artk
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯ ৫:০১   |  ৯,ফাল্গুন ১৪২৫

মো. রুবেল ইসলাম তাহমিদ

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯ ১১:১৬

মুন্সিগঞ্জে হারাতে বসেছে পাটালি গুড়ের আদি আকর্ষণ

media
জুরের গুড় আখের গুড়ের মতো মেশিনে বানানো সম্ভব নয়। এটা অতি যত্নের সাথে সময় নিয়ে হাতে তৈরি করতে হয়। এটা একটা শিল্প, এটা সবাই পারে না।

মাছে-ভাতে বাঙালি ছিল এক সময় বাঙালি জাতির পরিচয়। সে সময় ছিল বাংলার নানা ঐহিত্য, যেগুলো গ্রামবাংলাকে করেছিল সমৃদ্ধ। কালের বিবর্তনে এখন গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরও বহু ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। এমনই এক ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকা ছিল খেজুরের রস ও খেজুরের মিঠাই (গুড়)।

খেজুর রসের ফিরনি ওখির কে না ভালোবাসে। মুন্সিগঞ্জ জেলাব্যাপী এমন কোনো বাড়ি বা রাস্তা ছিল না যেখানে অন্তত দু’একশটি খেজুর গাছ ছিল না। 

বাংলা পুঞ্জিকার কার্তিক থেকে মাঘ পর্যন্ত প্রতি বাড়ির দু’একজন মধ্য বয়সী মানুষ খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখত। যারা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করত স্থানীয় ভাষায় তাদের গাছি বলা হয়। গাছিরা দিনের মধ্যভাগ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাল দা, মুগির আর রস সংগ্রহের হাঁড়ি ও পিঠের পেছনে একটি লম্বা ঝুড়িতে বেঁধে এ বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি বয়ে নিয়ে যেত খেজুর গাছ কাটার জন্য। এ কাজে গাছিদের বাড়ির ছোট ছেলে-মেয়েরা সাহায্য করত পেছনে পেছনে হাঁড়ি বহন করে। আবার খুব ভোর থেকে রস সংগ্রহ করে খেজুর গুড় তৈরির জন্য একত্রিত করত। 

সকাল থেকে দিনের অর্ধবেলা পর্যন্ত মা-বোনেরা রস থেকে গুড় তৈরি করত। আবার অনেক গাছি কুয়াশার ভেতরেই গ্রামীণ পথ ধরে কাঁধে রসের ভার বহন করে হেঁটে চলত রস বিক্রির আশায়। দিনের বেলায় পাখিরা রসের চুঙ্গিতে বসে মনের সুখে রস খেয়ে সিষ বাজিয়ে উড়ে যেত। মৌমাছিও রসের আশায় ভোঁ ভোঁ করে উড়ে বেড়াত। সে দৃশ্য দেখে সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যেত সবার। প্রতি বাড়িতে সকাল বেলা খেজুর রসের পায়েস তৈরি হতো। এখন অন্য জেলা থেকে মাঝেমধ্যে খেজুর রসের ভার নিয়ে রস বিক্রি করতে এলেও চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। ছোট একটি রসের হাঁড়ির দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। 

এ সম্পর্কে মেদিনী মন্ডল চেয়ারম্যন আওয়ামী নেতা আশরাফ হোসেন ও শেখ জামান বলেন, এ সময় খেজুর রস নেই এ কথাটি বিশ্বাস করতে পারছি না। সদর উপজেলার ও লৌহজংয়ে বেশ কয়টি গ্রামের, রস জেলা শহরে যেত। কিন্তু এখন আমরাই রস পাচ্ছি না। ছোট বাচ্চারা তো রস চিনেই না। সেই ঐতিহ্য হারাচ্ছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। প্রচার-প্রচারণা না থাকলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুড়ের কদর এবং চাহিদা রয়েছে যথেষ্ঠ। 

