artk
রোববার, জুলাই ২১, ২০১৯ ১১:১৫   |  ৬,শ্রাবণ ১৪২৬

মো. রুবেল ইসলাম তাহমিদ

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯ ১১:১৬

মুন্সিগঞ্জে হারাতে বসেছে পাটালি গুড়ের আদি আকর্ষণ

media
জুরের গুড় আখের গুড়ের মতো মেশিনে বানানো সম্ভব নয়। এটা অতি যত্নের সাথে সময় নিয়ে হাতে তৈরি করতে হয়। এটা একটা শিল্প, এটা সবাই পারে না।

মাছে-ভাতে বাঙালি ছিল এক সময় বাঙালি জাতির পরিচয়। সে সময় ছিল বাংলার নানা ঐহিত্য, যেগুলো গ্রামবাংলাকে করেছিল সমৃদ্ধ। কালের বিবর্তনে এখন গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরও বহু ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। এমনই এক ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকা ছিল খেজুরের রস ও খেজুরের মিঠাই (গুড়)।

খেজুর রসের ফিরনি ওখির কে না ভালোবাসে। মুন্সিগঞ্জ জেলাব্যাপী এমন কোনো বাড়ি বা রাস্তা ছিল না যেখানে অন্তত দু’একশটি খেজুর গাছ ছিল না। 

বাংলা পুঞ্জিকার কার্তিক থেকে মাঘ পর্যন্ত প্রতি বাড়ির দু’একজন মধ্য বয়সী মানুষ খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখত। যারা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করত স্থানীয় ভাষায় তাদের গাছি বলা হয়। গাছিরা দিনের মধ্যভাগ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাল দা, মুগির আর রস সংগ্রহের হাঁড়ি ও পিঠের পেছনে একটি লম্বা ঝুড়িতে বেঁধে এ বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি বয়ে নিয়ে যেত খেজুর গাছ কাটার জন্য। এ কাজে গাছিদের বাড়ির ছোট ছেলে-মেয়েরা সাহায্য করত পেছনে পেছনে হাঁড়ি বহন করে। আবার খুব ভোর থেকে রস সংগ্রহ করে খেজুর গুড় তৈরির জন্য একত্রিত করত। 

সকাল থেকে দিনের অর্ধবেলা পর্যন্ত মা-বোনেরা রস থেকে গুড় তৈরি করত। আবার অনেক গাছি কুয়াশার ভেতরেই গ্রামীণ পথ ধরে কাঁধে রসের ভার বহন করে হেঁটে চলত রস বিক্রির আশায়। দিনের বেলায় পাখিরা রসের চুঙ্গিতে বসে মনের সুখে রস খেয়ে সিষ বাজিয়ে উড়ে যেত। মৌমাছিও রসের আশায় ভোঁ ভোঁ করে উড়ে বেড়াত। সে দৃশ্য দেখে সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যেত সবার। প্রতি বাড়িতে সকাল বেলা খেজুর রসের পায়েস তৈরি হতো। এখন অন্য জেলা থেকে মাঝেমধ্যে খেজুর রসের ভার নিয়ে রস বিক্রি করতে এলেও চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। ছোট একটি রসের হাঁড়ির দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। 

এ সম্পর্কে মেদিনী মন্ডল চেয়ারম্যন আওয়ামী নেতা আশরাফ হোসেন ও শেখ জামান বলেন, এ সময় খেজুর রস নেই এ কথাটি বিশ্বাস করতে পারছি না। সদর উপজেলার ও লৌহজংয়ে বেশ কয়টি গ্রামের, রস জেলা শহরে যেত। কিন্তু এখন আমরাই রস পাচ্ছি না। ছোট বাচ্চারা তো রস চিনেই না। সেই ঐতিহ্য হারাচ্ছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। প্রচার-প্রচারণা না থাকলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুড়ের কদর এবং চাহিদা রয়েছে যথেষ্ঠ। 

