artk
রোববার, সেপ্টেম্বার ২২, ২০১৯ ২:৩৯   |  ৭,আশ্বিন ১৪২৬
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৫ ৫:০৮
সেন্ট মার্টিনস-১

পর্যটকের পদভারে অতিষ্ঠ দ্বীপের প্রাণ

media

দ্বীপটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত। তবে দেশবিদেশে একনামে পরিচিত সেন্ট মার্টিনস আইল্যান্ড বা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নামে। হুমায়ূন আহমেদ তার প্রিয় এই দ্বীপটির নাম দিয়েছিলেন দারুচিনি দ্বীপ। বর্তমানে বহুমাত্রিক দূষণ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে অনেকের প্রিয় স্বপ্নভূমি এই দ্বীপ। দ্রুতহারে হ্রাস পাচ্ছে এর জীববৈচিত্র্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের আবাসস্থল।

ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত অগণিত ও ক্রমবর্ধমান পর্যটকের অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপই মূলত সেন্ট মার্টিনসের পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

অথচ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে নারিকেল জিঞ্জিরাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু শুধু ঘোষণা দিয়েই দায় সেরেছে সরকার। ঘোষণায় যে সব নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে তার ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে দ্বীপটিতে। দেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপটির পরিবেশ রক্ষায় কোনো পদক্ষেপই প্রায় নেই সরকারের। দ্বীপটিকে অকালে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে কোনো আশার কথাও শোনাতে পারেননি পরিবেশ অধিদফতরের সেন্ট মার্টিনস বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা।

দ্বীপে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাতে সৈকত সংলগ্ন হোটেল, মোটেল ও দোকানের আলো এবং পর্যটকের জ্বালানো আগুনের আলোর প্রভাবে সামুদ্রিক কাছিমগুলো ডিম পাড়ার জন্য ভিড়তে পারছে না সৈকতে। কাছিম ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থলগুলোতে অবাধে চলাচল করছে পর্যটকরা। প্রবাল ও শৈবালযুক্ত পাথরের উপর দিয়ে হাঁটাচলা করছে উদাসীন পর্যটকের দল।

বেখেয়াল-বেপরোয়া পর্যটক দ্বারা প্রবাল, শামুক, ঝিনুক আহরণ ও স্থানীয়দের দ্বারা বিক্রি চলছে প্রকাশ্যেই। অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানি ও মাটি দূষণসহ টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবও লক্ষ করা গেছে দ্বীপজুড়ে। চলছে অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ, ধ্বংস হচ্ছে বালিয়াড়ি, নিধন করা হচ্ছে সাগরপাড়ের কেয়াবন ও ঝোপঝাড়, চলছে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন।

এছাড়াও যেখানে সেখানে কাঁটাতারের ঘেরার কারণে জীবজন্তুর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, অতিরিক্ত মৎস আহরণ ও অবৈধ জালের ব্যবহার, জ্বালানির জন্য কেয়াবন, প্যারাবন ও গাছপালা উজাড়, জোয়ার-ভাটা অঞ্চল ও অভ্যন্তরীন জলাভূমি থেকে পাথর উত্তোলন, নৌকা ও জাহাজের তেলে সমুদ্রের পানি দূষণ, জাহাজ ও নৌকার নোঙ্গর ফেলে প্রবাল ধ্বংসসহ নানাবিধ কারণে ধ্বংস হচ্ছে এ দ্বীপের পরিবেশ।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেন্ট মার্টিন্সে প্রবাল-শৈবালের অধিকাংশ প্রজাতিই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পর্যটকবাহী জাহাজ থেকে নির্গত তেল ও সাগরে ফেলা ময়লা-আবর্জনা, জাহাজ চলাচলের কারণে সৃষ্ট কাদা প্রবালস্তরে গিয়ে জমাট বাঁধার কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে প্রবাল। এক সময়ে পাওয়া যেতো এমন কয়েক ধরনের সাপ, গুইসাপ বা সমুদ্র শশাকে এখন আর দ্বীপে দেখা যায় না । আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে কাছিম।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেন্ট মার্টিনস কনজারভেশন প্রকল্পে মার্কিন কোরাল বায়োলজিস্ট টমাস টমাসিকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্ট মার্টিন্সে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮৫০ জন পর্যটক পরিদর্শন করলে এ দ্বীপের ক্ষতি হবে না। তবে আনুষঙ্গিক শর্ত হিসেবে পর্যটকরা রাতে দ্বীপে অবস্থান করতে পারবে না এবং পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করতে পারবে না। অথচ শীত মৌসুমে দিনে তিন থেকে চার হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন্স যাচ্ছেন, রাতে থাকছেন, করছেন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ। পর্যটকদের পরিবেশ-সচেতন করতে তেমন কোনো কার্যক্রমই দেখা যায়নি এ দ্বীপে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেছেন, নারিকেল জিঞ্জিরার ভূ-গর্ভে ধারণকৃত খাবার পানি সীমিত। কিন্তু ক্রমবর্ধমান পর্যটকের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্তি খাবার পানি উত্তোলনের ফলে শুধু পানি সংকটের কারণেই অদূর ভবিষ্যতে বসবাস অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে এ দ্বীপটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবেশ অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা বলেন, পর্যটকদের চাপেই নাভিশ্বাস উঠেছে নারিকেল জিঞ্জিরার। তারা যে হারে প্রবাল, ঝিনুক আহরণ করছেন তাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ দ্বীপটির পরিবেশ ব্যবস্থা। এর ফলে এক সময় সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে দ্বীপটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সাইন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ-উন-নবী বলেন, “ক্রমবর্ধমান পর্যটকই সেন্ট মার্টিনসের জন্য প্রধান হুমকি। কারণ, বেশিরভাগ পর্যটকের কর্মকাণ্ডই পরিবেশবান্ধব নয়। তাদের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপই এ দ্বীপটির পরিবেশ ধ্বংস করে ফেলছে।”

তিনি বলেন, “এ দ্বীপে আসতে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত না করে বরং পর্যটনকে সীমীত করতে হবে এবং পর্যটকদের পরিবেশবান্ধব করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। জাহাজে উঠা এবং দ্বীপটিতে প্রবেশের আগেই এ কার্যক্রম চালাতে হবে।”

এ বিষয়ে সেন্ট মার্টিনস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পর্যটক দ্বারা নানাভাবে সেন্ট মার্টিনসের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পর্যটকদের পরিবেশসম্মতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এ দ্বীপ বাঁচবে। স্থানীয়দের যাতে ক্ষতি না হয় এবং এ দ্বীপের পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় এ জন্য স্থানীয়দের সাথে বসে সরকারের একটি নীতিমালা করা প্রয়োজন।”

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গোলাম রব্বানী বলেন, “সেন্ট মার্টিন্সের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে আমরা মনে করি না। আমরা সেখানে পর্যটনকে উৎসাহিত করার জন্য ইকো ট্যুরিজমের পরিকল্পনা করেছি। যেহেতু সেন্ট মার্টিনসে যেতে কাউকে সরাসরি নিষেধ করা যাবে না। তাই পর্যটকদের সেখানে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে ট্যাক্স, টোল ও জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধির চিন্তা করছি। যাতে করে যে কেউ চাইলেই যেন যেতে না পারে।”

তিনি বলেন, “জনগণের পরিবেশ সচেতনতার অভাব রয়েছে। আমরা জনগণকে সচেতন করতে পারি। কিন্তু পর্যটকদের দ্বারা প্রবাল চুরি বা স্থানীয় অধিবাসীদের দ্বারা প্রবাল বিক্রি রোধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তর তো পাহারাদার বসাতে পারবে না। এ অধিদপ্তরের তো পুলিশ বাহিনী নাই। আমরা শুধু এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা স্থানীয় সরকারকে চাপ দিতে পারি, সেন্ট মার্টিন্সের পরিবেশ রক্ষা করতে তাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) এ এম মনসুরউল আলম বলেন, “সেন্ট মার্টিনসের জন্য আমরা নতুন নীতিমালা করার চিন্তা করছি। নীতিমালা অনুমোদিত হলে আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সেন্ট মার্টিনস বিষয়ক দায়িত্বগুলো ভাগ করে দিতে পারি। তখন এটি বাধ্যবাধকতার মধ্যে নিয়ে আসা যাবে। যেমন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে সেন্ট মার্টিন্সে জাহাজের ট্রিপের সংখ্যা কমিয়ে ফেলতে বলা হবে, টোল ও জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে, যাতে করে বেশি লোক যেতে চাইলেই যেতে না পারে। দ্বীপটির ধারণ ক্ষমতার মধ্যে যাতে পর্যটকদের সংখ্যা থাকে। যদিও এখন পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনন্সে পর্যটকদের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/একে


নারায়ণগঞ্জে ডিবির গুলিতে পোশাক শ্রমিক আহত ১৫ বছর বয়সে ধর্ষিত হয়ে বাড়ি ছেড়েছেন নায়িকা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবেন না ধোনি সদলবলে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক কোহলিদের ভাতা দ্বিগুণ করলো ভারত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মিন্নি থানায় তরুণীকে গণধর্ষণ: সাবেক ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা লোহাগড়ায় তিন শিক্ষককে হাতুড়িপেটা বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে কড়া সমালোচনা জাতিসংঘে কুষ্টিয়ায় রিকশাচালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার আবৃত্তিকার কামরুল হাসান মঞ্জু আর নেই ক্ষমতায় টিকতে ১৩৪ জনকে হত্যা যুবরাজের ‘বেঁচে থাকতে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হতে দেব না’ তেল শোধনাগারে হামলার প্রতিশোধ নেবে সৌদি আরব ‘মিসেস বাংলাদেশ’ হলেন মুনজারিন অবনী টেকনাফে আটকের পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা দম্পতি নিহত বাগেরহাটে ধর্ষণ মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার পানির নিচে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু লাইবেরিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে কুরআন তেলাওয়াতরত ২৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু ভারত থেকে অস্কারে যাচ্ছে ‘গাল্লি বয়’ সাকিব তাণ্ডবে আফগানদের বিরুদ্ধে জয় পেল টাইগাররা শিবপুরে মদপানে দুই শ্রমিকের মৃত্যু পাটগ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে কলেজছাত্রীর অবস্থান চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদেও জুয়ার আসর ১৩০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন এই অন্ধ পর্যটক ৪০ কোটি টাকা নিয়ে পালানো সেই টার্কি বাবলু স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার দুর্নীতির দায়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল চলমান অভিযান জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি করবে: টিআইবি স্কুল মাস্টারের ছেলে জি কে শামীমের ডন হয়ে ওঠা রাজধানীর ভূতের আড্ডায় অভিযান!