artk
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ ৮:০৩   |  ১১,মাঘ ১৪২৫

স্বাস্থ্য-পুষ্টি ডেস্ক

সংবাদ ডেস্ক

শনিবার, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ ৯:০৮

ক্যানসার বিরোধী অস্ত্র পালং শাক

media
বাংলাদেশে ক্যানসারের চিকিৎসা ব্যবস্থা যা আছে, তা একদিকে অপ্রতুল এবং অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে অনেক ব্যয়বহুল।
এই প্রাণঘাতী রোগকে প্রতিরোধ করতে পারে স্বল্প দামের পালং শাক।

শাক হিসেবে পালং অনেকেরই প্রিয়। আমরা খাদ্য তালিকায় সাধারণ শাক হিসেবেই এতে রাখি। খাওয়ার জন্যই খাই। কিন্তু আমরা যদি এর গুণাগুণ সম্পর্কে জানি তাহলে হয়তো প্রতিদিনই খেতে চাইব এই শাক।

আধুনিক বিশ্বে উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানা ধরনের রোগ। মারণব্যধি ক্যানসার এখন সর্বব্যাপী। বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার বাসা বাঁধছে মানুষের শরীরে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা বলছে, দেশটিতে এবছর দেড় লাখের বেশি মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে।

কিন্তু বাংলাদেশে ক্যানসারের চিকিৎসা ব্যবস্থা যা আছে, তা একদিকে অপ্রতুল এবং অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে অনেক ব্যয়বহুল।

এই প্রাণঘাতী রোগকে প্রতিরোধ করতে পারে স্বল্প দামের পালং শাক।

পুষ্টি উপাদান

পালং শাক অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে আছে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট। তাজা এবং অল্পসেদ্ধ করে খেলে বেশি এন্টিঅক্সিডেন্ট লাভ করা যায়। ভিটামিন-বি৯ ১৯৪১ সালে প্রথম পালং শাকে আবিষ্কৃত হয়েছিল।

উপকারিতা

পালং শাকে আছে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা বেশি মাত্রার ভিটামিন এ, লিম্ফোসাইট বা রক্তের শ্বেত কণিকা দেহকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে রক্ষা করে।

এতে থাকা ১০টিরও বেশি ভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। এর উচ্চ মাত্রার বিটা ক্যারোটিন চোখের ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এর ভিটামিন ‘এ’ ত্বকের বাইরের স্তরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে ফলিক এসিড থাকায় তা হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে সক্ষম।

প্রাপ্ত বয়স্ক ঘন সবুজ পালং পাতায় উচ্চ মাত্রায় ক্লোরোফিল থাকায় এতে ক্যারটিনয়েড বিদ্যমান আর তা আমাদের শরীরে ব্যাথা নাশক ও ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

পালং শাক (Spinacia oleracea) এমারান্থাসি পরিবারভুক্ত এক প্রকার সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি জনপ্রিয় শাক ও সবজি। এর আদিবাস মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায়। এটি একবর্ষজীবী উদ্ভিদ, তবে দ্বিবর্ষজীবী পালং গাছ হতে পারে যদিও বিরল। পালং গাছ ৩০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়। বাংলাদেশে শীতকালে এর চাষ হয়। এর পাতা একান্তর, সরল, ডিম্বাকার বা ত্রিভূজাকার। এই পাতার আকার ২-৩০ সেমি লম্বা ও ১-১৫ সেমি চওড়া হতে পারে। গাছের গোড়ার দিকের পাতাগুলো বড় বড় এবং উপরের দিকের পাতাগুলো ছোট হয়। এর ফুল হলদেটে সাদা, ৩-৪ মিমি ব্যাসবিশিষ্ট হয়। এর ফল ছোট, শক্ত, দানাকৃতির ও গুচ্ছাকার। ফলের আকার আড়াআড়ি ৫-১০ মিমি; এতে বেশ কয়েকটি বীজ থাকে।

পালং শাকের বর্ণনার প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গেছে চীনে। সেখানে বলা হয়েছে, এই শাক নেপাল থেকে চীনে এসেছে (সম্ভবত ৬৪৭ খ্রিস্টাব্দ)।