artk
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ ৮:০৫   |  ১১,মাঘ ১৪২৫

স্টাফ রিপোর্টার

সংবাদ ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৯ ৮:৪৪

‘রাজ চালাকি’ বাদ দিয়ে জাতীয় সংলাপ করুন: ড. কামাল

media

৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে এটাকে কী অবাধ নির্বাচন হয়েছে কেউ বলবে? যা করা হয়েছে, এগুলো কোনটাই থাকবে না: ড. কামাল

অন্য কোনো কায়দায় নিলে দেশে স্থিতিশীলতাও আনে না, বৈধ্যতাও আনে না, ক্ষমতায়ও বসিয়ে দিতে পারে না। এই ধরনের চালাকির অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধু বলতেন ‘রাজ চালাকি’। আমরা রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছি রাজ চালাকিতে। 

নতুন সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বের করতে ‘রাজ চলাকি’ বাদ দিয়ে ‘জাতীয় সংলাপ’ করতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে গণফোরামের উদ্যোগে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, “৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে এটাকে কী অবাধ নির্বাচন হয়েছে কেউ বলবে? যা করা হয়েছে, এগুলো কোনটাই থাকবে না। সবার সাথে জাতীয় সংলাপ করুন। আমি মনে করি এটাই সবচেয়ে ভালো পথ। সংলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হোক।” 

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।  আর বিএনপিকে নিয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে মাত্র আটটি আসন।  ফলাফল বয়কট করে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। 

ঐক্যফন্টের দাবিম নজিরবিহীন কারচুপি ও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জিতেছে। ভোটের আগের রাতেই পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ব্যালটবাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছিল। 

অন্যদিকে ক্ষমতাসীনরা বলছেন, জনগণ ভোট দেয়নি বলেই ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর ভোট হয়নি দাবি করে ড. কামাল হোসেন বলেন, “আমি ভাবতে পারিনি ৩০ ডিসেম্বরের যে ঘটনা সেটা ৪৮ বছরের পরে এটা দেখতে হচ্ছে। এটা দুঃখজনক। এটা হওয়ার কথা নয়। আমি তো সরলভাবে বলেছিলাম, ভাই সকালে সকালে গিয়ে ভোট দেবেন। টেলিভিশন বলছে কামাল হোসেন বুঝতে পারছেন না ঘটনা তো রাতেই ঘটে গেছে। ২৯ তারিখ রাতেই। যেভাবে হলো আমরা কেউ টেরও পেলাম না যে আমাদের ভোট হয়ে যাচ্ছে। এটা কেনো এভাবে করতে হবে? আমি প্রশ্ন রাখতে চাই- কেনো এরকম অস্বাভাবিক কাজ কেনো হচ্ছে?”

তিনি বলেন, “এসবের অর্থটা কী? এটা খেলা নাকী। ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে কী খেলা করা যায়? সারাদেশের মানুষের মুখে মুখে শুনতে হচ্ছে যে, নাটকগুলো করেছে আমি মনে করি মানসিকভাবে ভারসাম্য না হারালে কেউ এসব করতে পারে না। চুপি চুপি রাতে কী হলো আর সকালে বলে দিলো হয়ে গেছে। এটা কোনো স্বাধীন সার্বভৌম দেশে হওয়ার কথা নয়। রাষ্ট্র নিয়ে এভাবে খেলা করা চলে না। যারা এসব করছে তারা না বুঝে করছে। তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বছরের জন্য আমরা হয়ে যাচ্ছি এই ধরনের তথাকথিত নির্বাচন কোনো সুস্থ মানুষের করার কথা নয়। মানসিকভাবে কেউ সুস্থ থাকলে এসব করতে পারে না। এটা অসুস্থ মানসিকতার পরিচয়। এটা কোনো ভাবে মেনে নেয়া যায় না। আমরা সবাই বলেছি এটা আইনানুগভাবে হয় না, সংবিধান অনুযায়ী হয় না। সংবিধানের উর্ধেব কেউ নয়।”

জনগনের মালিকানার বিষয়টি উল্লেখ করে সংবিধান প্রণেতা কামাল বলেন, “সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া জনগণের প্রতিনিধি হওয়া যায় না। জনগণের নামে এগুলো কেনো করা হচ্ছে? নির্বাচনের অনুষ্ঠান হবে, তারিখ নির্দিষ্ট হবে, সরাসরি মানুষ ভোট দেবে, ফলাফল হবে। এটা অন্য কোনো কায়দায় নিলে দেশে স্থিতিশীলতাও আনে না, বৈধ্যতাও আনে না, ক্ষমতায়ও বসিয়ে দিতে পারে না। এই ধরনের চালাকির অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধু বলতেন রাজ চালাকি। আমরা রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছি রাজ চালাকিতে। আমি বলব, ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে সেটা রাজ চালাকির একটা সুন্দর উদাহরণ। আমরা বলব, রাজ চালাকি থেকে বিরত থাকুন, জনগণের সামনে সব কিছু তুলে ধরুন। সংবিধান আছে সংবিধান অনুযায়ী আলাপ-আলোচনা করে যা করার করুন। এছাড়া কোনো বিকল্প থাকতে পারে না।”

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আমসা আমিন, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আসাদুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য দেন। 

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি