artk
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ ৯:২৪   |  ১১,মাঘ ১৪২৫

স্বাস্থ্য-পুষ্টি ডেস্ক

সংবাদ ডেস্ক

শুক্রবার, জানুয়ারি ১১, ২০১৯ ৮:৪৯

চেনা শুষনি শাকের অজানা গুণ

media

গ্রাম বাংলার ক্ষেতের আইলে কিংবা পতিত জমিতে এই শাক দেখা যায়। এটি শ্বাসকষ্ট ভালো করে। সেই সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। 

আমাদের চারপাশের প্রকৃতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু গাছ-লতাপাতা-গুল্ম। যেগুলোর ওষুধী ব্যবহার আমাদের অজানা। এমন একটি উপাদান হচ্ছে শুষনি শাক। গ্রাম বাংলার ক্ষেতের আইলে কিংবা পতিত জমিতে এই শাক দেখা যায়। এটি শ্বাসকষ্ট ভালো করে। সেই সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। 

শুষনি হলো জলজ ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ। ভারতসহ দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া, চিন, মধ্য ও দক্ষিণ ইউরোপে শাক ও ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে শুষনি খুব পরিচিত। নরম কাণ্ডের এই লতানো উদ্ভিদটি জলাশয়ের পাড়ে বা ভেজা জায়গায় জন্মায়। পাতা যৌগিক প্রকৃতির। পত্রবৃন্তের আগায় একটা বিন্দু থেকে চারদিকে চারটি সম আকৃতির পত্রক জন্মায়। এ জন্যই বিজ্ঞানসম্মত নামে ‘quadrifolia’ শব্দটি রয়েছে। সমস্ত ফার্নের মতো এদেরও ফুল বা ফল হয় না। রেনুর মাধ্যমে বা অঙ্গজ পদ্ধতিতে এরা বংশবিস্তার করে। এদের গাঢ় বাদামি রঙের স্পোরোকার্প উৎপন্ন হয় যার মধ্যে রেনু থাকে।

ভেষজ গুণাবলি: জনশ্রুতি রয়েছে যে শুষনি শাক খেলে ঘুম পায়। তাই নিদ্রাহীনতায় যারা ভোগেন তাদের নিয়মিত শুষনি শাক খেলে কাজ দেয়। এ ছাড়া নিয়মিত শুষনি শাক খেলে মাথার যন্ত্রণা, তীব্র মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, গায়ে ব্যথা, পায়ের পেশির অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন, বাত, জিভে ও মুখে ক্ষত, চর্মরোগ ইত্যদি দূর হয়। শুষনির কাশি ও কফ নিরাময়কারী ভূমিকা বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রমাণিত। চোখের রোগ, ডায়াবেটিস ও ডায়ারিয়া নিরাময়ে শুষনি পাতার রস কার্যকর। সন্তান প্রসবের পর মায়েরা শুষনি শাক খেলে দুগ্ধক্ষরণ বাড়ে। সাপের কামড়ে শুষনি পাতার রস দিয়ে চিকিৎসা করার প্রচলিত রীতি রয়েছে।

পুরনো জ্বরে পথ্য হিসেবে, মেহ ও কুষ্ঠরোগে এই শাক ব্যবহার করা হয়। সুষুনী শাকের রস পরিমিত মাত্রায় গরম করে পান করলে শ্বাসকষ্ট দূর হয়। ভালো ঘুমও হয়। শৈশবকাল থেকে যাদের মেধা কম, তাদের টানা তিন-চার মাস শুষুনী শাক খাওয়ালে মেধা বাড়বে। কাঁচা শাক বেটে জল ও চিনি মিশিয়ে নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। শরীর জ্বালা করলে এই শাকের রস অথবা শাক বাটা সারা গায়ে মেখে তারপর গোসল করলে জ্বালা দুর হয়।

পরিচিতি: লতানো উদ্ভিদ, মাটিতে লতিয়ে চলে, পর্ব থেকে এর শিকড় মাটিতে ঢুকে বিস্তার লাভ করে। শিকড়ের মাঝে মাঝে থাকে গ্রন্থি, বীজ হয় শীতকালে , শাকের চারটি পাতা থাকে এবং উদ্ভিদ বর্ষাকালে বাড়ে।