artk

শেখ ইমতিয়াজ আকাশ

শুক্রবার, অক্টোবার ১৮, ২০১৯ ৫:৫৭

‘আমি মায়ের কাছে যাবো’

media

ভাই শেখ রাসেলকে নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার এখনো মনে আছে; যখন আমরা আব্বার সাথে দেখা করতে জেলগেটে যেতাম, আমরা আব্বাকে, ‘আব্বা’ বলে ডাকতাম। রাসেল তখন আব্বাকে একবার ‘আব্বা’ বলে ডাকতো, আরেকবার মাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকতো। কারণ, তার অবুঝ মন, মনের ব্যথা সে বলতে পারতো না কিন্তু বুঝতে পারতো যে, সে পিতৃস্নেহ বঞ্চিত।”

১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ। ৬ দফার পর থেকেই শেখ মুজিব কারাবন্দি। শিশুটি তখন একবারেই ছোট। বছর দু’য়েক হবে। পাঠক, বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই আমি কার কথা বলছি? হ্যাঁ বলছি, শেখ রাসেলের কথা। আমাদের শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ট পুত্র শেখ রাসেলের কথা। জাতির পিতা যখন কারাগারে। মায়ের কোলে চড়ে জেলগেটে গিয়ে ছোট্ট শিশুটি দেখা করে তার বাবার সাথে। কারাবন্দি পিতা তখন ছোট্ট রাসেলকে বলতেন, ‘এটা (জেলখানা) আমার আরেকটি বাসা।’  

ভাই শেখ রাসেলকে নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার এখনো মনে আছে; যখন আমরা আব্বার সাথে দেখা করতে জেলগেটে যেতাম, আমরা আব্বাকে, ‘আব্বা’ বলে ডাকতাম। রাসেল তখন আব্বাকে একবার ‘আব্বা’ বলে ডাকতো, আরেকবার মাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকতো। কারণ, তার অবুঝ মন, মনের ব্যথা সে বলতে পারতো না কিন্তু বুঝতে পারতো যে, সে পিতৃস্নেহ বঞ্চিত।”

এদিকে, ১৯৬৯ এর ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৬৯ এর গণআন্দোলনে আইয়ূব খানের পতনে মিলিটারি ডিকটেটর ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় এসে নির্বাচন দেন। কিন্তু বাঙ্গালিরা শাসনভার পাবে, এটা তিনি মেনে নিতে পারেনি। শেখ মুজিব তখন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। আর সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে পাকিস্তানি শাসকদের সাফ জানিয়ে দেন, ‘বাংলার মানুষের নিয়ন্ত্রণ অধিকার শুধু বাঙ্গালির হাতেই থাকবে।’ 

এমতাবস্থায়, ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর তখন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সাথে সাথে আক্রমন শুরু হলো বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে। শেখ রাসেল তখন বিছানায় শুয়ে ছিলেন। একটি গুলি এসে তার পায়ের কাছে পড়ে কিন্তু তার গায়ে লাগেনি। পরে পাকবাহিনী বাড়িতে ঢুকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কিছুদিন পর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, দেশরত্ন শেখ হাসিনা, বঙ্গকন্যা শেখ রেহানা, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেলকেও গ্রেপ্তার করে ১৮ নম্বর রোডের একতলা একটি বাড়িতে নিয়ে রাখে। শেখ কামাল তখন মুক্তিযুদ্ধে। ওই বাড়িতে দুটো কামড়ার মধ্য বন্দি ছিলেন জাতির পিতার পরিবার। ছোট্ট রাসেল কিছুই বুঝতো না। তার খেলার সাথি নেই; খেলনাগুলোও নেই। কিন্তু তাকেও বন্দি অবস্থায় থাকতে হয়েছে দিনের পর দিন। 

এরপর, দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ করে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরিবার তখনো মুক্তি পায়নি। তারা মুক্তি পান ১৭ ডিসেম্বর।

দেশ স্বাধীনের পর শেখ রাসেলকে রাজধানীর ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। সেই স্কুলের তৎকালীন ক্রীড়াশিক্ষক ওমর হায়াৎ ও ভৌমিক বাবুর ভাষ্যে ফুটে ওঠে, কী দারুণ নেতৃত্ব দেবার গুণাবলী ছিলো ছোট্ট রাসেলের। তখন স্কুলে গানের আপা ছিলেন জাহানার ইসলাম। তার ভাষ্য মতে, খেলাধূলায় বেশি মনোযোগ ছিলো তার। সে জন্য গানের দিকে বেশি আগ্রহ ছিলো না। কিন্তু আস্তে আস্তে রাসেল গানের প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠে। যখন দেশাত্ববোধক গান হতো সেগুলো চিৎকার করে গাইতো শেখ রাসেল। তবে তখন যদি ছোট্ট রাসেলকে জিজ্ঞেস করা হতো, ‘বড় হয়ে তুমি কী হবে?’ তার উত্তর ছিল, ‘আমি আর্মি অফিসার হবো’। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে সেই স্বপ্নের অকাল মৃত্যু হলো। 

৭৫ এর ১৫ আগস্ট রাতে খুনিরা একে একে জাতির পিতাসহ পরিবারের সবাইকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করার পর সব শেষে হত্যা করে শিশু রাসেলকে। সেই রাতে খুনিরা যখন হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল, শিশু রাসেল তখন ‘মায়ের কাছে যাবো, মায়ের কাছে যাবো’ বলে কাঁদছিলো। খুনিরা তখন বাবা ও ভাইদের লাশ অতিক্রম করে তাকে নিয়ে যায় মায়ের লাশের কাছে। মায়ের লাশের পাশে রাসেলকে দাঁড় করিয়ে মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে গুলি করেছিল মানুষরূপি পশুগুলো। আর রক্তাক্ত রাসেল লুটিয়ে পড়েছিল মায়ের লাশের ওপর। আজও ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরের বাড়িতে ঢুকলে বাতাসে ভেসে বেড়ায় শেখ রাসেলের অকৃত্রিম হাসি। দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে রক্তে ভেজা একটি জামা। আর কানে প্রতিধ্বনিত হয় নির্মম রাতের সেই সুর- “আমি মায়ের কাছে যাবো, মায়ের কাছে যাবো।”

ঢাবির ৬৭ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার আমাদের গ্যাস আমরা জনকল্যাণে ব্যবহার করব: প্রধানমন্ত্রী কমলায় বিপ্লব: স্কুল প্রতিষ্ঠা করে পদ্মশ্রী বিজয় সিজিসির সংযোজন ও সংশোধন অনুমোদন ঢাকার ২ সিটি নির্বাচন: শুক্রবার থেকে ঢাকায় যান চলাচল বন্ধ শর্ত না মানায় কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্সকে সতর্ক সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রিজেন্ট টেক্সটাইলের প্রত্যেক পরিচালককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা আমান ফিডের প্রত্যেক পরিচালককে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা কক্সবাজারকে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে ঘোষণা সোলেইমানি হত্যার নীল নকশাকারী ডি আন্দ্রিয়া বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান কার্ডের স্বল্পতার কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট হচ্ছে না: কাদের এসএমএসে জানা যাবে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্র এবি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা মেট্রোরেল উদ্বোধন ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ পলিটেকনিকের দুই শিক্ষার্থীর কৃষিভিত্তিক রোবট পাহাড়তলীতে বাস উল্টে নারীসহ নিহত ২ আহাদুজ্জামান আলীর নক্ষত্র নিভে যায় পদ ছাড়লেন আবদুল্লাহ, কাতারের নতুন প্রধানমন্ত্রী খালিদ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে মিসবাহ’র স্বস্তির নিঃশ্বাস করোনা আতঙ্ক: এবার তামাবিল স্থলবন্দরে মেডিকেল টিম গভীর রাতে নিরাপদে দেশে ফিরেছে ক্রিকেট দল রোমান সানাকে ল্যান্সনায়েক পদে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী ইতালি সফরে যাচ্ছেন ফেব্রুয়ারিতে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেনমোহর হিসেবে স্ত্রীর বই দাবি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ অস্ত্র মামলায় জেএমবি সদস্যের ১০ বছরের কারাদণ্ড ফখরুলের কাছে ভোট ও দোয়া চাইলেন আতিক