artk
মঙ্গলবার, মার্চ ১৯, ২০১৯ ১০:৫৭   |  ৫,চৈত্র ১৪২৫
মঙ্গলবার, আগষ্ট ১৪, ২০১৮ ১০:১৬

সংগ্রামী পুষ্প রানীর এগিয়ে যাওয়ার গল্প

media

ঝালকাঠি সদরের কৃত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলি গ্রামের একজন চাষি সুমন্ত সমাদ্দার। ১৯৯৪ সালে একটি দুর্ঘটনায় অন্ধ হন তিনি। এ অবস্থায় ১৫ বছর আগে বিয়ে করেন বানারীপাড়ার মেয়ে পুষ্পকে। তাদের সংসার জীবনে তিন ছেলে-মেয়ের জনক হয়েছেন সুমন্ত। বড় মেয়ে পিংকির বয়স ১৪ বছর, ছেলে সুমনের ৬ ও ছোট মেয়ে লক্ষীর বয়স ২ বছর।

সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে পড়াশোনা করানোর ইচ্ছে থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা পেরে ওঠেন না। সংসারের জন্য অর্থ উপার্জনে ক্ষেত-খামারে কাজ করে থাকেন পুষ্প, তার সঙ্গে মাঝে মধ্যে যান সুমন্ত। তবে, তার মজুরি না থাকায় বাড়িতেই বেশিরভাগ সময় কাটান তিনি।

বসতঘর আর একখণ্ড জমি ছাড়া আর কিছুই নেই অন্ধ সুমন্ত সমাদ্দারের। সেই বাড়ির চারপাশে ছোট ছোট নালা/খাল বয়ে যাওয়ায় বারো মাসই তাদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ডিঙি নৌকা।

পুরাতন নৌকাটি ভেঙে যাওয়ায় সেটি ঘাটেই বাঁধা থাকে। এরপর নতুন একটি নৌকা দিয়ে স্ত্রীর হাত ধরে সংগ্রামী জীবন পার করে যাচ্ছেন কোনো রকম। স্ত্রীর শ্রম ও ভালোবাসায় তিন সন্তান নিয়ে আর্থিকভাবে না হলেও মানসিকভাবে বেশ ভালো আছেন ৪০ বছর বয়সী সুমন্ত।

স্ত্রী পুষ্প রানী বলেন, ‘‘আমার সব কাজ সহজ ও গতিশীল করে দেন তিনি। সুমন্ত অনেক ভালো একজন মানুষ। যেকারণে তার সঙ্গে সংসার করছি। সে কখনোই আমার কোনো কষ্টের কারণ হয়নি। ক্ষেত-খামারে বা অন্যের বাড়িতে যখন কাজে যাই, সে সঙ্গে যায়। বসে যে কাজগুলো করা সম্ভব সেগুলো করে, এগিয়ে দেয়। ইচ্ছা আর আমার কর্মদক্ষতার কারণে নিজ জীবনের সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।”

পেয়ারা বাগান আর সবজি চাষাবাদ সব মিলিয়ে দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে সফল আত্মসংগ্রামী হিসেবে পুষ্প রানী নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার এ উদ্যোগী কার্যক্রমে সহায়তা করছেন তার অন্ধ স্বামী সুমন্ত সমদ্দার।

‘‘আপনারা তো দেখলেন, আমার স্বামী বাজার থেকে আমার সঙ্গে নৌকা বেয়ে নিয়ে এসেছে, আপনাদের মনে হয়েছে সে অন্ধ, আমি হাল ধরে বৈঠা বেয়েছি আর সে বৈঠা বেয়ে গতি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। যার ফলে স্বল্প সময়ে বাড়িতে চলে এসেছি। এভাবে আমার সব কাজের সহায়ক হিসেবে কাজ করছে সে।”- বলেন পুষ্প রানী।

বড় মেয়ে পিংকি বলেন, ‘‘টাকার অভাবে পড়াশুনা করতে পারিনি, মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, মানুষের ছেঁড়া জামা-কাপড় গায়ে পড়ে দিন যাপন করতে হয়েছে, ভাগ্যক্রমে ঈদ উপলক্ষে মামা-নানা বাড়ি থেকে কখনও নতুন জামা পেলে পরতাম, না হলে পুরাতন জামা দিয়েই ঈদ পালন করেছি, খাট-বিছানা-টিভি-ফ্রিজ-সোফা ইত্যাদি বাসায় থাকা তো দূরের কথা, ঘরে একটা চকিও না থাকায় মাটিতে মাদুর বিছিয়ে ঘুমাতে হয়, মাঝে মধ্যে ঠান্ডা লেগে অসুখ হলেও টাকার অভাবে ডাক্তার দেখানো বা ওষুধ কেনা সম্ভব হতো না।”

সুমন্ত সমাদ্দার বলেন, ‘‘এই বাড়ির ভিটেটুকুন ছাড়া কিছু নেই। বছরের বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী মানুষের বাড়িতে গিয়ে কাজ-কর্ম করে যে টাকা আয় করে তা দিয়ে সংসার চলে। সেখান থেকে কিছু টাকা দিয়ে পেয়ারার ৩টা ১শ ফুট লম্বা কান্দি বরগা নিয়েছেন গাছসহ। যেখানে থেকে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস জুড়ে প্রায় প্রতিদিনই ২/৩শ টাকার পেয়ারা বিক্রি করছি।”

তিনি আর ও বলেন, “আমাদের ভাগ্য ভালো খড়ার কারণে ফলন ভালো না হওয়ার ভয় ছিল। উপরওয়ালা সহায় থাকায় পেয়ারার ফলন এবার ভালোই হয়েছে। এইবার মৌসুমের শুরুতেই ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পেয়ারার দাম কমে গেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর পেয়ারার ফলন কম কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বেশি আবার দামও কম। অনাবৃষ্টির কারণে উৎপাদিত পেয়ারাগুলো আকারে কিছুটা ছোট এবং ফলও এসেছে বিলম্বে।”

সুমন্ত সমাদ্দারের কাকাতো ভাই পরিমল সমাদ্দার জানান, স্ত্রীর হাত ধরেই বছরের পর বছর এগিয়ে চলছে অন্ধ সুমন্ত। আয়-রোজগার করে পুষ্পের কারণেই বেঁচে আছে তারা। এ পরিবারের সবাই নৌকা বাইতে জানে। তাই পথ না থাকলেও চলতে ফিরতে কষ্ট হয় না।

স্বামীর অন্ধত্ব ও দারিদ্র্যতা পুষ্পকে থামাতে পারেনি। বেঁচে থাকার জন্য পুষ্পদের এগিয়ে চলা থামবে না কখনোই। আর একদিন মেঘের পাড় ভেঙে আলোরা এসে পৌঁছবেই এ বিশ্বাসে পুষ্প রানী প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখে যায়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএস

রাজধানীতে প্রাইভেটকার চালককে গুলি করে হত্যা বছরে ২ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে মেরিন গ্রাজুয়েটরা রাজধানীতে বাসচাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী নিহত রাতে সুনিদ্রার সহজ কিছু কৌশল সুখী হওয়ার ৫ উপায় কাব্য বিলাস মঞ্চায়ন করল ‘হইয়া গেল নির্বাচন’ ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার ডাকসুর প্রথম সভা ২৩ মার্চ সিডনিতে ‘বহুজাতিক বৈশাখী মেলা’ ১৩ এপ্রিল বিএনপির আরো ৫ নেতা বহিষ্কৃত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে সজনে ডাটা স্তন ক্যান্সার শনাক্তকারী বক্ষবন্ধনী আবিষ্কার চট্টগ্রামে তিন নারী ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার জিয়া ভোটের রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে: হাসিনা ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: রেলমন্ত্রী নেদারল্যান্ডসে হামলাকারী তুরস্কের নাগরিক রাতে সিল মারা ঠেকাতে ব্যালট পেপার যাবে সকালে: ইসি সচিব ভুয়া মামলাকারীর বিরুদ্ধে চার্জশিট নাচের লড়াইয়ে মাধুরী-আলিয়া, জিতল কে? পুঁজিবাজার মন্দার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের জন্য দোয়া, মনোবিদের কথা ভাবছে বিসিবি টালিউডের সৃজিতকে বিয়ে করছেন মিথিলা! টেস্ট জিতে আফগানদের ইতিহাস ডাকাতের কবলে রোজী সিদ্দিকী শিষ্যদের রেখে ফিরে গেলেন রোডস-শ্রীনিবাসন বলিউডে কার অভিষেক হচ্ছে? বিদেশ সফরে নিরাপত্তার বিষয় সবার আগে: বিসিবি শ্রীলঙ্কায় দ্বি-পাক্ষিক সাইডলাইন বৈঠকে দুদক চেয়ারম্যান রাঙ্গামাটিতে ভোট শেষে গুলি, প্রিসাইডিং অফিসারসহ নিহত ৬ মাছের খামার করলেই নিবন্ধন