artk
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ ৮:০৬   |  ১১,মাঘ ১৪২৫
সোমবার, মে ২১, ২০১৮ ৯:১৪

এ মগজের মল রাখি কোথায়!

media

দেশের বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে কমবেশি সবাই আমরা পরিচিত। নিয়োগের ধাপে ধাপে কেবল অর্থেরই ছড়াছড়ি! অর্থ, স্বজনপ্রীতি আর চাটুকারিতার কাছে ‘মেধা’ এখানে বরাবরই ধরাশায়ী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলছে এই অনাচার।

আর এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের প্রাণপ্রিয় এই মাতৃভূমিকে। তৈরি হচ্ছে শিক্ষার বাইপ্রোডাক্ট-অর্ধশিক্ষিত অশিক্ষিত, উন্নাসিক অনুর্বর এক দুর্বৃত্তিক প্রজন্ম।

বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার সাথে এখন আর সংশ্লিষ্টতা নেই শিক্ষিতজনের। সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্ববান মানুষ এখানে ব্রাত্য। অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিতের আস্ফালনে এ অঙ্গনের আকাশবাতাস পুতিগন্ধময়। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সভাপতি-সকল পদেই এদের এক অসহনীয় বাড়বাড়ন্ত।

মেধা মনন মানবিকতা, বোধ ব্যক্তিত্ব বিচক্ষণতার লেশমাত্র যাদের চালচরিত্রে নেই- তারাই এদেশে শিক্ষাঙ্গনের অভিভাবকত্বের দায়িত্বে নিয়োজিত। স্বাধীনতার্জনের পর জাতি গঠনের প্রশ্নে এত বড় গলদ সম্ভবত এদেশে দ্বিতীয়টি নেই।

বিদ্যাবুদ্ধির ঘট শূন্য থাকলেও কূটচাল আর লোভের ভাণ্ড এদের সবসময়ই পরিপূর্ণ। তাই শিক্ষাবিকাশের দায়িত্ব পালনে অনীহ বা অক্ষম হলেও পদ বাগানোতে এরা ওস্তাদ। এই সভাপতি আর সদস্যপদ লাভের অসুস্থ প্রতিযোগিতার বলি হচ্ছেন নিরুপায় শিক্ষকগণ। দেশব্যাপী অপদস্থ ও লাঞ্ছিত হচ্ছেন তারা। কেউ তাদের কান ধরে উঠবস করায় তো কেউ করে শারীরিক আঘাত।

এবার তো শিক্ষক পীড়নের নারকীয়তা পূর্বের সমস্ত সীমাকে অতিক্রম করেছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জে বয়োবৃদ্ধ এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে মাথায় মল দিয়ে লাঞ্ছিত করা হলো।

আসলে মল লেপন করা হলো পুরো বাংলাদেশের ললাটে! পদলোভী দুর্বৃত্তদের মগজের মল উঠে এলো আমার দুঃখিনী বাংলাদেশের ললাটে!

এ লজ্জা রাখি কোথায়! এ মদমত্ত মল-মগজ বর্বরদের ধৃষ্টতার শেষ কোথায়!

লেখক: প্রভাষক (বাংলা), শ্রীবর্দী সরকারি কলেজ

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে