artk
মঙ্গলবার, নভেম্বার ১৯, ২০১৯ ২:৫৩   |  ৫,অগ্রহায়ণ ১৪২৬
বুধবার, জানুয়ারি ৩০, ২০১৯ ৮:৫৩

বাংলা একাডেমি পুরস্কারের নীতিমালা কী?

মাসুদু্জ্জামান
media

প্রথমেই বলে নিই, বাংলা একাডেমি লেখক ও গবেষকদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের যে-কোনো উদ্যোগের ভূমিকা হওয়া উচিত যথার্থ ও সুবিবেচনাপ্রসূত। এই ভূমিকা পালন করা হলে তাতে স্বচ্ছতাও যেমন নিশ্চিত হতে পারে, তেমনি নিরপেক্ষতাও। কিন্তু বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। শতভাগ বিতর্কের ঊর্ধ্বে ওঠা কখনও সম্ভব নয়, আবার যে একেবারে অসম্ভব তাও নয়। 

কথাগুলি আরও খুলে বলি। শুরু করি এবারকার পুরস্কার নিয়েই। প্রথমেই বলে রাখি, আমার এই কথাগুলি একাডেমির প্রধান নির্বাহী মহাপরিচালক শ্রদ্ধেয় কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর বিরুদ্ধে নয়। পুরস্কার প্রদানের দায়িত্বও তাঁর নয়। সমস্যাটা হলো, বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছ পদ্ধতি বা সিস্টেম দাঁড় করাতে পেরেছে বলে মনে হয় না। এই অভাবটা সত্যি প্রকট। ব্যাখ্যা করেই বলি। 

১. প্রথমেই অস্বচছতার কথা বলি। বাংলা একাডেমির পুরস্কার দেয়ার প্রক্রিয়াটি একেবারেই স্বচ্ছ নয়। পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি কারা নির্ধারণ করেন, সেটা কেউ জানেন না। বাংলা একাডেমি কখনও বিষয়টি জাতির কাছে তুলে ধরেনি। ধরে নিতে পারি, নিশ্চয়ই এরকম কোনো ‘বডি’ আছে যারা পুরস্কার কারা পাবেন, নির্ধারণ করে থাকেন। সামান্য একজন লেখক হিসেবে আমি যতটুকু জানি, বাংলা একাডেমির ফেলো (আগে যারা পুরস্কার পেয়েছেন), তারাই কে পুরস্কার পাবেন, সেটা নির্ধারণ করে থাকেন। কিন্তু তারা কারা, কোন বছরে কতজন ফেলো উপস্থিত থাকেন, কোন প্রক্রিয়ায় তারা পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখককে নির্বাচন করেন, সেটা কখনই বাংলা একাডেমি জাতিকে জানায় না। এই যে না জানানো, এটাই হচ্ছে অস্বচ্ছতা।

এখানে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে তুলনা করি। যদিও তুলনাটা যথাযথ হবে না, তবু বলি, নোবেল কমিটিও এভাবে সবকিছু গোপন রাখে। ফলে, নোবেল পুরস্কার নিয়ে প্রায় প্রতিবছরই এখন বিতর্ক দেখা দিচ্ছে। গতবছর তো সাহিত্য পুরস্কারটা তারা দিতেই পারলো না। কিন্তু বুকার পুরস্কারগুলোর কথা ধরুন, অথবা পুলিৎজার, কিংবা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক পুরস্কারে দেখা যায়, পুরস্কার কমিটিতে কারা আছেন, কোন প্রক্রিয়ায় পুরস্কার দেয়া হলো, পুরোপুরি স্বচ্ছ থাকে। সবাই জানতে পারেন কারা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে পুরস্কারগুলো দিচ্ছেন। বাংলা একাডেমির কি উচিত নয় এভাবে স্বচ্ছ থেকে পুরস্কার দেয়া?

২. এবার বলি আরেক ধরনের অস্বচ্ছতা বা অব্যবস্থা নিয়ে। এবার (২০১৮ সালের) বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেয়া হলো চার জন লেখককে। গতবার (২০১৭) দেয়া হয়েছিল ১২ জনকে। তার মধ্যে আবার দুজনকে দেয়া হয়েছিল কবিতা পুরস্কার। হঠাৎ করে কী এমন কারণ ঘটেছিল যে দুজনকে কবিতায় পুরস্কার দেয়া হয়েছিল? আবার এবার কেনই বা ১২ জন থেকে চার জনে নেমে এলো এই পুরস্কার? ২০১৬ সালে দেখেছি পুরস্কার দেয়া হয়েছিল আবার সাত জনকে। সংখ্যার এই হেরফের কেন? এ থেকেই বোঝা যায়, বাংলা একাডেমি কতজনকে কোন কোন শাখায় পুরস্কার দেবে, তার কোনো নীতিমালা নেই অথবা থাকলেও তারা তা অনুসরণ করে না। অর্থাৎ এখানেও দেখতে পাচ্ছি চরম অব্যবস্থা আর অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে। কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠান কি এমনটা করতে পারে বা করা উচিত? অর্থাৎ, যখন যেমন খুশি যতজনকে খুশি পুরস্কার দেয়া হবে? এটা তো কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানের চরিত্র হতে পারে না। এই সংখ্যার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কেন গুরুত্বপূর্ণ এবার সেই কথাটা বলি।

৩. এবার আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, চার জনকে পুরস্কার দেয়া হবে। লক্ষ্য করুন, সাহিত্যের কোন কোন শাখায় দেয়া হবে সেটা কিন্তু বাংলা একাডেমি বলেনি। কেন এটা বলা হলো না? সেটা বললে পুরস্কার প্রদানের বিষয়ে যে স্বচ্ছতা রাখা হবে, সেটা বোঝা যেতো। কিন্তু বাংলা একাডেমি এটা ‘অস্পষ্ট’ রেখে দিয়েছে। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সাহিত্যের এই চারটি শাখাতেই দেয়া হলো কোন নীতিমালা অনুসারে? আর শুধু এই চারটি শাখাতেই বা কেন দেয়া হলো? সাহিত্যের অন্য শাখাগুলো কী অন্যায় করলো যে তাদের পুরস্কার দেয়া হলো না? সেই সব শাখায় কি পুরস্কার পাওয়ার মতো যোগ্য লেখক নেই? আমি বলবো, নিঃসন্দেহে আছেন। তাহলে তাদের কেন পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করা হলো? বাংলা একাডেমি এই প্রশ্নের কী জবাব দেবে? অর্থাৎ এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি কোনো নীতিমালা বা পদ্ধতি অনুসরণ করে না। আর যখন কোনো নীতিমালা থাকে না তখনই তা অস্বচ্ছ হয়ে পড়ে। আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। পুরস্কারের ভিন্ন ভিন্ন শাখার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ৩/৫ জনের এক-একটা কমিটি থাকা উচিত। কবিতার জন্যে জ্যেষ্ঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি যারা তারা এই কমিটির সদস্য হতে পারেন। একইভাবে অন্যান্য শাখার জন্যেও সংশ্লিষ্ট শাখায় যারা অবদান রেখে চলেছেন, সেরকম জ্যেষ্ঠ লেখকদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি করা প্রয়োজন। কারণ, সংশ্লিষ্ট শাখার লেখকই সেই শাখার যোগ্য লেখকদের যথাযথভাবে নির্বাচন করতে পারবেন। 

৪. এই অস্বচ্ছতার কারণে নানান কথা লেখকমহলে চালু হয়ে গেছে। তার একটি হলো, অনেক লেখকই নাকি রীতিমতো তদবির করে, লবিং করেন; কখনও কখনও পদাধিকারবলেও পুরস্কার বাগিয়ে নেন। আমাকে একজন অগ্রজ প্রয়াত লেখকের স্ত্রী, যিনি নিজেও লেখক, এমনও বলেছেন, পুরস্কার পাবার জন্যে কেউ কেউ তার লেখক স্বামীর এমন স্তূতিও করেছেন যে তিনিই হচ্ছেন বাংলা সাহিত্যের সেরা লেখক। তিনি যদি সুপারিশ করেন তাহলে তরুণ লেখকের ভাগ্যে পুরস্কারটা জুটতে পারে। বাস্তবে হয়েছেও তাই। মূলত সেই অগ্রজ বিখ্যাত লেখকের সুপারিশেই পুরস্কার পেয়েছেন অনুজ লেখক। পরে, পুরস্কার পেয়ে গেলে সেই তরুণ লেখক সহজে অগ্রজের ছায়া মারাতেন না। 

আরেক ক্ষেত্রে শুনেছি, শ্রেফ আড্ডার বন্ধু লেখকেরা মিলে কে কে পুরস্কার পেতে পারেন তার তালিকা নিয়ে হাজির হয়েছেন আর নিজেরাই প্রস্তাব করে একে-অন্যকে পুরস্কার পাইয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছেন। তদবিরের এই যে রীতি, বাংলা একাডেমির পুরস্কারের ক্ষেত্রে এটা একটা ওপেন সিক্রেট ব্যাপার। ২০১৭ সালের পুরস্কারের ক্ষেত্রে এরকম কিছু ওপেন সিক্রেট লেখকমহলে চাউর হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ব্যাপারটা যে কাম্য নয় সেটা কারো বুঝতে অসুবিধা হয়নি।

৫. এইবার আসি কীভাবে স্বচ্ছতা আসতে পারে, সেই প্রসঙ্গ নিয়ে। আমার প্রথম প্রস্তাব, বাংলা একাডেমির পুরস্কার কীভাবে কোন প্রক্রিয়ায় কাদের দেয়া হবে, তা নিয়ে একটা ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হোক। সেই ওয়ার্কশপটা হতে পারে বাংলা একাডেমির সকল ফেলো এবং সকল (আজীবন) সদস্যদের নিয়ে। মনে রাখতে হবে, যারা আজীবন সদস্য তারাও লেখক যোগ্যতার বলেই বাংলা একাডেমির সদস্য। এই ওয়ার্কশপ থেকেই একটা নীতিমালা তৈরি করা হোক, যাতে সব ধরনের যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

পরিশেষে বলি, আমি কারা পুরস্কার পেলেন তাদের বিরুদ্ধে এই স্ট্যাটাসটা দিচ্ছি না। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বা অন্য কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি না। বাংলা একাডেমির পুরস্কারের বিষয়টি ভবিষ্যতে স্বচ্ছ করার ব্যাপারেই আমার এই প্রস্তাব। আর এসব কথাও শেষ কথা নয়। এই পুরস্কারকে কীভাবে স্বচ্ছ করা যায়, তা নিয়ে আরও ভাবনাচিন্তার অবকাশ আছে। আমি শুধু প্রাথমিকভাবে কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। এই আলোচনায় আপনারাও অংশ নিয়ে আপনাদের মতামত দিতে পারেন। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে অগ্রজ কবি হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী সদ্য দায়িত্ব পেয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারেন। জানি, কাজটা কঠিন, কিন্তু তিনি যদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেতে পারেন, নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আশা করি সিরাজী ভাই আমার কথাগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না, একটা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্যই আমার এই কথাগুলি বলা।

খালেদার মুক্তির দাবিতে ২৩ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশ খালেদার মুক্তির দাবিতে ২৩ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশ খালেদার মুক্তির দাবিতে ২৩ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশ খালেদার মুক্তির দাবিতে ২৩ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশ ৩০ মামলার আসামি ‘পটেটো রুবেল’ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩০ মামলার আসামি ‘পটেটো রুবেল’ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩০ মামলার আসামি ‘পটেটো রুবেল’ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩০ মামলার আসামি ‘পটেটো রুবেল’ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার প্রেম করছি কিন্তু বিয়ের দিন এখনও ঠিক হয়নি: জয়া অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের দায়ে ২ ভারতীয় গ্রেপ্তার মিথিলার সঙ্গে বিয়ে নিয়ে এবার মুখ খুললেন সৃজিত সাংবাদিকের চোখ হারানোর প্রতিবাদে চোখে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে সংবাদ পাঠ এবার কন্যাসন্তানের বাবা হলেন তামিম প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরছেন রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্ট স্টোরে গুলিতে নিহত ৩ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জনসংহতির ৩ সদস্য নিহত তারেক রহমানই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেন: ফখরুল রিভিউ পরিবর্তন: ইমনের পরিবর্তে কায়কোবাদ ২৮৭ জনকে নিয়োগ দিবে দুদক ৫ দিনে রাজস্ব আদায় ১ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা শোভন-রাব্বানীসহ ১০৫ জনের সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক মুনাফা ছাড়া পেঁয়াজ বিক্রির আহবান মেয়র খোকনের লোহাগড়ায় ডেঙ্গু জ্বরে যুবকের মৃত্যু সড়ক আইন বাস্তবায়ন হবেই: ওবায়দুল কাদের বিজ্ঞাপনে ক্যাটরিনার জায়গায় বাংলাদেশের মিম! মধ্যপ্রাচ্যের ৫ দেশে গৃহকর্মী না পাঠাতে রিট র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমকে হাই কোর্টে তলব ‘অতি দ্রুত’ পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে: বাণিজ্য সচিব শাকিব খানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা