artk
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ ৯:২২   |  ১১,মাঘ ১৪২৫

লাইফস্টাইল ডেস্ক

সংবাদ ডেস্ক

শুক্রবার, জানুয়ারি ১১, ২০১৯ ২:০৯

নামটা যেন কী?

media

ছবি প্রতীকী

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেমোরি অ্যান্ড প্লাস্টিক প্রোগ্রামের ডিরেক্টর চরণ রঙ্গনাথের ব্যাখ্যা, “আমরা সেই জিনিসই মনে রাখতে চাই, যা থেকে কিছু শেখা গেলো বা নতুন কিছু জানা গেলো। যা কিনা ভবিষ্যতে কাজে আসবে। 

প্রতিবেশী হোন বা আত্মীয়, অনেক দিন পর দেখা হওয়া পুরনো কোনো বন্ধু কিংবা রোজই দেখা হওয়া সহকর্মী— এরকম অনেক ক্ষেত্রেই নাম কিছুতেই মনে পড়ে না! রোজ দেখা মুখ হলেও একই সমস্যা। এর নামে ওকে ডাকা বা নাম ভুলে অন্য কোনো সম্বোধনে ডেকে কাজ চালানোর অভিজ্ঞতা আমাদের সকলেরই কমবেশি রয়েছে।

হঠাৎ রাস্তায় দেখা হলো পরিচিত কারো সঙ্গে, হেসে কথাও বললেন, কুশলবিনিময় করে তিনি চলে যাওয়ার পরেও নাম আর কিছুতেই মনে পড়ছে না। এমনটা কি ঘটেছে আপনার?  কিন্তু আপনি মোটেও খুব ভুলো মনের মানুষ নন। দিব্য নিজের সব কাজ গুছিয়ে করেন, তবু সাধারণ একটা নাম মনে করার বেলাতেই এমনটা কেন হয়? 

এই নিয়েই ভাবতে বসেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেমোরি অ্যান্ড প্লাস্টিক প্রোগ্রামের ডিরেক্টর চরণ রঙ্গনাথের ব্যাখ্যা, “আমরা সেই জিনিসই মনে রাখতে চাই, যা থেকে কিছু শেখা গেলো বা নতুন কিছু জানা গেলো। যা কিনা ভবিষ্যতে কাজে আসবে। নাম জানার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়েই আমরা তা সৌজন্যের অংশ হিসেবে দেখি। তাই তাকে আলাদা করে গুরুত্ব দেয় না মস্তিষ্ক। ফলে ভুলে যায় সহজেই।”

কিন্তু নাম জানার সঙ্গে যে পরবর্তীতে ডাকার একটা প্রয়োজনীয় কারণও ওতপ্রোতভাবে জড়িত? রঙ্গনাথের ব্যাখ্যা, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মস্তিষ্ক ধরে নেয়, এই নাম ধরে ডাকার কোনো না কোনো বিকল্প থাকবেই। চেনা মানুষদের ক্ষেত্রে নানা পরিচয়, বন্ধু ও পরিচিতদের নানা সম্বোধনে ডাকলেও সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই সম্ভাবনাই মস্তিষ্ককে আত্মবিশ্বাস দেয় যে সে নামটা মনে না রাখলেও খুব ক্ষতি হবে না। দরকারে আর একবার জেনেও নেয়া যাবে। এই মনোভাবও নাম ভোলার জন্য দায়ী।”

আর কী কী কারণ? একই নামের বহু মানুষদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ও থ্যালামাসের আচরণও খুব একটা ভরসাযোগ্য নয়। মনস্তত্ত্ব বিশারদ জোশুয়া ক্লাপোর মতে, “একই নামে বহু মানুষ থাকলে মস্তিষ্ক একটা সংখ্যার পর আর সেই  নাম মনে রাখার দায় রাখে না। তার সঙ্গে যুক্ত হয় মুখ চেনার বিষয়টিও। মুখ চিনলেও কাজ চলে যায় এমন মানুষের ক্ষেত্রে নাম মনে রাখার বিষয়টি গৌণ হয়ে যায়। তাই মাথাও আর এর পেছনে ‘বৃথা পরিশ্রম’ করতে চায় না।”

নাম ভুলে যাওয়ার বিষয়ে আরো কিছু ব্যাখ্যা আছে বিজ্ঞানীদের। তাদের মতে, একজন মানুষের সঙ্গে প্রথম দেখা হলে তার চেহারা, আচরণ, তার সঙ্গে আলাপ বাড়ানোর উপায় বা পছন্দ না হলে তাকে ছেড়ে আসার সুযোগ খুঁজতে থাকে মাথা। এত কিছু একসঙ্গে করে ওঠা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সব দিক বজায় রাখতে গিয়ে হাইপোথ্যালামাস ছেঁটে ফেলে মানুষের নামটাই!

আরো এক অদ্ভুত কারণে নাম ভুলে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় আমাদের। সব নামই মনে রাখা সহজ, আমি ঠিকই নাম মনে রাখতে পারি বা না পারলেও কাজ ঠিকই চালিয়ে নেয়া যাবে— এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জেরেই আমরা ভুলতে বসি নাম।