artk

মো. রুবেল ইসলাম তাহমিদ

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯ ১১:১৬

মুন্সিগঞ্জে হারাতে বসেছে পাটালি গুড়ের আদি আকর্ষণ

media
জুরের গুড় আখের গুড়ের মতো মেশিনে বানানো সম্ভব নয়। এটা অতি যত্নের সাথে সময় নিয়ে হাতে তৈরি করতে হয়। এটা একটা শিল্প, এটা সবাই পারে না।

মাছে-ভাতে বাঙালি ছিল এক সময় বাঙালি জাতির পরিচয়। সে সময় ছিল বাংলার নানা ঐহিত্য, যেগুলো গ্রামবাংলাকে করেছিল সমৃদ্ধ। কালের বিবর্তনে এখন গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরও বহু ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। এমনই এক ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকা ছিল খেজুরের রস ও খেজুরের মিঠাই (গুড়)।

খেজুর রসের ফিরনি ওখির কে না ভালোবাসে। মুন্সিগঞ্জ জেলাব্যাপী এমন কোনো বাড়ি বা রাস্তা ছিল না যেখানে অন্তত দু’একশটি খেজুর গাছ ছিল না। 

বাংলা পুঞ্জিকার কার্তিক থেকে মাঘ পর্যন্ত প্রতি বাড়ির দু’একজন মধ্য বয়সী মানুষ খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখত। যারা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করত স্থানীয় ভাষায় তাদের গাছি বলা হয়। গাছিরা দিনের মধ্যভাগ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাল দা, মুগির আর রস সংগ্রহের হাঁড়ি ও পিঠের পেছনে একটি লম্বা ঝুড়িতে বেঁধে এ বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি বয়ে নিয়ে যেত খেজুর গাছ কাটার জন্য। এ কাজে গাছিদের বাড়ির ছোট ছেলে-মেয়েরা সাহায্য করত পেছনে পেছনে হাঁড়ি বহন করে। আবার খুব ভোর থেকে রস সংগ্রহ করে খেজুর গুড় তৈরির জন্য একত্রিত করত। 

সকাল থেকে দিনের অর্ধবেলা পর্যন্ত মা-বোনেরা রস থেকে গুড় তৈরি করত। আবার অনেক গাছি কুয়াশার ভেতরেই গ্রামীণ পথ ধরে কাঁধে রসের ভার বহন করে হেঁটে চলত রস বিক্রির আশায়। দিনের বেলায় পাখিরা রসের চুঙ্গিতে বসে মনের সুখে রস খেয়ে সিষ বাজিয়ে উড়ে যেত। মৌমাছিও রসের আশায় ভোঁ ভোঁ করে উড়ে বেড়াত। সে দৃশ্য দেখে সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যেত সবার। প্রতি বাড়িতে সকাল বেলা খেজুর রসের পায়েস তৈরি হতো। এখন অন্য জেলা থেকে মাঝেমধ্যে খেজুর রসের ভার নিয়ে রস বিক্রি করতে এলেও চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। ছোট একটি রসের হাঁড়ির দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। 

এ সম্পর্কে মেদিনী মন্ডল চেয়ারম্যন আওয়ামী নেতা আশরাফ হোসেন ও শেখ জামান বলেন, এ সময় খেজুর রস নেই এ কথাটি বিশ্বাস করতে পারছি না। সদর উপজেলার ও লৌহজংয়ে বেশ কয়টি গ্রামের, রস জেলা শহরে যেত। কিন্তু এখন আমরাই রস পাচ্ছি না। ছোট বাচ্চারা তো রস চিনেই না। সেই ঐতিহ্য হারাচ্ছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। প্রচার-প্রচারণা না থাকলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুড়ের কদর এবং চাহিদা রয়েছে যথেষ্ঠ। 

মেম্বার হালিম মিঞা বলেন, পাটালি গুড় ভাঙলে কাচা রসের মদিরা গন্ধ এবং লাল-খয়েরী স্ফটিকের মতো রঙ আর অতুলনীয় স্বাদ, এই ছিল মুন্সিগঞ্জের পাটালি গুড়ের আদি আকর্ষণ। ঠিকই কিন্তু তার বিখ্যাত ‘রস’ গল্পে নয় তো গুড় নামে ভিন্ন কোনো গল্প লিখতেন লেখক রা ভৌগলিক আয়তন, ব্যবসায়িক মনোভাব এবং প্রচারের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের খেজুরের গুড়ের খ্যাতি ও যশ চারদিকে ছড়িয়েছে। সে তুলনায় মুন্সিগঞ্জের গুড়ের কিছুই হয়নি। গুড়ের ধারে-কাছে নেই দেশের অন্য সব অঞ্চলের গুড়। মাত্র বিশ থেকে পঁচিশ বছর আগেও সমগ্র মুন্সিগঞ্জের জেলার প্রায় সর্বত্রই মাঠে, ক্ষেতের আইলে, বড় রাস্তায় ধারে, পুকুর পাড়ে, ঝোপ-ঝাড়ে, বাড়ির আঙিনায় খেজুর গাছ দেখা যেত । 

অবহেলা অযত্নে পড়ে থাকলেও শীতের শুরু অর্থাৎ পৌষের শুরু থেকে চৈত্রের শেষ পর্যন্ত চলত গাছের বিশেষ যত্ন, রস সংগ্রহ আর সেই রস জাল দিয়ে বানানো হতো লোভনীয় গুড়। কালের বিবর্তনে আজ সে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। নির্বিচারে গাছকাটা, নতুন করে গাছ না লাগানো, তাছাড়া নতুন প্রজন্মের মধ্যে কষ্ট করার মানসিকতা না থাকায় এখন আর আগের মতো সেই গুড় তৈরি হচ্ছে না।

খেজুরের গুড় আখের গুড়ের মতো মেশিনে বানানো সম্ভব নয়। এটা অতি যত্নের সাথে সময় নিয়ে হাতে তৈরি করতে হয়। এটা একটা শিল্প, এটা সবাই পারে না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

ইদলিবে সরকার বিরোধী হামলায় সিরিয়ার ৪০ সেনা নিহত খালি পেটে যেসব খাবার খাওয়া ঠিক নয় হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হল ডার্ক মোড পাবনায় আওয়ামী নেতার বিরুদ্ধে বাবার জিডি ৬৪ জেলায় ৪৯ হাজার নদী দখলদার: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্র ঢাবির বিশেষ সমাবর্তন ৫ সেপ্টেম্বর আমরা দেশকে জঙ্গিবাদের হাত থেকে মুক্ত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী চীনাদের সাপ খাওয়ার অভ্যাস থেকেই ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস! পলিন কাউসারের ‘আমি তো পাইনি মেঘের দেখা’ আইসিজের রায় বিশ্বের মানবাধিকারকর্মীদের জন্য মাইলফলক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হারপিক খেয়ে খুলনায় এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দের পুত্রের আত্মহত্যা মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন নগরবাসী নিয়ে বিএনপির কোনো পরিকল্পনা নেই: তাপস জিরো টলারেন্স জনপ্রিয় হওয়ার একটি স্লোগান: এনবিআর চেয়ারম্যান আইপিও আসার আগে প্রতিবেদন করুন: সাংবাদিকদের ডিএসই পরিচালক অস্ট্রেলিয়ায় এয়ার ট্যাঙ্ক বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৩ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন ১০ সাহিত্যিক ‘ছাত্রলীগকে দিয়ে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ দাবিয়ে রাখা যাবে না’ তাবিথের বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের অভিযোগ ইসিতে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে ৪ বাংলাদেশি নিহত রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ আইসিজের সৌদি আরব থেকে ফিরলেন আরও ২১৭ বাংলাদেশি রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিকীকরণে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে: জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভিপি নূরকে কেন পাসপোর্ট দেয়া হবে না: হাইকোর্ট ভোটের নিরপেক্ষ পরিবেশ নেই: ফখরুল রক্তকোষের সাহায্যে সারিয়ে তোলা যাবে ক্যান্সার চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ এক ধাপ উন্নতিতেও দুর্নীতি কমেনি: টিআইবি ফেনীর পৌর মেয়রকে দুদকে তলব