মেম্বার হালিম মিঞা বলেন, পাটালি গুড় ভাঙলে কাচা রসের মদিরা গন্ধ এবং লাল-খয়েরী স্ফটিকের মতো রঙ আর অতুলনীয় স্বাদ, এই ছিল মুন্সিগঞ্জের পাটালি গুড়ের আদি আকর্ষণ। ঠিকই কিন্তু তার বিখ্যাত ‘রস’ গল্পে নয় তো গুড় নামে ভিন্ন কোনো গল্প লিখতেন লেখক রা ভৌগলিক আয়তন, ব্যবসায়িক মনোভাব এবং প্রচারের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের খেজুরের গুড়ের খ্যাতি ও যশ চারদিকে ছড়িয়েছে। সে তুলনায় মুন্সিগঞ্জের গুড়ের কিছুই হয়নি। গুড়ের ধারে-কাছে নেই দেশের অন্য সব অঞ্চলের গুড়। মাত্র বিশ থেকে পঁচিশ বছর আগেও সমগ্র মুন্সিগঞ্জের জেলার প্রায় সর্বত্রই মাঠে, ক্ষেতের আইলে, বড় রাস্তায় ধারে, পুকুর পাড়ে, ঝোপ-ঝাড়ে, বাড়ির আঙিনায় খেজুর গাছ দেখা যেত । 

অবহেলা অযত্নে পড়ে থাকলেও শীতের শুরু অর্থাৎ পৌষের শুরু থেকে চৈত্রের শেষ পর্যন্ত চলত গাছের বিশেষ যত্ন, রস সংগ্রহ আর সেই রস জাল দিয়ে বানানো হতো লোভনীয় গুড়। কালের বিবর্তনে আজ সে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। নির্বিচারে গাছকাটা, নতুন করে গাছ না লাগানো, তাছাড়া নতুন প্রজন্মের মধ্যে কষ্ট করার মানসিকতা না থাকায় এখন আর আগের মতো সেই গুড় তৈরি হচ্ছে না।

খেজুরের গুড় আখের গুড়ের মতো মেশিনে বানানো সম্ভব নয়। এটা অতি যত্নের সাথে সময় নিয়ে হাতে তৈরি করতে হয়। এটা একটা শিল্প, এটা সবাই পারে না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

রাসায়নিক কারখানা সরাতে মেয়রকে সহযোগিতা করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকবাজারে আগুন: ৭৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার কান্না থামছে না কাওসারের ফুটফুটে দুই শিশুর রামপালে মৎস্যঘের কেটে খামারির ৩ লাখ টাকা ক্ষতি ভাষা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিলে দুর্নীতি বাসা বাঁধতো না: দুদক চেয়ারম্যান ভাষা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিলে দুর্নীতি বাসা বাঁধতো না ভাই হারানো এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় চকবাজারের আগুন বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ১১ নাগরিক আটক চকবাজারে আগুন: অভিযান সমাপ্ত চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্পিকারের শোক বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ: ফখরুল চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: ফায়ার সার্ভিসের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘন কুয়াশায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে সাড়ে ৮ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সরকার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেবে: কাদের ঢামেকে ৫২ জন ভর্তি, আশঙ্কাজনক ২ জন মিটফোর্ডে ৭০ মৃতদেহ উদ্ধার, আরো থাকতে পারে: আইজিপি বৃহস্পতিবার অমর একুশে বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ চকবাজারে ভয়াবহ আগুন, মৃতের সংখ্যা ৬৯ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিলেন পুতিন একুশ আমাদের মাথা নত না করা শিখিয়েছ: প্রধানমন্ত্রী শামীমা বেগমকে নিয়ে এত হইচই কেন? সৌদি-ভারত সম্পর্ক জিনগত: সৌদি যুবরাজ ১২ দেশে ১২ বার বিয়ে! মালয়েশিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ ৬ জনের মৃত্যু খালেদা জিয়ার মুক্তি কবে? তোপের মুখে বিএনপি নেতারা ‘শত্রুর চোখে দেখলে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে’ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার খালেদা জিয়াকে জেলে রাখার বিচার হবে: ফখরুল