artk
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ ৯:২৩   |  ১১,মাঘ ১৪২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংবাদ ডেস্ক

শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ ৭:০১

তুরস্কে নাস্তিকের সংখ্যা বাড়ছে!

media

একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা বলছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্কে নাস্তিকের সংখ্যা বাড়ছে।  তারা বলছে, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের চাপিয়ে দেয়া কঠোর রীতিনীতির কারণেই মানুষ ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। 

কোন্ডা নামের একটি প্রতিষ্ঠান নানা বিষয়ে জরিপ পরিচালনার জন্য বিখ্যাত৷ তাদের এক জরিপে দাবি করা হয়, গত ১০ বছরে তুরস্কে ‘অবিশ্বাসীদের' সংখ্যা বেড়েছে৷ দেশটিতে ইসলাম পালন করা বা কট্টর ইসলামপন্থি লোকের সংখ্যা ৫৫ শতাংশ থেকে ৫১ শতাংশে নেমেছে৷

৩৬ বছর বয়সি কম্পিউটার বিজ্ঞানী আহমেত বালেইমেজ ১০ বছর ধরে নাস্তিক৷ তিনি বলেন, ‘‘তুরস্কে ইসলাম পালন করতে বাধ্য করা হয়৷ আমাদের প্রশাসন আমাদের ওপর তা চাপিয়ে দিচ্ছে৷ ফলে আমরা ভাবতে বাধ্য হই– এই কী আসল ইসলাম?'' তিনি মনে করেন, ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা থেকে নিজেকে রক্ষায় নাস্তিকতা উত্তম বিকল্প৷

তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালে ঘোষণা দিয়েছিল যে, দেশটির ৯৯ শতাংশ লোক ইসলাম ধর্মের অনুসারী৷ কিন্তু কোন্ডার এই গবেষণা প্রকাশের পর ধর্মমন্ত্রণালয়ের এ দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে৷

৬৫টি দেশে জরিপ চালিয়েছিল ‘গ্যালাপ ইন্টারন্যাশনাল’৷ জরিপ থেকে বেরিয়ে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নাস্তিকেরও দেশ৷ সে দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন৷ চীনের শতকরা ৬১ ভাগ মানুষ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সরাসরি অস্বীকার করেন, বাকি ২৯ ভাগ নিজেদের ধর্মে বিশ্বাসী নন বলে দাবি করেছেন৷

ধর্মতত্ত্ববিদ কেমিল কেলিক বলেন, “কোন্ডার জরিপ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরিপ দুটোই সঠিক৷ কারণ, তুরস্ক একটি মুসলিম প্রধান দেশ৷ এই দেশে জন্মসূত্রে সবাই মুসলমান৷ এখানে ৯৯ শতাংশ মুসলমানের একটি অংশ শুধুমাত্র সামাজিক দায়-দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে ইসলাম পালন করে৷ তারা আত্মিকভাবে মুসলমান নয়৷ তারা নিয়মিত নামাজ আদায় করে, হজে যায়, হিজাব পরে, কিন্তু মানসিকভাবে ধর্মকে সামাজিক অনুশাসনের পদ্ধতি ছাড়া কিছুই ভাবে না৷ তাদের পরিচয়ও কিন্তু মুসলমান। অন্যদিকে আরেকটি গ্রুপ ইসলাম ধর্মকেই নিশ্চিত নিয়ম বলে এর সব কঠোর অনুশাসন মেনে চলে৷ এদের সংখ্যা ৬০ শতাংশের মতো৷ এরা সত্যিকার অর্থে ধার্মিক।” 

কেমিল তুরস্কের জনগণকে ১৭ শতাব্দীর উমাইয়াদ গোত্রের সঙ্গে তুলনা করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘সেই সময় উমাইয়াদ জনগোষ্ঠী নিজ দেশের শাসককে খুশি রাখতে প্রার্থনা করতো৷ তুরস্কের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী প্রশাসনকে সন্তুষ্ট রাখতে নিয়মিত নামাজ পড়ে৷ অথচ কোরানে ন্যায়ের শাসনের কথা উল্লেখ রয়েছে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘তুরস্কে মসজিদ আর প্রশাসন একে অপরের সহযোগী৷ কারণ, এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হচ্ছে প্রশাসনের প্রতি আনুগত্যের লক্ষণ৷ আর নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়া সেই আনুগত্যকে আরো সুস্পষ্ট করে৷ মসজিদ হিসাব রাখে নামাজের৷''

তুরস্কের নাস্তিকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন অ্যাটিজম ডেরনেগির প্রধান সেলিম ওজকোহেন বলেন, ‘‘এর্দোয়ান প্রশাসন চেষ্টা করছে ধর্মপ্রাণ মুসলমান প্রজন্ম তৈরি করতে, যাদের নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে৷ অথচ ভেতরে ভেতরে এই প্রজন্মের মধ্যে বিশ্বাসগত বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে৷''

এ প্রসঙ্গে সেলিম ২০১৬ সালের অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ওই অভ্যুত্থানের দায় দেওয়া হয়েছিল ধর্মীয় চিন্তাবিদ ফেতুল্লাহ গুলেনকে৷ তার অনুসারীরা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হয়৷ এতেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভেদ স্পষ্ট৷ একই ধর্মের অনুসারী একই কাতারে নামাজ পড়ে ধর্মীয় ভাবধারায় আলাদা আচরণ করছে৷ জনগণ নিজেদের বিশ্বাসগত এই পার্থক‌্য লক্ষ্য করছে৷ এদের মধ্যে যৌক্তিক আচরণের ব‌্যক্তিরা নাস্তিকতায় ঝুঁকছে।”