artk

সুজন মজুমদার, রামপাল (বাগেরহাট) থেকে

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০২০ ৯:২২

রামপালে ‘জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের’ ঘরগুলোতে ৩ মাসেই ফাটল

media

রমেশ মণ্ডল (৪৫) বাস করেন উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের ছোট সন্যাসী গ্রামে। তার পেটের নাড়িতে প্যাচ লাগায় খুমেক হাসপাতাল থেকে মেজর অপারেশন করা হয়েছে। চিসিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পেটের ভেতর থেকে মলত্যাগ করতে বিকল্পভাবে নল সংযোজন করে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিনযাপন করছেন। তার ছোট্ট এক খণ্ড জমি আছে। কিশোর বয়সের একটি মাত্র ছেলে। সংসারের ঘানি টানছেন।

স্ত্রী শুকলা মণ্ডল। স্বামী সন্তানকে বাঁচাতে মোংলা ইপিজেডে এ শ্রমিকের কাজ নিয়েছেন। ‘জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের’ আওতায় তাকে দুর্যোগ সহনশীল একটি সেমিপাকা ঘর দেয়া হয়েছে। ওই ঘর নিতে তাকে পরিবহণ বাবদ গুনতে হয়েছে ৩৫ হাজার ৫শ টাকা। এছাড়াও মিস্ত্রী ও শ্রমিকদের খাবার বাবদ গুনতে হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। 

তিনি আরো জানান, তাকে দেয়া ঘরে লাগানো হয়েছে নিম্নমানের কাঠ। ইট ও বালি বাবদ গুনতে হয়েছে ১৫শ টাকা। একইভাবে উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামের অসুস্থ আজাহার আলী শেখকে একটি ঘর করে দেয়া হয়েছে। ওই ঘরেও তাকে পরিবহন বাবদ গুনতে হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। মাত্র ৩ মাস পরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের পিলারসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মেঝে ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঘরে লাগানো নিম্নমানের কাঠ কোথাও কোথাও বেকে গেছে। 

আজাহারের স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, এই ঘর করতে তার পরিবহন বাবদ খরছ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তিনি দুঃখ করে বলেন, “আমাগো সরকারিভাবে যে ঘর দিয়া ওইচে তাতে থাকতি ভয় নাগদিছে। শুনিলাম আমার খরজের টাহা ফেরত পাবানি কিন্তু তা এ্যাহোনো পয্যন্ত পাইনেই।”

উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের ছায়রাবাদ গ্রামের আকরাম শেখের স্ত্রী আফরোজা বেগমের বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, “এই ঘর কত্তি আমার নাগিচে ৪০ হাজার টাহা। কিছু কাঠ ও আমার দিয়া নাগিচে। পাইখানাডা এ্যাহোনো ঠিক করে দিনেই।”

পার্শ্ববর্তী বর্ণি গ্রামের ফিরোজ শেখের বিধবা স্ত্রী শিরিনা বেগম জানান, তাকেও পরিবহন খরচ দিতে হয়েছে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। 

তার ছেলে পিয়ার আলী জানান, এখন পর্যন্ত ঘরের কিছু কাজ করতে বাকি রয়েছে। 

এভাবে হুড়কা ইউনিয়নের ছিদামখালী গ্রামের অজয় মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার ঘরের ও বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। ঘরের মালামাল পরিবহন, মিস্ত্রী ও শ্রমিকদের খাওয়া বাবদ খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। 

তিনি আরও জানান, ওই সময় শ্রমিকদের চা খাওয়ার জন্য চিনি ক্রয় করা হয়েছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ কেজি এবং দেড় কেজি চা পাতি। 

জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের আওতায় ২২টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পালের আশ্বাসের পরও কোনো সুফল মেলেনি। গ্রামীণ অবকাঠামো (টিআর) রক্ষণাবেক্ষণের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের হতদরিদ্রোদের মাঝে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে এ ঘর বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে গৃহহীনদের অনেকেই এই ঘর পায়নি। যারা পেয়েছে তাদের গুনতে হয়েছে মোটা অংকের টাকা। ঘর নির্মাণের অনিয়মের মধ্যে রয়েছে, ঘরের চালে, দরজা, জানালায় ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। পরিবহন ব্যয়ও উপকারভোগীদের বহন করতে হয়েছে। মেঝেতে বালির পরিবর্তে দেয়া হয়েছে মাটি। উপকারভোগীদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করে তাদের পারিশ্রমিক দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। উল্টো মিস্ত্রীদের দুবেলা আহার জোগাতে হয়েছে অসহায় এই পরিবারগুলোকে। 

অভিযোগ রয়েছে, গৃহহীনদের বঞ্চিত করে অনেক স্বচ্ছল পরিবারকেও দেয়া হয়েছে এই ঘর। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা পিআইসি কমিটি প্রকৃত উপকারভোগীদের যাচাই বাছাই করে প্রেরণের কথা থাকলেও সেটি অনুসরণ করা হয়নি। জেলা প্রশাসনের মনিটরিং দুর্বল থাকায় ও উপজেলা প্রশাসনের পিআইসি কমিটির উদাসীনতায় ঘর নির্মাণে এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

গত ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ৭ম পৃষ্টায় “রামপালে জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ” শিরনামে অনুসন্ধানী একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল বলেছিলেন, ঘর নির্মাণে যে সব অসঙ্গতি ও অনিয়মের খবর তার কাছে এসেছে, সেগুলো তিনি কঠোরভাবে সমাধান করে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। মাত্র ৩ মাসেই এসব ঘরে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়ায় প্রশাসনের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

উল্লেখ্য, উপজেলার ২২টি ঘরের অনুকূলে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা করে মোট ৫৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮২ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে রামপাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাহিদুজ্জামানের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “মাত্র ৩ মাসে ঘরে ফাটল ধরার কথা না। আমাকে কিছু ছবি দেন আমি দেখি। বাচাই বাছাই করে অনিয়মের বিষয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল বলেন, “যে সমস্থ ঘরে ফাটল ধরেছে, তারা আমার নিকট অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কেউ পরিবহন খরচ হিসাবে টাকা নিয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. মামুন উর রশিদের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “অনিয়মের বিষয়গুলি আমার জানা নাই। নির্দিষ্ট তথ্য পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ধর্ষক: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যাওয়া না হলে টাকা ফেরত: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দাঙ্গা নয়, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে: মমতা ভারতের সম্মান তলিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার: মমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সুনামগঞ্জে এনামুল-রুপন ছয় দিনের রিমান্ডে পিরোজপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা চলতি বছরই তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা: শ্রিংলা ঢাকা উত্তরের নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা খুলনায় ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার জন্মদিন সোমবার আদালতে টাউট-বাটপার শনাক্তের নির্দেশ পাওয়ার ট্রলিকে ধাক্কা দিয়ে বিকল রেলইঞ্জিন কলকাতা সফরে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে অমিত শাহ রোবট চালাবে গাড়ি! ভিপি নূরকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর দুঃখ প্রকাশ টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত রাখাইনপ্রদেশে সেনাদের গুলিতে শিশুসহ ৫ রোহিঙ্গা নিহত ইস্কাটনে ভবনে আগুন: মায়ের পর চলে গেলেন রুশদির বাবাও চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২ দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যায় ১৩০ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আতঙ্কে আয়ারল্যান্ডের স্কুল বন্ধ ঘোষণা বিশিষ্ট সুরকার সেলিম আশরাফ আর নেই মোদীকে অতিথি হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধুর যত জাদুকরী গুণ চিপসের প্যাকেটের ভিতর খেলনা নয়: হাইকোর্ট আমার গাড়িতেও অস্ত্র আছে কী না আমি জানি না: শামীম ওসমান ফ্র্যান্সেও করোনা, অনিশ্চিত কান চলচ্চিত্র উৎসব উপনির্বাচন: গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ গুজব ও গণপিটুনি রোধে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা