artk
বুধবার, এপ্রিল ১, ২০১৫ ২:২৪
জেএমবি উত্থানের ১১ বছর

আক্রান্ত পরিবারগুলো বিচার পায়নি আজও

media

নাটোর: নাটোরের নলডাঙ্গা এলাকায় জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) উত্থানের ১১ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে নলডাঙ্গাসহ রাজশাহী ও নওগাঁর কিছু এলাকায় উত্থান ঘটে জেএমবি নামের একটি জঙ্গি সংগঠনের। তবে জেএমবি উত্থানের প্রায় এক যুগ হতে চললেও এ সংগঠন কর্তৃক বর্বরতার শিকার পরিবারগুলো এখনও বিচার-বঞ্চিত।

উত্থান পরপরই সর্বহারা নিধনের নামে একের পর এক সাধারণ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে জেএমবি। অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় অনেককে। এখনও যারা জেএমবির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে বেঁচে আছেন, আতঙ্ক আর ভয়ে দিন কাটে তাদের।

সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল নাটোরের নলডাঙ্গার সরকুতিয়া এলাকার যুবক ওসমান বাবু ওরফে ওয়াসিম বাবুকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় জেএমবি সদস্যরা। পরে তাকে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় নিয়ে গিয়ে প্রক্যাশ্যে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। জেএমবি নেতা বাংলা ভাইয়ের হাতে নিহত ওসমান বাবু ওরফে ওয়াসিম বাবুর জবাই করা মরদেহ জেএমবির সদস্যরা নাটোরের সীমানা পেড়িয়ে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় ফেলে যায়। এর কয়েকদিন পরই সোনাপাতিল স্কুল মাঠে মাইকিং করে জড়ো করা হয় প্রায় ৫০ গ্রামের মানুষকে। তাদের বলা হয় জেএমবিকে সহায়তা করার জন্য। সর্বহারা সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত একটি মনগড়া তালিকা প্রকাশ করে তালিকা অনুসারে সবাইকে আত্মসমর্পন করতে বলে জেএমবি। আত্মসমর্পন না করলে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দেয় তারা।

এদিনই প্রায় ৫০টি বাড়ি ঘরে তান্ডব চালানো হয়, করা হয় ভাংচুর লুটপাট। এর কয়েক দিন পর আবারও বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে একই এলাকায়। ১৪ এপ্রিল সাইফুল ইসলামকে পীরগাছা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বাংলা ভাইয়ের লোকেরা ধরে নিয়ে যায়। এক দিন পর বিলের মধ্যে মেলে তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ। ভয়ে এর প্রতিবাদ করার সাহস পাননি পরিবারের সদস্যরা।

সে সময় নলডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী স্থাপনায় টর্চার সেল খোলে জেএমবি। সেখানে সাধারণ মানুষদের ধরে নিয়ে যাওয়া হতো, করা হতো নির্যাতন, দাবি করা হতো মুক্তিপণ। যারা মুক্তিপণ দিতে পারত তাদের ছেড়ে দেওয়া হতো, আর যারা দিতে পারত না তাদের ভাগ্য নেমে আসত অমানবিক নির্যাতন।

সে সময়কার নির্যাতনের শিকার যুবক আলাউদ্দিন প্রাণে বেঁচে গেলেও এখনও সেদিনের কথা মনে হলে শরীর হিম হয়ে আসে তার। তিনি বলেন, জেএমবির সদস্যরা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে জেএমবি ক্যাম্পে গাছের সাথে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরে মুক্তিপণ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যাই আমি। এখনও জেএমবি সদস্যদের সে দিনের নির্যাতনের কথা মনে পড়লে ঘুম থেকে আতঁকে উঠি।

প্রত্যক্ষদর্শী রমজান আলী বলেন, সেই সময়ে বাগানঘেরা বিভিন্ন সরকারী স্থাপনায় ক্যাম্প স্থাপন করে বাংলা ভাইয়ের আদালতে বিচারের জন্য তুলে আনা হতো সাধারণ মানুষদের। বেশিরভাগকেই দেওয়া হতো মৃত্যুদণ্ড, গাছের সাথে ঝুঁলিয়ে মারা হতো নির্মমভাবে।

সূত্র জানায়, সে সময় জেএমবির নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এতে আসামী হয় প্রায় ২৭১ জন। তাদের অধিকাংশই জামিনে মুক্ত অথবা পলাতক রয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলার সাবেক উপজেল ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, মামলাগুলো হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে আসামীদের আটক করতে পারছে না পুলিশ। অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলো এখনও সন্মুখিন হচ্ছে বিভিন্ন হুমকির।

নাটোরের এক সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মুক্তার হোসেন বলেন, জেএমবি, সর্বহারার উৎপাত না থাকলেও মাঝে মধ্যেই জীবন নাশের হুমকি আসছে এখনও। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনও পায়নি ক্ষতিপূরণ। এ অঞ্চল আবারও জঙ্গীর উত্থান হতে পারে- জনমনে এমন আতংক দূর করতে প্রশাসনের বিশেষ ভুমিকা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার বাসুদেব বনিক বলেন, জেএমবি মামলার বেশিরভাগ আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেওয়া হয়েছে। অনেকেরই শাস্তি হয়েছে, গ্রেফতারও হয়েছে অনেকে। আর মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া জামিনে থাকা আসামীদের ওপর পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএইচ/এফই

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা