artk
শনিবার, আগষ্ট ১৫, ২০১৫ ৯:১৭

জাতীয় শোক দিবস আজ

media

ঢাকা: আজ থেকে ৪০ বছর আগের এই দিনে, আগস্টের এই ১৫ তারিখে অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস। শুরু হয়েছিল এক রক্তাক্ত, কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল বাঙালির ইতিহাসের মহানায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

কিন্তু মৃত্যুও যেন বঙ্গবন্ধুর মতো অসাধারণ, অসামান্য ব্যক্তিত্বের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে। ঘাতকরা বোঝেনি শেখ মুজিব এক অমর ইতিহাসের নাম। তিনিই বাংলাদেশের প্রতীক। বাঙালির হৃদয়ে তিনি আজীবন বেঁচে আছেন, থাকবেন। আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদত বার্ষিকীতে তার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

এবার আমরা শোকাহত চিত্তে পালন করছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা স্থপতি এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি চলছে। আসলে তার প্রাসঙ্গিকতা কেবল একটি মাস বা কিছু কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু এটা জানা কথা।

কিন্তু যখনই 'বঙ্গবন্ধু' শব্দটি উচ্চারণ করি, তখন আমার মানসপটে যে ছবিটি ভেসে ওঠে, তা নিছক একজন ব্যক্তি নয়; শুধু একটি রাষ্ট্রের স্থপতি নয়; কেবল একটি জাতির স্বাধীনতার জন্য অসামান্য ত্যাগ স্বীকারকারী রাজনীতিক নয়; আমি দেখতে পাই একজন সাধারণ মানুষের নেতাকে। একজন মহান নেতা, যার কাছে সব সময়ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে ‘দুঃখী’ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।’ তিনি সারাজীবন এই 'দুঃখী মানুষের' কল্যাণেই, তাদের মুক্তির জন্যই নিরলস ও প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছেন। তিনি সময়ের প্রয়োজনে পাকিস্তান আন্দোলন করেছেন সাধারণ মানুষের অধিকার সংরক্ষণের জন্যই।

তিনি বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলে পরিচিত যে ৬ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন, সেখানেও রয়েছে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা। সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষণা দেয়ার সময়ও শুধু স্বাধীনতার কথা বলছেন না, বলছেন মানুষের 'মুক্তির' কথাও। সেটা বরং প্রথমে বললেন; তারপর বললেন স্বাধীনতার কথা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

অস্বীকার করা যাবে না যে, বঙ্গবন্ধুর সমকালীন অন্যান্য রাজনীতিক নেতাও, যেমন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আবদুুল হামিদ খান ভাসানী, তারাও সাধারণ মানুষের মুক্তি ও কল্যাণ চেয়েছেন।

কিন্তু অন্যদের তুলনায় বঙ্গবন্ধুর স্বাতন্ত্র্য হচ্ছে, তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কথা বুঝতে পেরেছেন। তাদের ভাষায় তাদের একজন হয়ে কথা বলতে পেরেছেন। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে, সাধারণ মানুষের কাছে তার পর্বতপ্রতিম গ্রহণযোগ্যতা। সাধারণ মানুষ তার ওপর আস্থা স্থাপন করেছে যে, তিনিই পারবেন তাদের মুক্তি দিতে।

আমরা দেখি, তার ৬ দফার মধ্যে রয়েছে বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, এমনকি প্রতিরক্ষা কবচ। যখন ৬ দফা দিলেন, সাধারণ মানুষের মনে হলো, এগুলো তাদেরও চাওয়া-পাওয়া। তাদের মনের কথাই গুছিয়ে ৬ দফা আকারে হাজির করেছেন বঙ্গবন্ধু।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার যখন তার ওই গণতান্ত্রিক দাবিকে বুলেটের ভাষায় উত্তর দেয়ার কথা বলেছে, সাধারণ মানুষের কাছে আরও পরিষ্কার হয়েছে যে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আমাদের শত্রু ছাড়া বন্ধু নয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর ওপর যত খড়্গহস্ত হয়েছে, তিনি তত শক্তিশালী ও বাঙালির একচ্ছত্র নেতা হয়ে উঠেছেন। প্রায় শতভাগ বাঙালি তাকে তখনই নিজেদের নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নেতৃত্বাধীন আরও রাজনৈতিক দল থাকলেও ৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগই হয়ে ওঠে বাঙালি জাতির প্রতিনিধি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। পাকিস্তানি সামরিক সরকার যখন তাকে বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করে প্রথম সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে, তখন আমরা দেখি বঙ্গবন্ধু কীভাবে গোটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। আমরা দেখি, তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি বটে। মার্চের প্রথম থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত দেশ চলেছে তার কথায়। কেবল সাধারণ মানুষ নয়; তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্রও কেন্দ্রীয় সরকারের বদলে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।

তিনি বলেছেন, বাঙালিরা অফিসে যাবে না, কেউ যায়নি। বলেছেন, বেতার ও টেলিভিশন খোলা থাকবে, বাঙালির খবর প্রচার না করলে সবাই বেরিয়ে আসবে। তাই ঘটেছে। যে কারণে ৭ মার্চের ভাষণ একদিন পরে হলেও বেতারে প্রচার করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্চের অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন বাঙালি জাতির প্রতীক। তার কথাই ছিল সবার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালনীয় আইন। তার অঙ্গুলি হেলনে চলেছে বাংলাদেশ।

১৯৭৪ সালেই বঙ্গবন্ধু ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স এবং নৌযান খাত জাতীয়করণ হয়। আবার কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে যেখানে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী নিয়োজিত ছিল সেগুলো কিন্তু ব্যক্তিমালিকানা খাতেই থাকে। তার অর্থনৈতিক নীতিমালায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন।

শিক্ষাক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়। তিনিই প্রথম প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেছিলেন। বুঝেছিলেন যে ভিত্তি যদি শক্ত না হয়, কাঠামো শক্ত হবে না। তিনি সংবিধানেই উল্লেখ করেছিলেন, মৌলিক শিক্ষা এ দেশের একধারায় প্রদান করা হবে এবং মৌলিক শিক্ষা প্রদান হবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ব্যক্তিমালিকানা খাতে অন্য ধরনের শিক্ষার ধারা প্রবর্তনেও তিনি কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন হচ্ছে, তার মতো করে ‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর’ সংগ্রাম ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে চালিয়ে যাওয়া। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখতেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। বঙ্গবন্ধু শিশুদের খুব ভালো বাসতেন, আমরা দেখি, শিশুরা এখন নানা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা 'সম্মিলিত নাগরিক সমাজ' অবস্থান নিয়েছি? গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, আইনের শাসন ছিল বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিজীবনের মূলমন্ত্র।

বাংলার এক হাজার বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান একমাত্র নেতা, যিনি রক্তে, বর্ণে, ভাষায়, সংস্কৃতিতে ও জন্মসূত্রে পুরোদস্তুর বাঙালি। কন্ঠ তার বজ্র নির্ঘোষ। তার মন্ত্রমুগ্ধ ক্যারিশমায় জনগণ মোহবিষ্ট হয়ে এক সাগর রক্ত দিয়ে অর্জন করেছে স্বাধীন বাংলাদেশ।

তিনি তেজদীপ্তি অসীম সাহস ও দেশপ্রেমের অন্তর্গত প্রবল অনুভুতি দিয়ে ধারাক্রমে যখন একটি রাষ্ট্রের স্রষ্টা হয়ে ওঠেন, তখনই বিশ্বাসঘাতকরা তাকে সপরিবারে হত্যা করে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অসাধ্য সাধনের রাজনৈতিক ব্রতে নিয়োজিত এক কন্টকাকীর্ণ পথে বেড়ে উঠা বিস্তৃত জীবনের ওখানেই রাশ টেনে ধরা হয়।

খুনী মোশতাক ও জিয়া চক্র হত্যা করে স্বাধীনতার মূল্যবোধকে। বিকৃত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চার সাংবিধানিক মূলনীতি। রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয় স্বাধীনতার বিরোধীদের। রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করা হয় তাদের। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে কুটনৈতিক মিশনে চাকুরী দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

স্বাধীনতার মহান নায়কের বেঁচে যাওয়া দুই সন্তান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে আসতে না দিলেও স্বাধীনতার শত্রু মূল ঘাতক গোলাম আযমকে দেশে ফিরে আনা হয়। এমন কি তিনি আরেক নরঘাতক শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের যে স্বাধীনতা তাকে এভাবেই পর্যদস্ত করা হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের ফাঁসি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হচ্ছে। তবু অবুঝ আবেগে কেঁদে ওঠে বাঙালির হৃদয়- ‘যদি রাত পোহালেই শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই...’

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফই

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল হুয়াওয়ে ‘ভারত বুঝুক, হারের পর সামনে এসে উল্লাস করলে কেমন লাগে’ মৎস্য কর্মকর্তা লাঞ্ছিত, উপজেলা চেয়ারম্যান বরখাস্ত নারায়ণগঞ্জে শিশুসহ একই পরিবারের দগ্ধ ৮ নায়ক মান্না চলে যাওয়ার ১ যুগ করোনায় মৃত্যুর মিছিলে আরও ১০০ জন বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ২ মেডিক্যাল শিক্ষার্থী নিহত ইঁদুরেই খেয়েছে ১ লাখ মেট্রিক টন ফসল করোনাভাইরাস আতঙ্কে সিঙ্গাপুরফেরত স্বামীকে রেখে পালালেন স্ত্রী ঘুষের অভিযোগ থেকে সিনহাকে অব্যাহতি কোভিড ১৯: এবার তাইওয়ানে প্রথম মৃত্যু ভোটাররা দেরিতে ঘুম থেকে উঠায় ভোট হবে ৯টায়: ইসি সচিব এই সেলফি তোলার পরেই ট্রেনের ধাক্কায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু করোনাভাইরাস: প্রযুক্তিই চীনের শেষ ভরসা সঞ্চয়পত্রে নয়, সুদ কমেছে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের: অর্থ মন্ত্রণালয় বিশ্বকাপজয়ী ৬ ক্রিকেটার নিয়ে বিসিবি একাদশ ঘোষণা সিরাজগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩ চট্টগ্রাম, বগুড়া ও যশোর সিটিতে ভোট ২৯ মার্চ করোনাভাইরাস শনাক্তে বাংলাদেশকে উন্নত কিটস দেবে চীন একত্রে কাজ করবে ডিএসই ও সিএসই বিশ্রামে রিয়াদ, ফিরলেন তাসকিন-মোস্তাফিজ করের বকেয়া অর্থ না দেয়াও দুর্নীতি: দুদক চেয়ারম্যান দক্ষদের নিয়োগ দিচ্ছে টেসলা, ডিগ্রি না হলেও চলবে খালেদা জিয়ার প্যারোল আবেদন সরকার পায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিকেন পক্স হলে কী খাবেন বাংলা তারিখ ব্যবহারে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট কারিগরি শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডিএসইএক্সের সেরা দ্বিতীয় উত্থান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন কেজরিওয়াল ফিটনেস ও নিবন্ধনহীন গাড়ি বন্ধে সব জেলায় টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