artk
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ ৮:০৯   |  ১১,মাঘ ১৪২৫
সোমবার, জুন ৪, ২০১৮ ৬:২৮

আমরা নিদারুণ ভীতির মধ্যে বেঁচে আছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

media

একটিমাত্র শব্দ দিয়ে সভ্যতা এবং বর্বরতার মাঝে খুবই সুস্পষ্ট সীমারেখা টানা যায়। শব্দটি হচ্ছে– প্রক্রিয়া (Process)।

আধুনিক সভ্যতায়, প্রতিটি দেশই এই যথাযথ প্রক্রিয়াকে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু পুরোপুরি বাদ দেয়ার কথা কেউ আসলে চিন্তা করতে পারে না। সম্ভব না। বিশেষ করে আইনি প্রক্রিয়া সংক্ষেপ করার চিন্তা সত্যিকারের কোন উন্নত অথবা উন্নয়নশীল কোন দেশ করে না। যদিও আমাদের দেশে এ ধরণের উদাহরণ বিরল নয়। আরও কিছু দেশেও দ্রুত বিচারের নামে বিশেষ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দেখা যায়, যা মূলত বিচার প্রক্রিয়া ছেঁটে ফেলার এক ধরনের টুল।

বিচারের প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করার যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে মানবাধিকার পরিপন্থী। সত্যিকারের বিশেষ পরিস্থিতি (যেমন– নুরেমবার্গ বা ঢাকার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল) ছাড়া বিচার প্রক্রিয়ায় কাটছাঁট করা, এককথায় অমানবিক। একটি আইনসংগতভাবে প্রতিষ্ঠিত আদালতে, অভিযোগকারীর উপস্থিতিতে, আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার যে কোনো অপরাধী/অভিযুক্তের থাকতে হবে। সাথে থাকতে হবে উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ। অপরাধের মাত্রার উপর ভিত্তি করে আইনি প্রক্রিয়ার দৈর্ঘ্য নির্ধারিত হওয়া উচিৎ নয়। কারণ এটাই সভ্যতা। এর বাইরে যে কোনো ধরনের সাজেশন, নিতান্তই বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ।

আমার খুব অবাক লাগে, যখন দেখি আমরা এই বিতর্কে ব্যস্ত যে– একরামুল মাদক ব্যবসায়ী ছিল কি ছিল না! ধরে নিচ্ছি সে মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তাতে করে কি, যে প্রক্রিয়ায় তাকে এক্সিকিউট করা হলো, সেটি বৈধ হয়ে যায়? বাকি ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানি না, কিন্তু এই ঘটনায় তো এভিডেন্স আছে, তাই না?

ক্রস-ফায়ার বা বন্দুক-যুদ্ধ যাই বলুন, সেটি একটি আকস্মিক ঘটনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একজন আইন-প্রয়োগকারী যখন অভিযানে যান, তখন যদি তার নিজের নিরাপত্তাই হুমকির সম্মুখীন হয় তখন আত্মরক্ষার্থে অস্ত্রের ব্যবহার তারা করতেই পারেন। কিন্তু পরিকল্পনা কিংবা তালিকা করে ক্রস-ফায়ার বা বন্দুক-যুদ্ধের ঘটনা কিভাবে ঘটানো সম্ভব?

Process আসলে শুধুমাত্র সভ্যতার মাপকাঠিই নয়, একটি গণতান্ত্রিক দেশে এটি আমাদের রক্ষাকবচও। নাগরিক সুরক্ষার এই আবশ্যিক উপাদানটির অনুপস্থিতি, আমাদের মধ্যে ভীতি ও আস্থাহীনতার জন্ম দিচ্ছে। এদেশে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা এবং যুদ্ধাপরাধীরাও তো যথাযথ আইনি সুরক্ষা পেয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, প্রত্যেকটি ধাপ সম্পন্ন করে, অভিযুক্তদের প্রাপ্য প্রত্যেকটি অধিকার নিশ্চিত করেই তাদের যথার্থ বিচার সম্পন্ন ও শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। তাহলে এই একই অধিকার মাদক ব্যবসায়ী (ধরে নিচ্ছি) একরামুল কেন পাবেন না? তার কথিত অপরাধ নিশ্চয়ই একজন যুদ্ধাপরাধীর কৃতকর্মের চেয়ে মারাত্মক না কিংবা শিশু রাসেলের হত্যাকারীর চেয়ে নির্মম না। ঐসব নরাধমের পরিবার যদি তাদের সাথে শেষ দেখা করার সুযোগ পায়, একরামুলের স্ত্রী-সন্তানেরা কেন সেই সুযোগ পাবে না? প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা খুবই জরুরি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশের অনেক বড় বড় সংকট, দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে আপনি মোকাবেলা করেছেন। আপনার দেশের নাগরিকেরা এই মুহূর্তে খুব সম্ভবত সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে– ‘সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট’।

আমরা নিদারুণ ভীতির মধ্যে বেঁচে আছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এ সময় আপনাকে আমাদের (দেশের মানুষের) পাশে দরকার, খুব দরকার...

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে