artk
রোববার, মে ১৯, ২০১৯ ১১:৩৮   |  ৫,জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ ১১:০৭

দেখভালের অভাবে বেদখল হচ্ছে নওগাঁর বলিহার রাজবাড়ি

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ সংবাদদাতা
media
দর্শনীয় প্রাসাদটির কয়েকটি ভবন বর্তমানে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে এক সময়ের বলিহার রাজাদের ঐতিহ্যের জানান দিচ্ছে। 

রাজা নেই, নেই কোনো প্রজা, মন্ত্রী ও পাইকপেয়াদা নেই। তবুও কালের সাক্ষী হয়ে অযত্ন আর অবহেলায় রাজ্যের ইতিহাস মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসাবশেষ এই রাজবাড়িটি। 

এখানে আজো আছে দেবালয়। সেখানে হয় না আর নিয়মিত পূজা-অর্চনা। দেবালয়ে দেবতার সন্তুষ্টিতে দেবদাসীদের নৃত্যাঞ্জলি, শঙ্খধ্বনি, পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, ধূপের ধোঁয়া আর খোল করতালের শব্দ থেমে গেছে বহু আগে। দেবালয়ের দুর্ভেদ্য প্রকোষ্ঠ আর দেয়াল পেরিয়ে দেবদাসীদের হাসিকান্নার শব্দ হয়তো এখনো ভেসে বেড়ায় বলিহারের ভগ্ন রাজপ্রাসাদের আকাশে বাতাসে। 

উত্তরবঙ্গের ভারত সীমান্তঘেঁষা বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁ জেলা। এখানে ঐতিহ্যেভরা ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা রয়েছে অসংখ্য। তারই একটি বলিহার রাজবাড়ি। কালের সাক্ষী হয়ে রাজার শাসনামলের স্মৃতি মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িটি। এটি নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নে অবস্থিত। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শেষ জৌলুসটুকু হারাতে বসেছে নওগাঁর বলিহার রাজবাড়ি। 

জানা যায়, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের এক সনদ বলে নওগাঁর বলিহারের এক জমিদার জায়গীর লাভ করেন। জমিদারদের মধ্যে জমিদার রাজেন্দ্রনাথ ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে বলিহারে একটি রাজ-রাজেশ্বরী দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মন্দিরে রাজেশ্বরী দেবীর অপরূপা পিতলের মূর্তি স্থাপন করেন। বলিহারের নয় চাকার রথ এ অঞ্চলে বেশ প্রসিদ্ধ ছিল। প্রাসাদের কিছুটা দূরেই ছিল বিশাল বাগান। বাগানে এখনো রাজার শাসনামলের কিছু রোপণ করা গাছ রয়েছে। তবে বাগান বাড়িটির সামনের পুকুর ঘাটের একটি ছাদ এখনো দাঁড়িয়ে আছে। এখানে বসতো নিয়মিত জলসা। কলকাতা থেকে আনা হতো নামকরা নর্তকীর দল। বলিহারের রাজাদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন। 

রাজা কৃষ্ণেন্দ্রনাথ রায় বাহাদুর একজন লেখক ছিলেন। তার লেখা গ্রন্থগুলোর মধ্যে কৃষ্ণেন্দ্র গ্রন্থাবলী ১ম ও ২য় খণ্ড অন্যতম। দেশ বিভাগের সময় এবং জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলে অন্য সব রাজার মতো বলিহারের রাজার উত্তরাধিকারী বিমলেন্দু রায় চলে যান ভারতে। এর পর প্রাসাদটি রাজপরিবারের অন্যান্য কর্মচারী দেখভাল করতে থাকেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীতে লুট হয়ে যায় রাজবাড়ির বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মূল্যবান নিদর্শন, আসবাবপত্র, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন সামগ্রী। দর্শনীয় প্রাসাদটির কয়েকটি ভবন বর্তমানে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে এক সময়ের বলিহার রাজাদের ঐতিহ্যের জানান দিচ্ছে। 

কথিত আছে, বলিহারের জমিদারিতে ৩৩০টি দিঘী ও পুকুর ছিল। এখনো অনেক দিঘী ও পুকুর রয়েছে। এসব দিঘী ও পুকুরের নাম খুবই শ্রুতিমধুর যেমন মালাহার, সীতাহার, বলিহার, অত্মাহার নানান নামেই ছিল দিঘী ও পুকুরগুলো পরিচিতি। শৌখিন রাজাদের ছিল ছোট চিড়িয়াখানা। সেখানে ছিল বাঘ, ভাল্লুক, বানর, হরিণসহ নানা প্রজাতির পশুপাখি। 

জনশ্রুতি আছে মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি রাজা মানসিংহ বার ভূঁইয়াদের দমন করতে এদেশে সৈন্যসামন্ত নিয়ে বলিহার পৌঁছেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করায় সৈন্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। বিশ্রামের জন্য ও মানসিংহের প্রেরিত গুপ্তচরের মাধ্যমে বার ভূঁইয়াদের খবর জানার জন্য যাত্রাবিরতি করেন সেনাপতি মানসিংহ। ওই সময় চলছিল বরেন্দ্র অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুম। বেশি দিন বসে থাকলে সৈন্যরা অলস হয়ে যেতে পারে ভেবে মানসিংহ সৈন্যবাহিনী দিয়ে ওই ৩৩০টি দিঘী ও পুকুর খনন করেন।

 

রাজ ভবনটি তৃতীয় তলা। ভবনের ছাদ থেকে বহুদূর পর্যন্ত দৃষ্টি যায়। প্রাসাদ কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত বিশাল দেবালয়টিতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা-অর্চনা করেন। দেবালয়ের ভিতরে অনেক কক্ষ আছে। ভবনের উপরে ওঠার দুটি সিঁড়ি আছে। প্রাসাদের পেছনের মালিপাড়ায় বিশাল আকারের দুটি শিবলিঙ্গ আছে। বিভিন্ন পার্বণের দিনগুলোতে অনুষ্ঠিত হতো নাটক, যাত্রা, কবিগান, কীর্তনসহ আরও কত কি! আটচালার নিকটতম ভবনের সিঁড়িগুলো ব্যবহৃত হতো গ্যালারি হিসেবে। মূল প্রাসাদের সামনে সতেজ দুটি গাছ আছে। নাম নাগলিঙ্গম। বর্ষা মৌসুমে গাছটিতে ফুল আসে। কিন্তু বর্তমানে অবৈধ দখলের কবলে পড়ে রাজবাড়িটি ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে।

এখনো যদি এই রাজবাড়ির অবশিষ্ট অংশটুকু সরকারিভাবে সংস্কার আর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় তবে ভবিষ্যতে এই রাজবাড়িটি একটি ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। হতে পারে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

ইতালিতে ঝড় তুলেছে বাংলাদেশি বংশদ্ভূত ফাইমের মুভি ‘বাংলা’ আদালতের আদেশ না মানায় ‘বাঘাবাড়ী ঘি’কে ২২ লাখ টাকা জরিমানা ছেলের জন্য চিকিৎসা চেয়ে চিকিৎসকের হাতে মার খেলেন বাবা! ছেলেশিশুকে রেখে পালিয়ে গেলেন মা মুক্তিযোদ্ধা-এতিমদের সঙ্গে ইফতার করলেন প্রধানমন্ত্রী ১৫ টাকার ওষুধের দাম ৬০০ টাকা, জরিমানা ২০ হাজার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছাত্রলীগ নেতার খোলা চিঠি বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী টি জামান নিকেতা ‘ইয়েমেনে সহস্রাধিক মসজিদ ধ্বংস করেছে সৌদি জোট’ ভোটগ্রহণ শেষ, জরিপে এগিয়ে মোদি বাড়ানো হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের সীমা বিড়ি শিল্প টিকিয়ে রাখতে যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে আছি: রসিক মেয়র মোস্তফা ‘দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা অপরাধ’ ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রপ্তানি করা হবে: অর্থমন্ত্রী রূপপুরে হরিলুট: ঠিকাদারি বিল বন্ধের নির্দেশ হরিণের মাংসের অবৈধ ব্যবসা যেভাবে চলে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়: দুদক চেয়ারম্যান নিজেকে সমকামী ঘোষণা করলেন ভারতের দ্রুততম নারী ছাত্রলীগ নেত্রী দিশাকে অপহরণের চেষ্টা ক্লাসিফাইড লোন কমিয়ে আনবে পূবালী ব্যাংক তিন মোবাইল কোম্পানিকে ১৫ কোটি টাকা জরিমানা মন্ত্রিসভায় রদবদল, ডা. মুরাদ স্বাস্থ্য থেকে তথ্যে রিপোর্টিং আর মতামত আলাদা করতে হবে: আইনমন্ত্রী এটি পুরোটাই দলীয় অর্জন: মাশরাফি মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির ন্যূনতম বয়সের পরিপত্র হাই কোর্টে বাতিল বিশ্বকাপে ক্যারিবীয়দের রিজার্ভ স্কোয়াডে ব্রাভো-পোলার্ড সিডনিতে কুরআন ক্লাসের ইফতার অনুষ্ঠিত ওবায়দুল কাদেরের ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ শুরু উড়ন্ত লাথির শিকার টার্মিনেটর তারকা আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