artk

আহমদ সিফাত

শনিবার, নভেম্বার ৩০, ২০১৯ ৮:০১

হেলমেট: নিরাপত্তার বিবর্তন

media

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিত্যদিনের বিষয়। প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছেন কেউ না কেউ। কেউ হচ্ছেন মৃত্যু পথযাত্রী আবার কেউ বা হচ্ছেন পঙ্গু। ২০১৬ সালের জুলাই মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৪৮৯টি। নিহতের সংখ্যা ১৪২২ এবং আহতের সংখ্যা ১২৮৯। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মোটর সাইকেল চালক বা আরোহী।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিত্যদিনের বিষয়। প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছেন কেউ না কেউ। কেউ হচ্ছেন মৃত্যু পথযাত্রী আবার কেউ বা হচ্ছেন পঙ্গু। ২০১৬ সালের জুলাই মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৪৮৯টি। নিহতের সংখ্যা ১৪২২ এবং আহতের সংখ্যা ১২৮৯। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মোটর সাইকেল চালক বা আরোহী।

বিভিন্ন জরিপ থেকে জানা যায়, মোটর সাইকেলের প্রধান ব্যবহারকারী হচ্ছেন সমাজের মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। অফিস-বাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, ছোটখাটো কিছু ট্যুরে যাওয়াতেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ। বেশিরভাগ যুবকের কাছে এটি অনেক প্রিয় ও আরাধনার বস্তু। কিন্তু মাঝে মাঝে এই স্বপ্নের যানটিই হয়ে যায় মরণ যান। অনেক পিতা-মাতাই তার সন্তানকে মোটর সাইকেল কিনে দিতে চান না শুধুমাত্র দুর্ঘটনার কথা চিন্তা করে। 

জানা যায়, একটি দুর্ঘটনায় যত ক্ষয়ক্ষতি হয় তার পিছনে দায়ী থাকে চালকের অসাবধানতা, বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, ওভারটেক করার অপচেষ্টা, অযথা পাল্লা দেয়া, বেআইনি ইউ টার্ন নেয়া, চলন্ত অবস্থায় ফোনে কথা বলা ইত্যাদি।

বেশকিছু দিন আগেও অধিকাংশ মোটর সাইকেল চালক হেলমেট ব্যবহারে উদাসীন থাকতেন। জানতে চাইলে, হেলমেট ব্যবহারে নানা অসুবিধার কথা বলতেন তারা। কিন্তু দিন বদলাচ্ছে, সেই সাথে বদলাচ্ছে মানুষের মানসিকতা। বাইকারদের মধ্যে বাড়ছে হেলমেট ব্যবহার করার প্রবণতা। 

এ নিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন মোটর সাইকেল চালক, পুলিশ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর সাথে। এদের অধিকাংশের মতামত নিরাপত্তা সংক্রান্ত। তবে কেউ কেউ পুলিশের ভয়ও কথাও বলেছেন। 

তারা বলছেন, সড়ক আইন ২০১৮ পাস হবার পর এই ভয় আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। নতুন আইনে হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল চালনায় দশ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ৩ মাসের কারাদণ্ডের কথা বলা আছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাইকার কমিউনিটি ‘বাইক বিডি’ এর টেস্ট রাইডার ওয়াসিফ আনোয়ার এ সম্পর্কে নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ঢাকা শহরের বাইকারদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহারের প্রবণতা অনেক বেড়েছে। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা সচেতন হচ্ছেন। তবে এর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন হয়তো পুলিশের ভয়ে হেলমেট ব্যবহার করেন। একজন স্মার্ট বাইকারের স্মার্টনেস তার সচেতনতায়। নিজের নিরাপত্তার চেয়ে বড় সচেতনতা আর কি হতে পারে! তবে গ্রামাঞ্চলগুলোতে এখনো হেলমেট না পরার প্রবণতা খুব বেশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এক্ষেত্রে কিছুটা নিষ্ক্রিয়। এসব এলাকায় অসচেতন রাইডারের সংখ্যা যেমন বেশি তেমনি দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেশি। তবে হেলমেট শুধু নিরাপত্তাই দেয় না বরং এটি এখন ফ্যাশনেরও একটা অংশ।”

ওরিয়ন ইনফাস্ট্রাকচার লিমিটেডের একাউন্টস অফিসার মো. মিজান বলেন, “আমি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে মোটর সাইকেল চালাই। আমার কাছে নিরাপত্তা বড় বিষয়। আমার উপর আমার পরিবার নির্ভরশীল, যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন পরিবারকে নিয়ে সুস্থ ভাবে বাঁচতে চাই। হয়তো হেলমেট না থাকলে পুলিশ জরিমানা করবে, টাকা যাবে। কিন্তু জীবন গেলে তো আর ফিরবে না। তাই সেফটি ফার্স্ট।” 

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র আবিদুর রহমান সৌরভ। পড়ালেখার পাশাপাশি রেসিং এর প্রতি তার আগ্রহ প্রবল। তাকে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, “সেফটির ব্যাপারে নো কম্প্রোমাইজ। বাইক চালানো আমার নেশা। আমি স্ট্যান্ট করি, মাঝে মাঝে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হই, রেস দেই। কিন্তু সবই করা হয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই। আর হেলমেট সবসময়ই ব্যবহার করা হয়। ঢাকার রাস্তায় যে পরিমাণ ধুলাবালি আর বাস চালকদের দৌরাত্ন তাতে হেলমেট ব্যবহার না করাটা বোকামি। কখন কি ঘটে যায়, বিপদ তো আর বলে আসে না।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এখন বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ঠ সচেতন। এ নিয়ে কথা হয় সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-লালবাগ জোন) মনতোষ বিশ্বাসের সাথে। তিনি বলেন, “এটা সত্য যে জনগণ এখন আগের থেকে অনেক সচেতন। সেই সাথে আমাদের প্রচারণার যে প্রচেষ্টা সেটা কিন্তু অব্যাহত আছে। সারাদেশে এখন প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ট্রাফিক পয়েন্টে ট্রাফিক আইন সম্পর্কিত সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতি পয়েন্ট থেকে যদি মাত্র ২০ জন করে রাইডারও সচেতন হন তাহলে সারাদেশে গড়ে ২০হাজার জনের মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে। তাছাড়া সড়ক আইন ২০১৮ পাস করার পর তাতে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এটাও একটা বড় বিষয় হেলমেট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ানোর জন্য।”

যাত্রা পথে কথা হয় চাঁদপুর সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর রেজাউল করিমের সাথে। দুর্ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন “আমি নিজেও একজন মোটর সাইকেলপ্রেমী। রাস্তায় যত হতাহতের ঘটনা আমরা দেখি তার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় একটা দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাথমিক আঘাত হয় মাথায়। কিন্তু যদি হেলমেট থাকে তাতে এই আঘাতের পরিমাণ অনেকাংশেই কমে যায়। এতে করে একটি প্রাণ বেঁচে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।”

মফঃস্বল শহরগুলোতেও এখন বাইকাররা যথেষ্ঠ সচেতন। এ বিষয়ে কথা হয় চাঁদপুর জেলার ‘চাঁদ অটো’ এর কর্ণধার আসিফ আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, “আমি মোটর সাইকেল ব্যবসার সাথে জড়িত ২০০৮ সাল থেকে। আগে শুধু বাইক আর পার্টস বিক্রি করতাম কিন্তু এখন সাথে হেলমেটও রাখা লাগে। একটি নতুন মোটর সাইকেল কেনার সময়ই কাস্টমার হেলমেট কিনে নেয়। যুবক ছেলেরা ফ্যাশনেবল টেকসই পণ্য খুঁজে, তাদের চাহিদা মোতাবেক পণ্যই আনি। তবে কেউ কেউ পুলিশের জরিমানা থেকে বাঁচার জন্য কম দামি নিম্ন মানের হেলমেটও খুঁজে। তাই সেগুলোও রাখা লাগে।”

এরই সাথে দেখা যায় পেট্রোল পাম্পগুলোও প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। সারাদেশেই প্রায় সব কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে ঝুলতে দেখা যায় সচেতনতামূলক প্রচারণার ব্যানার। যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যানার হচ্ছে ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় রাজধানীর নিয়মিত রাইড শেয়ারিং করেন এমন কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে। তাদের মন্তব্য- জনসচেতনতা তৈরি করার মাধ্যমে হোক আর জোর করেই হোক, বাইকারদের হেলমেট পরতে বাধ্য করার জন্য প্রশাসন অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে বাইকারদের উচিত নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করা এবং একই সাথে আরোহীর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা। চলন্ত অবস্থায় ফোনে কথা বলা যে কোন মূল্যে বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আরো কঠোর হবার তাগিদও দেন তারা। 

তারা বলেন, ইদানিং মোটর সাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার করার প্রবণতা বেড়েছে। এতে ধারণা করা যায় যে মোটর সাইকেল চালকদের মানসিকতারও ক্রমশ পরিবর্তন ঘটছে। এটিকে অবশ্যই আমরা মানসিক প্রবণতার বিবর্তন বলে মনে করি। আমরা কেউই চাই না অকালে আর কোন সতেজ প্রাণ ঝরে পড়ুক, আর কোন মায়ের কোল খালি হোক। 

‘যার যা ইচ্ছা বলুক’ তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮ চীনে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ৪১ জনে পৌঁছেছে জার্মানিতে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬ জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত করেছিলেন: মোজাম্মেল লক্ষ্মীপুরে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে পবিপ্রবির ১৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা ‘নির্বাচনী বার্তা কী দেবে, কথাই তো বলতে পারছেন না’ ‘ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাইয়ের চেষ্টার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে ৫ উইকেটে হার দিয়ে সফর শুরু বাংলাদেশের এবার সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেসে আগুন চুয়াডাঙ্গায় র‌্যাব পরিচয়ে গণডাকাতি নারায়ণগঞ্জ বন্দরে জাহাজ চাপা পড়ে নিহত ২ নির্বাচনে বিএনপির জয় বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে আ’লীগ: ফখরুল স্মার্টফোন আসক্তি দূর করতে গুগলের তিন অ্যাপ করোনাভাইরাস: সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক কতটা কার্যকর পাকিস্তানকে ১৪২ রানের লক্ষ্য দিল টাইগাররা ভারতের সাথে হেরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু নিউজিল্যান্ডের চলতি অর্থবছরের সব সূচকেই প্রবৃদ্ধির উর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে: অর্থমন্ত্রী বিএনপি একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক দল: কাদের খালেদা জিয়াকে দেখতে বিএসএমএমইউতে স্বজনরা পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করছে টাইগাররা ৯১ বছর বয়সে এসে যাজক বললেন তিনি সমকামী চট্টগ্রামে একটি বস্তিতে আগুন কোকো-আনিসুলের কবর জিয়ারত করে প্রচারণায় তাবিথ-ইশরাক বাহুবলে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩ শিশুদের জন্য উৎসব নামের মিল থাকায় বিনাদোষে কারাবাস!