মেম্বার হালিম মিঞা বলেন, পাটালি গুড় ভাঙলে কাচা রসের মদিরা গন্ধ এবং লাল-খয়েরী স্ফটিকের মতো রঙ আর অতুলনীয় স্বাদ, এই ছিল মুন্সিগঞ্জের পাটালি গুড়ের আদি আকর্ষণ। ঠিকই কিন্তু তার বিখ্যাত ‘রস’ গল্পে নয় তো গুড় নামে ভিন্ন কোনো গল্প লিখতেন লেখক রা ভৌগলিক আয়তন, ব্যবসায়িক মনোভাব এবং প্রচারের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের খেজুরের গুড়ের খ্যাতি ও যশ চারদিকে ছড়িয়েছে। সে তুলনায় মুন্সিগঞ্জের গুড়ের কিছুই হয়নি। গুড়ের ধারে-কাছে নেই দেশের অন্য সব অঞ্চলের গুড়। মাত্র বিশ থেকে পঁচিশ বছর আগেও সমগ্র মুন্সিগঞ্জের জেলার প্রায় সর্বত্রই মাঠে, ক্ষেতের আইলে, বড় রাস্তায় ধারে, পুকুর পাড়ে, ঝোপ-ঝাড়ে, বাড়ির আঙিনায় খেজুর গাছ দেখা যেত । 

অবহেলা অযত্নে পড়ে থাকলেও শীতের শুরু অর্থাৎ পৌষের শুরু থেকে চৈত্রের শেষ পর্যন্ত চলত গাছের বিশেষ যত্ন, রস সংগ্রহ আর সেই রস জাল দিয়ে বানানো হতো লোভনীয় গুড়। কালের বিবর্তনে আজ সে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। নির্বিচারে গাছকাটা, নতুন করে গাছ না লাগানো, তাছাড়া নতুন প্রজন্মের মধ্যে কষ্ট করার মানসিকতা না থাকায় এখন আর আগের মতো সেই গুড় তৈরি হচ্ছে না।

খেজুরের গুড় আখের গুড়ের মতো মেশিনে বানানো সম্ভব নয়। এটা অতি যত্নের সাথে সময় নিয়ে হাতে তৈরি করতে হয়। এটা একটা শিল্প, এটা সবাই পারে না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

পুলিশ যা বলতে বলেছে আদালতে তাই বলেছি, বাবাকে মিন্নি সিনেমায় চুমু খেয়ে বিয়ে ভাঙলো নায়িকার! (ভিডিও) নোয়াখালীতে এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা এমপি হওয়ার পর ‘অসুরে’ প্রথম নুসরাত নিম্ন রক্তচাপকে স্বাভাবিক করুন খুব সহজে উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করছে সিগারেটের গোড়া যে ১৪ আত্মমূল্যায়নের প্রশ্নে বদলে যেতে পারে জীবন সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মস্কোতে হাজারো নাগরিকের বিক্ষোভ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঞ্চেই মারা গেলেন ভারতীয় কৌতুকাভিনেতা নিজের পিস্তলের গুলিতে আহত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কুমিল্লায় টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা: ৫শ জনের বিরুদ্ধে মামলা পঞ্চগড়ে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ছেলেসহ বাবার মৃত্যু হজক্যাম্পের আশপাশের রেস্তোরাঁয় পচা খাবার, জরিমানা ২৬ লাখ জনগণকে নিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল ট্রাম্পের দাবি নাকচ, এই সেই ইরানি ড্রোন! জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত শ্বশুরকে হত্যা করে পলাতক জামাই ইনডোর এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশ সপ্তম আইনি লড়াইয়ে খালেদার মুক্তি নেই: গয়েশ্বর গণপিটুনির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে কাদেরের মাথায় হাত বুলিয়ে রওশনের আশীর্বাদ ‘স্থানীয় হিন্দু-মুসলমানদের হয়রানি করছেন প্রিয়া সাহা’ দিল্লির ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে বরগুনায় আসকের ৪ আইনজীবী প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিয়ে যা বলল জামায়াত সাংবাদিক পাইলেই গুলি করে মারব: ছাত্রলীগ নেতা ইঞ্জিনে পাখির বাসা, দেড়মাস বসে থাকলেন ট্রাকচালক উইন্ডিজ সফরে না গিয়ে সেনাবাহিনীতে সময় দেবেন ধোনি ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, প্রাণ গেলো ৩ জনের