বললো, আপনি সম্ভবত ভুল নম্বরে ফোন করেছেন।

মোবাইলটা বেজে ওঠায় সজলের ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঢুলু ঢুলু চোখে দেখলো অজানা নম্বর থেকে কল আসছে। সকাল সাড়ে ছয়টা বাজে। এতো সকালে তাকে ফোন করবে কে? সে না ধরার সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলো। আবার মোবাইল বেজে উঠল। না অজানা নম্বর থেকে ফোন করার মতো তার কেউ নেই। টেবিলের ওপর বোতলে রাখা পানি খেয়ে আবার শুয়ে পড়লো। কয়েক মিনিট পরে আবারও মোবাইল বেজে উঠলে সে রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে বললো, হ্যালো।
ওপাশ থেকে একটি ভরাট পুরুষ কণ্ঠ বললো, কে সজল বলছো? সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো, হ্যাঁ।
ওপাশ থেকে উত্তর এলো, যাক ভালোই হল তোমাকে পেয়ে গেলাম। সরি, আমার পরিচয় তো এখনো দেইনি। আমার নাম আরিফ। সিডনি এয়ারপোর্ট থেকে বলছি।
সজল এই নামে কাউকে চেনে না। সে আমতা আমতা করে বললো, আপনি সম্ভবত ভুল নম্বরে ফোন করেছেন।
ওপাশ থেকে উত্তর এলো, আসলে তোমার আমাকে না চেনারই কথা। আমি তোমাদের রামপুরা বাসার বাড়িওয়ালার ছেলে। তোমার আব্বার নাম বাতেন সাহেব না?
সজল কিছুটা মনে করতে পারলো। সে যখন হাইস্কুলে পড়তো তখন ওরা রামপুরায় একটা টিনের বাসায় ভাড়া থাকতো। কিন্তু বাড়িওয়ালার ছেলের নাম মনে করতে পারছে না। কারণ ছেলেমেয়েরা সবাই বয়সে ওদের বড় ছিল। বেশিদিনও ছিল না ওই বাসায়। শুধু মনে আছে বাড়িওয়ালার ছোট ছেলে ভার্সিটিতে পড়তো। মাঝে মাঝে গভীর রাতে নেশা করে বাসায় ফিরে জোরে জোরে গেট ধাক্কাতো। সেই ভাইয়াটাই না তো? কিন্তু সে সিডনি এয়ারপোর্টে কি করে?
হ্যাঁ, আমি বাতেন সাহেবের ছেলে। সজল আমি একটু আগে সিডনিতে ল্যান্ড করেছি। সিম কার্ড কিনে প্রথম ফোনটা তোমাকেই করলাম। আর ভাগ্য ভালো পেয়েও গেলাম। আমি একটা ব্যবসার কাজে এখানে আসেছি। এখন একটা হোটেলের খোঁজ করবো।
সজল ভদ্রতা করে বলল, আরে না না। আপনার অসুবিধা না হলে আপনি আমার সাথেও থাকতে পারেন।
তাহলে তো ভালই হয়। তোমার ঠিকানাটা বল। আমি ট্যাক্সি নিয়ে চলে আসি? না না, আপনি লাউঞ্জে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। আমি আধা ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবো। আরিফ ভাইকে ট্রেনে করে বাসায় নিয়ে আসার সময় জানতে পারলো সে তার এক রুম মেটের কাছ থেকে মোবাইল নম্বরটা পেয়েছে।
সজল সিডনি ইউনিভার্সিটিতে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ এমএস করছে। রেডফার্নে ভার্সিটির কাছে একটা স্টুডিও টাইপ এপার্টমেন্টে থাকে। পরদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সে আরিফকে অপেরা হাউজ, হারবার ব্রিজ ঘুরিয়ে দেখালো। সোমবার থেকে আবার তার ক্লাস ল্যাব ওয়ার্ক শুরু। বাসায় ফিরে আরিফ ভাইয়ের সাথে কথা হয়। সে প্রায় সারাদিন রুমে বসে কাটায়। মাঝে মধ্যে ট্রেনে করে বাঙালি পাড়া খ্যাত লাকেম্বায় যায়। কিন্তু সে যে কি ব্যবসার কাজে এসেছে তা সজল বুঝতে পারে না। কথায় কথায় শুনেছে সে দুইবার বিয়ে করেছিল কিন্তু কোনটাই টেকেনি। কোন ছেলেমেয়েও নাই।
পরের উইকেন্ডের সকালে আরিফ সজলকে জিজ্ঞাসা করলো, আজ তো তোমাদের এখানে একুশে বইমেলা তাই না? যাবে নাকি ঐদিকে?
সজলের ল্যাবে কাজ ছিল তাই সে আমতা আমতা করেও শেষ পর্যন্ত এশফিল্ডের বইমেলায় যেতে রাজি হয়ে যায়। বিকেলের দিকে ওরা বইমেলায় পৌঁছে দেখে সজলের এক বন্ধু চটপটি ও ফুস্কার দোকান দিয়েছে। ওরা ভরপেট চটপটি ও ফুস্কা খাওয়ার পর আরিফ বইয়ের স্টল দেখতে বেরিয়ে যায়।
প্রায় আধা ঘণ্টা পরে আরিফ সজলকে ফোন করে জানায়, তার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা করায় সে বই বিতান স্টলের সামনে ঘাসের উপর শুয়ে পড়েছে। সজল দৌড়ে আরিফের কাছে গিয়ে দেখে সে বুকে দুইহাত চেপে স্টলের সামনে শুয়ে আছে। সে বুঝতে পারে না এখন সে কি করবে। হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বলে, আপনারা আশেপাশে কি কেউ ডাক্তার আছেন? তার চিৎকার শুনে পাশ থেকে একজন হিজাব পরা মহিলা এসে সজলকে অভয় দিয়ে বললো, আপনারা ভয় পাবেন না। আমি একজন ডাক্তার। আমি পরীক্ষা করে দেখছি। আপনি এক বোতল পানি আর অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন। সজল পকেটে হাত দিয়ে দেখে তার মোবাইল নাই। তাড়াহুড়া করে আসার সময় বন্ধুর স্টলে ফেলে এসেছে। সে পানি আর ফোনের জন্য বন্ধুর স্টলের দিকে দৌড় দেয়।
অ্যাম্বুলেন্সে ফোন করে পানি নিয়ে এসে সে আরিফের পাশে দাঁড়ায়।
হিজাব পরা মহিলা জানায়, আমি পরীক্ষা করে দেখেছি। ভয়ের কোন কারণ নেই। আপাতত হাসপাতালেও নিতে হবে না। আপনি ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স আসতে নিষেধ করে দেন। ওনাকে এখনই বাসায় নিয়ে রেস্টে রাখুন। আর আমি কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি।  কিছুদিন পরে কয়েকটা রুটিন টেস্ট করাতে হবে। আপাতত ভয়ের কিছু নেই।
সজল তাড়াতাড়ি ট্যাক্সি ডেকে আরিফকে বাসায় নিয়ে এলো। তারপর পাশের কেমিস্ট থেকে ওষুধ কিনে এনে আরিফকে খাওয়ালো। বাসায় এসে আরিফ আবিষ্কার করলো, সজলকে ফোন করার পর মোবাইলটা সে ঘাসের উপর রেখেছিল। তারপর আর ওটা আনতে মনে নেই।
রাতে ওষুধ খেয়ে লম্বা ঘুম দেবার পর পরদিন দুপুরে উঠে আরিফ সুস্থ বোধ করায় ফেরার জন্য তৈরি হলো। রাতে তার ঢাকাগামী ফ্লাইট। সজল আর কয়েকটা দিন থেকে যেতে অনুরোধ করলেও আরিফ রাজি হয়নি।
পরদিন ল্যাবে কাজ করার সময় সজল আবারও তার সাইলেন্ট ফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে কল পেলো। ল্যাবে কল রিসিভ করা নিষেধ থাকায় সে কথা বলতে পারেনি। রাতে আবার ওই একই নম্বর থেকে ফোন এলে সে ফোন রিসিভ করলো।
আরিফ কি আপনার এখানেই উঠেছিল? হ্যাঁ, কেন বলুন তো? না মানে ওইদিন বইমেলার মাঠে ও মোবাইল ফেলে রেখে গিয়েছিল। আমি মোবাইলটা পেয়েছি। কীভাবে ফেরত দেবো বুঝতে পারছি না।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আরিফ ভাই তো গতরাতে ঢাকা চলে গেছেন। আমি যদি ফোনটা নিতে কাল বিকেলে আসি তাহলে কিছু মনে করবেন?
আরে না না, আমি আমার ঠিকানা টেক্সট করে দিচ্ছি। চলে আসুন।
পরদিন বিকেলে সজল মহিলার দেয়া ঠিকানায় হাজির হয়। সেই দিনের সেই হিজাব পরা ডাক্তার শারমিন নিজের পরিচয় দিয়ে তাকে ড্রয়িং রুমে অভ্যর্থনা জানায়।
আপনি আরিফকে কতদিন থেকে চিনেন? সজল অবাক হয় এই ভেবে যে, এই মহিলাই বা কীভাবে আরিফ ভাইয়ের নাম অবলীলায় বলছে। সে বিষয়টা ধরতে পারে না। শারমিন জানায়, সিডনি ও ঢাকার বইমেলায় এবার তার একটি বই বের হয়েছে। ঢাকা থেকে পত্রিকায় আরিফ এই খবর জানতে পেরেই তার সাথে দেখা করতে সে সিডনিতে এসেছিল। যখন আরিফ বুক স্টলে ঢোকার পর বুকে ব্যথা নিয়ে সামনের ঘাসে শুয়ে পড়ে তখনও সে আরিফকে চিনতে পারেনি। আরিফের সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবার পর সে আরিফকে চিনতে পারে। তখন আরিফ তাকে সিডনি আসার কারণ সম্পর্কে জানায়।
কথায় কথায় শারমিন জানায় বিয়ের আগে থেকেই সে জানতো যে আরিফ নেশা করে। কিন্তু সে কথা দিয়েছিল যে বিয়ের পর সে আর এসব করবে না। দুই পরিবারের অমতেই আমাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পরও সে প্রতিদিন নেশা করে বাড়ি ফিরতো। বিয়ের একমাস পর আমি সিডনিতে একটি স্কলারশিপ পেলাম। ভাবলাম আরিফকে নিয়ে সিডনি আসলে আরিফ আর নেশা করতে পারবে না। কিন্তু সে নেশা করতে পারবে না বিধায় সে আমার স্কলারশিপ কেন্সেল করতে আমাকে জোর করতে লাগলো। আমি তখন দুইমাসের অন্তঃসত্ত্বা। নিজের বাচ্চার কথা ভেবে আমি আরিফের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ইচ্ছে নিয়ে পেটের বাচ্চার কথা না জানিয়ে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সিডনি চলে আসি। তার পর এখান থেকে তিনমাস পর ডিভোর্স দেই। আমি তারপর থেকে আর কোনদিন দেশেও যাইনি কিংবা ওর কোন খোঁজ খবরও রাখিনি। আমার ছেলেটা এখন একটা বোর্ডিং স্কুলে থেকে পড়াশুনা করে।
সজল আরিফের ফোনটা নিয়ে শারমিনের কাছ থেকে বিদায় নেয়।

লেখক: সিডনি প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক ।

হাসপাতালে লাশের মিছিল রাসায়নিক কারখানা সরাতে মেয়রকে সহযোগিতা করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকবাজারে আগুন: ৭৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার কান্না থামছে না কাওসারের ফুটফুটে দুই শিশুর রামপালে মৎস্যঘের কেটে খামারির ৩ লাখ টাকা ক্ষতি ভাষা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিলে দুর্নীতি বাসা বাঁধতো না: দুদক চেয়ারম্যান ভাষা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিলে দুর্নীতি বাসা বাঁধতো না ভাই হারানো এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় চকবাজারের আগুন বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ১১ নাগরিক আটক চকবাজারে আগুন: অভিযান সমাপ্ত চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্পিকারের শোক বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ: ফখরুল চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: ফায়ার সার্ভিসের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘন কুয়াশায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে সাড়ে ৮ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সরকার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেবে: কাদের ঢামেকে ৫২ জন ভর্তি, আশঙ্কাজনক ২ জন মিটফোর্ডে ৭০ মৃতদেহ উদ্ধার, আরো থাকতে পারে: আইজিপি বৃহস্পতিবার অমর একুশে বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ চকবাজারে ভয়াবহ আগুন, মৃতের সংখ্যা ৬৯ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিলেন পুতিন একুশ আমাদের মাথা নত না করা শিখিয়েছ: প্রধানমন্ত্রী শামীমা বেগমকে নিয়ে এত হইচই কেন? সৌদি-ভারত সম্পর্ক জিনগত: সৌদি যুবরাজ ১২ দেশে ১২ বার বিয়ে! মালয়েশিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ ৬ জনের মৃত্যু খালেদা জিয়ার মুক্তি কবে? তোপের মুখে বিএনপি নেতারা ‘শত্রুর চোখে দেখলে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে’ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার