artk
সোমবার, আগষ্ট ১৯, ২০১৯ ১২:১৭   |  ৩,ভাদ্র ১৪২৬
শনিবার, জুন ১৬, ২০১৮ ২:৩৪

ঈদের রঙ বদলে যায়

media

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সকল ভেদাভেদ ভুলে নিজের খুশি সবার সাথে ভাগ করে নেয়া। ঈদের রঙ নতুন জামায়, ঈদের রঙ ফিন্নী পায়েসে, ঈদের রঙ নতুন চাঁদে, ঈদের রঙ শিশুর হাসিতে। আজ যখন পেছন ফিরে তাকাই তখন মনে হয় ঈদের খুশির অনেকটাই যেন রেখে এসেছি শৈশবে। ছোটবেলায় আমার ঈদ শুরু হতো শবে বরাতের রাত থেকেই। শবেবরাত নিয়ে আসত ঈদের আগমনী বার্তা। শবেবরাতে সন্ধ্যা হতে না হতেই মরিচবাতি, তারাবাতি, পটকার আওয়াজ, বাসায় বাসায় নানান রঙের হালুয়া মিঠাই পাঠানো, আমাদের শিশু মনে একটাই কথা বলতো “আসছে খুশির ঈদ”। তখন শবেবরাতে কত রঙের হালুয়া মিঠাই এর যে আয়োজন হতো, বাড়ি বাড়ি নিয়ে যাবার দায়িত্ব ছিল আমাদের, আমরা যারা ছোট ছিলাম। কই আজ তো তেমনটা আর চোখে পড়ে না। ফেসবুকের কল্যাণে সবই এখন ভারচুয়াল। এখন যে সময় ব্যয় হয় হালুয়া রুটির ছবি তুলতে আর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে তার অনেক কম সময়ে আমরা ছড়িয়ে দিতাম ঈদের আগমনী বার্তা পাড়ার সব ঘরে ঘরে।  

ছেলেবেলায় ঈদ মানে রোজা শুরু হবার আগেই নতুন পোশাকের বায়না, সাথে চাই জুতা, মোজা, রঙিন ফিতা, ছোট্ট হাতের চুড়ি, এমনকি পারলে নতুন সুবাস মাখা শ্যাম্পু সাবান। মা’র কাছে আমার আবদার তেমন পাত্তা পেত না, বাবাই ভরসা। বাবার হাত ধরে নতুন জামা, বাবার হাত ধরেই ঘুরতে যাওয়া। ঈদ শুরু হতো শবেবরাতের সাথে আর চলতো ঈদের পরে কয়েক দিন যাবত। ঈদের দিন শেষে সালামি গুণবার যে উত্তেজনাপূর্ণ আনন্দ তার সামনে আজকের বহু বড় সাফল্যও নিতান্তই পানসে মনে হয়। ঈদের সালামিই তখন সারা বছরের একমাত্র উপার্জন। কত সাবধানেই না গুনতাম আর জমিয়ে রাখতাম সেগুলো।

দুটো ঈদের সকালই আমার শুরু হতো বাবার দেয়া এক তোড়া লাল গোলাপের সাথে। তখনতো আর ফ্রেনসেস এন্ড প্যাটেল আসেনি যে নিখুঁত মাপ মত রঙিন গোলাপ চাইলেই কেনা যেত, তবু কোথা থেকে যেন বাবা ঈদের সকালগুলোতে ঠিক ঠিক মাপ মত অপূর্ব লাল গোলাপ নিয়ে আসত আমার জন্য। তারপর ঈদের নামাজ শেষ হতে না হতেই বাসায় মেহমান। মা ছিলেন শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাবা রাজনীতিবিদ। সুতরাং দুতরফেই পরিচিত মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তারপর আছে স্বজন পরিজন। আজকের মতো তখনও বিদেশ বিভুইয়ে ‘ আমিটি আর তুমিটি’ নিয়ে ঈদ করবার প্রথা চালু হয় নাই। মানুষ তখন নিজের খুশি ছডিয়ে দিত চারপাশে। পরিবার আর  প্রতিবেশির মাঝে ফারাক ছিলনা তেমন। সম্প্রীতির সূতোয় টান পড়েনি কখনো।

রাজনীতিতে আসার পর আমার ঈদগুলো হয়েছিল অন্যরকম। প্রথমেই আমি যে দায়িত্ব পেয়েছিলাম তাতে সকাল কাটতো কূটনীতিবিদদের সাথে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে  যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন সর্বস্তরের নেতাকর্মিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও কূটনীতিকদের সাথে। সন্ধ্যায় থাকত চেয়ারপার্সনের বাসায় ছোট্ট আয়োজন। ঈদের দিনের সারাটা বেলা কাটতো আনন্দঘন ব্যস্ততায়। আর রমজান আসত ইফতারের ব্যস্ততা নিয়ে। রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে পেশাজীবি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সাথে ইফতারে পার হতো রোজা। তারাবিহ পড়া হতো গুলশান কার্যালয়ে দেশনেত্রীর সাথে। এ যেন নিজের ছোট পরিবারের বাইরে বড় একটি পরিবার। সদস্যদের মাঝে ভালবাসা আছে, মমত্ববোধ আর সম্প্রীতি আছে, আছে এক পরিবারভুক্ত হবার একাত্মতাবোধ।

সাল ২০১৮।। এবার রমজানের পুরো প্রেক্ষাপটটাই সম্পূর্ন ভিন্ন। দেশনেত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন যিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী প্রতিটি নেতা কর্মীর অন্তরে মায়ের আসনে অসীন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ৪ মাসের অধিক সময় ধরে কারান্তরীণ। যে মামলাটিতে, যে কোন বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য, সেই মামলাটিতেই দীর্ঘ তিন মাস ঘোরানোর পর সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও মুক্তি মেলেনি তাঁর। একটির পর একটি নতুন মামলা এসে মুক্তির পথ রুদ্ধ করেছে। এবারের রমজানে তাই নিতান্তই দায়িত্ব পালনের খাতিরে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে ছোট পরিসরে। চেয়ারপারসনের জন্য রেখে দেয়া শূণ্য আসনটি আমাদের কষ্টই বাড়িয়েছে কেবল। বহু বছর পর এবার ঈদের দিনটি কাটবে তাঁকে ছাড়া। তিনি এক লৌহমানবী, যাকে ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্রের জন্য একা লড়াই করতে হয়েছে বারংবার। ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, হারিয়েছেন প্রাণপ্রিয় স্বামী, প্রাণাধিক পুত্রকে। মাইনাস টু  ফর্মুলা বাস্তবায়নকালে জেলে থাকা অবস্থায় হারিয়েছেন মা’কে। তবু মুহূর্তের জন্য বিচ্যুত হননি নিজের পথ থেকে, ন্যূনতম আপোষের কোন ইতিহাস নেই তাঁর জীবনে। শুনতে পাই অন্ধকার কারা প্রোকষ্ঠে দুর্বিসহ জীবন তার। ২০০ বছরের পরিত্যক্ত ভবনের স্যাঁতস্যাঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্রমেই স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। বিশাল এই পুরাতন ভবনে একা বন্দী তিনি। এর মাঝে মাথা ঘুরে পড়ে আঘাত পেয়েছেন। ৪/৫ দিন পর্যন্ত এই খবর সরকার গণমাধ্যমে আসতে পর্যন্ত দেয় নাই। এই দেশে যেখানে ইয়াবা ব্যবসায়ী, সিরিয়াল কিলার কিংবা ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীরা বেসরকারি হাসপাতালে বিনা অসুখে বিলাসবহুল চিকিৎসা সেবা পায় সেখানে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধানের স্ত্রী, বাংলাদেশের গনমানুষের নেত্রী বিনা চিকিৎসায় অসুস্থ থেকে অসুস্থতর হতে থাকে আর আমরা নিশ্চুপ তাকিয়ে রই।

গত ১০ বছরের স্বৈরশাসন আমাদের কাছ থেকে কেডে নিয়েছে বহু নেতাকর্মীর প্রাণ, গুম আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অনেকে, রাজনৈতিক মামলায় অনেকেই কারাগারে, ফেরারী অনেকেই নিজ এলাকায় ঢুকতে পর্যন্ত পারেনা কেবলমাত্র দল করার অপরাধে। এ পর্যন্ত কত মা হারিয়েছে তার সন্তান, বোন হারিয়েছে ভাই, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামী, শিশু হারিয়েছে পিতাকে তার হিসাব পর্যন্ত নেই। অনেকে অপেক্ষার প্রহর গোনে, একদিন হয়তো ফিরে আসবে প্রিয় মুখটি। সবকটা জানালা তারা খোলা রাখে, বিশ্বাস করে এই দেশকে ভালবেসে যারা হারিয়ে গেছে তারা আসবে একদিন, চুপি চুপি। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় অপেক্ষার প্রহর, কিন্তু আমরা আশা হারাই না।

এই ঈদ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী প্রতিটি পরিবারের জন্য বড় কষ্টের। এখানে আছে প্রানপ্রিয় নেত্রীকে এক নজর দেখতে না পাবার বেদনা, আছে স্বজন হারানোর কষ্ট, আছে অপেক্ষার দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী। তবু আমরা আশায় বসত করি। জানি এই অন্ধকার কাটবেই। আঘাত এসেছে বারংবার কিন্তু ভেঙ্গে পডিনি, তীব্র কষ্ট সহ্য করেছি কিন্তু হাল ছাড়িনি। হারিয়েছি অনেক সহযোদ্ধা কিন্তু পরাজয় স্বীকার করিনি। যার নেত্রী জীবন সায়াহ্নে এসেও গেয়ে যায় জীবনের গান, একাকী পাড়ি দেয় বন্ধুর পথ, প্রিয় সন্তানের ছায়া খুঁজে পায় তাঁর লক্ষ সন্তানের মাঝে তার জয় রুখবে সাধ্য আছে কার? তাই স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আমি মুক্তির স্বপ্ন দেখি ১৬ কোটি মানুষের, স্বপ্ন দেখি একটি মানবিক রাষ্ট্রের। আমি জানি আমার এই স্বপ্ন পূরণ হবেই, আমরা লডাই করতে শিখেছি, হারতে নয়।  

লেখক: আইনজীবী ও রাজনীতিক

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে

পেয়ারা পাড়তে গিয়ে স্কুলছাত্রীর করুণ মৃত্যু খুলনার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ ভারত পরমাণু যুদ্ধ বাধাতে পারে: ইমরান খান রাঙামাটিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনা সদস্য নিহত এক মাসেই তিনবার বাড়লো সোনার দাম ছাত্রদলের নেতেৃত্বে আসতে মনোনয়নপত্র কিনলেন ১০৮ জন ‘অদৃশ্য খুঁটির’ জোরে ৪ লাখ টাকার গাছ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি সিপিডির ভবনে এডিস মশার লার্ভা, ২০ হাজার টাকা জরিমানা শোক দিবসের আলোচনা সভা করবেন ড. কামাল চামড়া শিল্পে আপাতত সমস্যা নেই: শিল্পমন্ত্রী শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের রক্তদান সোমবার রাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অতিরিক্ত ডিআইজি হলেন পুলিশের ২০ কর্মকর্তা এএসপির মেয়ের টেবিলের ওপর আঘাত হানলো কনস্টেবলের গুলি চামড়া বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্তে নেই আড়তদাররা দেশে এলো কলকাতায় নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ ২৪ ঘণ্টায় ১৭০৬ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে সাকিবের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব নেই: মাহমুদউল্লাহ বিমানবন্দরে ১০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ধর্ষণ মামলায় খুলনার কর কমিশনারের ছেলে রিমান্ডে মওদুদ আহমদ এ যুগের শয়তান: কৃষিমন্ত্রী রেকর্ড গড়া টেস্টে কিউইদের ৬ উইকেটে হারালো শ্রীলঙ্কা জারিন খানকে বিয়ে করছেন সালমান! এফআর টাওয়ার দুর্নীতি মামলায় তাসভির গ্রেফতার লঙ্কানদের কাছে টাইগারদের লজ্জার হার আলোকচিত্রী শহিদুলের বিরুদ্ধে মামলায় হাই কোর্টের আদেশ বহাল নিজেই তৈরি করুন পছন্দের নেইল পলিশ ভেড়ার লোভে স্ত্রীকে দিলেন প্রেমিকের হাতে! ঈদ পরবর্তী কার্যদিবসে সূচকে উত্থান খাবার দিতে দেরি করায় ওয়েটারকে গুলি করে হত্যা