artk
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ ৯:১৮   |  ১১,মাঘ ১৪২৫

স্বাস্থ্য-পুষ্টি ডেস্ক

সংবাদ ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৯ ৮:৩০

হিমমোচিকা শাক চেনেন? জানেন উপকার?

media
হেলেঞ্চা এক প্রকার জলজ শাক। পানির ওপরে লতিয়ে চলে। যেমন-কলমি শাক পানির ওপরে ভাসে। হেলেঞ্চাকে ভারতে কেউ কেউ হিমমোচিকাও বলে। হেলেঞ্চা সংস্কৃত শব্দ। বাংলায় হিমমোচিকা।

হেলেঞ্চা এক প্রকার জলজ শাক। পানির ওপরে লতিয়ে চলে। যেমন-কলমি শাক পানির ওপরে ভাসে। হেলেঞ্চাকে ভারতে কেউ কেউ হিমমোচিকাও বলে। হেলেঞ্চা সংস্কৃত শব্দ। বাংলায় হিমমোচিকা।

বাংলাদেশের খালবিলে, নদনদী, পুকুরে সর্বত্র জন্মে এই শাক। তবে নোনাপানিতে হেলেঞ্চা হয় না। গ্রামে অনেকে পুকুরে হেলেঞ্চা ও কলমি লতা জন্মাতে দেয়। কারণ যে পুকুরে হেলেঞ্চা বা কলমি লতা থাকে, সে পুকুরের পানি সর্বদা পরিষ্কার বা স্বচ্ছ থাকে। তারপরও হেলেঞ্চার লতায় এক প্রকার আঁশ জন্মে, এগুলো মাছের প্রিয় খাদ্য। 

এই হেলেঞ্চার পাতা শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শাক স্বাদে তিক্ত। তবে হেলেঞ্চা শাক উপকারী। শীতের প্রথমেই ফুল ফোটে, ফুলের রং সাদা। পাতা ১ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। 

চলুন জেনে নেই হেলেঞ্চা শাকের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে। 

এই টমেটোর মৌসুমে নিজেই বানিয়ে নিন সস

খোসপাচড়া ও চুলকানি: শীত এবং বর্ষাকালে এ দুটি রোগ মানুষের খুবই কষ্টদায়ক । হেলেঞ্চা শাকের ৩/৪ চামচ রস সকালে একবার করে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। তবে কয়েক দিন নিয়মিত খাওয়া দরকার।

ঘামাচি ও ফুসকুড়ি : গায়ে কাঁটা বা ঘামাচি- প্রথমটি শীতে এবং দ্বিতীয়টি গরমকালে মানুষের জন্য খুবই কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। এ দুই রোগের জন্য হেলেঞ্চা পাতা সামান্য পানি দিয়ে বেটে তার রস সারা শরীরে মাখলে খুব শিগগিরই উপকার পাওয়া যায়। 

বসন্ত রোগের আক্রমণে: শরীরে দুয়েকটি গুটি দেখা দেয়া মাত্রই অর্থাৎ রোগের প্রথম অবস্থায় শ্বেতচন্দন গুঁড়ো দেড় থেকে দুই গ্রাম এবং হেলেঞ্চা শাকের রস আধা কাপ- এ দুটি ভালোভাবে মিশিয়ে খেলে শিগগিরই গুটি বের হয়ে যায়। 

যকৃতের দুর্বলতা: যকৃৎ (লিভার) দুর্বল হলে শরীরে নানা ধরনের রোগ দেয়া দেয়। ১০০ গ্রাম হেলেঞ্চা শাক ছোট ছোট করে কেটে, ১৫০ মিলিলিটার পানিতে পরিমাণ মতো লবণ মিশিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। পানি ফুটে এক কাপ পরিমাণ হলে পাত্রটি আঁচ থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। ঠাণ্ডা হলে ভাত খাওয়ার আগে ৪/৬ ফোঁটা সরষে তেল মিশিয়ে খেলে যকৃৎ সবল হয়। অবস্থা বুঝে দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়মিত খাওয়া দরকার।

 পিত্ত বাড়লে : হেলেঞ্চার পাতা বেটে তার ৩০ মিলিলিটার রস এবং গরু কিংবা ছাগলের দুধ (অবশ্যই গরম করে এবং ঠাণ্ডা অবস্থায়) ৫০ মিলিলিটার- এ দুটি একসঙ্গে মিশিয়ে রোজ খেলে শরীরে পিত্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হবে। গনোরিয়া রোগের জন্য একই পদ্ধতি এবং পরিমাণে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 

কোমরের যন্ত্রণা: কোমরের ঠিক নিচে ব্যথা বা যন্ত্রণা, পায়ের পেশীতে রাতের দিকে টান ধরা- এসব ক্ষেত্রে তিন চামচ হেলেঞ্চা শাকের রস, হাল্কা গরম করে সকালের দিকে খালি পেটে খেলে ভালো হয়ে যায়। নিয়মিত বেশ কিছুদিন খেলে আরো ভাল।

 রক্ত দূষিত হলে: ২০ মিলিলিটার হেলেঞ্চা শাকের পাতা ও ডাঁটা বাটা রস, এক চামচ চিনির সঙ্গে মিশিয়ে সকালে একবার করে খেলে দূষিত রক্ত পরিষ্কার হয়ে যায়। আবার অনেকের জিহ্বায় মোটা সাদা প্রলেপ পড়ে। ফলে অরুচি হয়। তারা কয়েক দিন হেলেঞ্চার রস গরম করে খান, অরুচি চলে যাবে।  

যারা নিম্ন রক্তচাপে ভূগছেন, তারা হেলেঞ্চার পাতার রস দুই চামচ, কলমি পাতার রস দুই চামচ, দুই চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে এক মাস রোজ সকালে খান, নিম্ন রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।